ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ১৬ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

৫ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ সেই সাদ্দামের, জেলারের অস্বীকার

বাগেরহাট সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:৩৬, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১৮:৫৫, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬

কারাগার থেকে জামিনে বেরিয়ে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দাম বাগেরহাটের জেলারের বিরুদ্ধে ‘ঘুষ চাওয়ার’ অভিযোগ তুলেছেন। যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বেরিয়ে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বাগেরহাটে পৌঁছান তিনি। স্ত্রী-সন্তানের কবর জিয়রত করে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি ওই অভিযোগ করেন। তবে, অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাগেরহাট কারাগারের জেলার খোন্দকার মো. আল-মামুন।

গ্রেপ্তারের পর গত বছরের ৬ এপ্রিল আদালতের নির্দেশে জুয়েল হাসান সাদ্দামকে বাগেরহাট জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। ২২ জুলাই বাগেরহাট থেকে তাকে ‘প্রশাসনিক কারণে’ যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানন্তর করা হয়।

‘বাগেরহাটের জেলার আমার কাছে ৫ লক্ষ টাকা দাবি করেছে। যদি বাগেরহাট থাকতে হয়, ৫ লক্ষ টাকা দিতে হবে—’ সাদ্দামের এমন বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বুধবার রাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সাদ্দাম ওই অবিযোগ করেন। ওই ভাইরাল ভিডিও নিয়ে নানা আলোচনা হচ্ছে।

নিজেকে ‘নির্দোষ’ এবং ‘রাজনৈতিক বন্দি’ দাবি করে সাদ্দাম বলেছেন, “আমার স্ত্রী অনেক হতাশাগ্রস্ত ছিল। আমাকে তিনটে মাস সেলে রাখা হয়েছে, সেল বন্দি।”

তবে, কারা কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, ওই বন্দি (সাদ্দাম) শুরু থেকে অনেক বেশি আক্রমণাত্মক ছিল। বিভিন্ন জনকে গালাগালি, এমনকি মারধরও করেছে। নিরাপত্তার জন্য তাকে সেলে দেওয়া হয়েছিল। সেখানে চলাচলটা সংরক্ষিত থাকে। সেল কোনো শাস্তির জায়গা না।

তবে, সাদ্দামের অভিযোগ ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ দাবি করে বাগেরহাট কারাগারের জেলার খোন্দকার মো. আল-মামুন বলেন, “আচরণের কারণেই তাকে যশোরে পাঠানো হয়। এখানে অন্য কোনো ঘটনা নেই। জেলার চাইলেই কাউকে অন্য জেলে স্থানন্তর করতে পারে না। এ ধরনের ভিত্তিহীন কথার প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

বাগেরহাট কারাগারের নথি অনুযায়ী, বন্দি অবস্থায় গত বছরের ১২ মার্চ সেল ইনচার্জকে (বাদশা মিয়া) হুমকি এবং গালি দেন সাদ্দাম। ৬ জুলাই আরেক বন্দিকে মারধর করেন তিনি।

জেলার মো. আল-মামুন বলেন, “কারারক্ষীদের হুমকি, অন্য বন্দিকে মারধরসহ একাধিক অপরাধের কারণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। বাগেরহাট কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি সব সময় আমাদের স্টাফদের এবং আশপাশের বন্দিদের সঙ্গে উশৃঙ্খল আচরণ করতেন।” 

বাগেরহাট কারাগারে আসার পরদিন ৭ এপ্রিল সাদ্দামের স্ত্রী, শ্বশুরসহ আত্মীয়রা এসে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তার সাক্ষাৎ চালু ছিল, উল্লেখ করে জেলার বলেন, “একটা হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে তার পারিবারে। এটাকে কেন্দ্র করে তিনি এখন বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার এবং ৫ লাখ টাকার একটি অযৌক্তিক, অহেতুক, হয়রানিমূলক ভিত্তিহীন কথা বলে বেড়াচ্ছেন। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। এমন ঘটে থাকলে তিনি যখন যশোর গেছেন, তখনই তিনি বলতে পারতেন।”

কারাগারে বন্দিদের সাথে সাক্ষাতের সময় ১৫ দিনের স্থানে ৭ দিন এবং ফোনে কথা বলার সুযোগ নিশ্চিতের দাবি করে জুয়েল হাসান সাদ্দাম বলেছেন, ‘চব্বিশের আন্দোলনটা হয়েছে রাষ্ট্র কাঠামো পরিবর্তনের জন্য। তাহলে আজকে রাষ্ট্র কাঠামোটা কোথায়? আমি আমার সন্তানের লাশ ধরতে পারতেছি না। রাষ্ট্র আমাকে অধিকার দেয়, আমি প্যারোলে মুক্তি নিয়ে সন্তান-স্ত্রীর পাশে থাকতে পারব। আজকে লাশের বিনিময়ে কি তাহলে জামিনটা হলো?”

স্ত্রী-সন্তানের কবর জিয়ারতের পর সাবেকডাঙ্গা গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে কিছু সময় অবস্থান করেন সাদ্দাম। 

গত ২৩ জানুয়ারি বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে স্বামীর বাড়ি থেকে সাদ্দামের স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালি (২২) ঝুলন্ত মরদেহ ও তার ৯ মাস বয়সী সন্তান সেজাদ হাসান নাজিফের মরদেহ উদ্ধার হয়। প্রথমে স্বজন ও পরিবারের দাবি ছিল, ছেলেকে পানিতে চুবিয়ে হত্যার পর আত্মহত্যা করেন কানিজ সুবর্ণা।

পরের দিন বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মা ও ছেলের মরদেহ গাড়িতে করে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। প্যারোলে মুক্তি না পাওয়ায় কারাফটকে স্ত্রী-সন্তানের লাশ শেষবারের মতো দেখেন সাদ্দাম।

এ ঘটনার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা হয়। স্ত্রী–সন্তানের মৃত্যুতে সাদ্দামকে কেন প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হলো না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।

ঢাকা/আমিনুল/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়