ঢাকা     রোববার   ১৫ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ১ ১৪৩২ || ২৫ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

জ্বালানি সংকটে বিপাকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চালকরা

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:৫০, ১৫ মার্চ ২০২৬   আপডেট: ১৫:৫২, ১৫ মার্চ ২০২৬
জ্বালানি সংকটে বিপাকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চালকরা

টাঙ্গাইলে জ্বালানি তেলের জন্য সিরিয়ালে দাঁড়ানো গাড়ির সারি।

ওষুধ কোম্পানির কাভার্ডভ্যান চালক রবিউল ইসলাম। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে ওষুধ নিয়ে রংপুরের তারাগঞ্জ যাচ্ছেন। শনিবার বিকেল ৪টায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের রসুলপুর সবুর ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের জন্য গাড়ির লাইনে দাঁড়ান। রবিবার (১৫ মার্চ) দুপুর ২টা পর্যন্ত তিনি জ্বালানি নিতে পারেননি।

রবিউল ইসলাম বলেন, “২২ ঘণ্টা পার হলেও জ্বালানি তেল পাইনি। এতে যেমন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে, অন্যদিকে সময় মতো ওষুধ পৌঁছে দিতে পারছি না। গাড়ির ওষুধ তারাগঞ্জ পৌঁছে রূপগঞ্জ ফিরে তারপর ছুটি নিয়ে বাড়ি যেতে হবে। জ্বালানি তেলের যে সংকট আর যানজট তাতে মনে হয় ঈদ সড়কেই করতে হবে।”

আরো পড়ুন:

শুধু রবিউল ইসলাম নয়, তার মতো হাজারো যানবাহনের চালক বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের জন্য অপেক্ষা করছেন। চাতক পাখির মতো পাম্পের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন তারা।

মহাসড়ক ব্যবহারকারীরা জানান, ইতিমধ্যে ঈদযাত্রা শুরু হয়েছে। গত বুধবার থেকে টাঙ্গাইলের বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশনে ডিজেল ও অকটেনের সংকট দেখা দিয়েছে। পাম্পে ডিজেল আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তা শেষ হয়ে যাচ্ছে। 

পরিবহন চালকরা জানান, টাঙ্গাইলের বেশির ভাগ ফিলিং স্টেশনে ডিজেল ও অকটেনের সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে বিপাকে পড়েছেন ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের চালকরা। কেউ কেউ ১৫ থেকে ২২ ঘণ্টা পাম্পে সিরিয়াল দিয়েও কাঙ্খিত জ্বালানি না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন। চলমান ঈদযাত্রায় জ্বালানি সংকটে চরম ভোগান্তির শঙ্কা রয়েছে।

তেলের জন্য সিরিয়ালে দাঁড়ানো গাড়ি


কালিহাতীর ট্রাক চালক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “শনিবার রাতে চাল ঢাকায় রেখে টাঙ্গাইলে এসে বিভিন্ন পাম্প ঘুরেও তেল পায়নি। মহাসড়কে যানবাহনের চাপ আরো বাড়লে তখন মহাবিপদ হতে পারে।” 

বিপুল পরিবহনের চালক ছানোয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, “আমি জামালপুর থেকে কক্সবাজার টিপ দেই। আজ রবিবার ভোর থেকে পাম্পের সামনে দাঁড়িয়ে থেকেও জ্বালানি তেল পাচ্ছি না। টাঙ্গাইলের কোন কোন পাম্প তাদের স্থানীয় যানবাহন ও প্রভাবশালীদের তেল দিচ্ছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে কঠোর নজরদারি চালানোর আহ্বান জানাচ্ছি।”

টাঙ্গাইল ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. মিজানুর রহমান বলেন, “টাঙ্গাইলে নারায়নগঞ্জ ও বাঘাবাড়ি ডিপো থেকে জ্বালানি আনা হয়। সেখানে থেকে পর্যাপ্ত সরাবরাহ দিতে পারছে না। ফলে আমরাও গ্রাহকদের চাহিদা মিটাতে পারছি না। তেল আনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তা শেষ হয়ে যাচ্ছে।”

সবুর ফিলিং স্টেশনের মালিক সবুর মিয়া জানান, চাহিদা অনুযায়ী তেল মিলছে না। তেলের লরি ডিপোতে গিয়ে ফিরে আসছে। যে কারাণে তারা ভোক্তাদের তেল দিতে পারছেন না।

জেলা বাস মিনিবাস শ্রমিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোমিনুল ইসলাম লাবলু বলেন, “আমরা কাঙ্খিত জ্বালানি পাচ্ছি না। এ অবস্থা চলতে থাকলে পুরোদমে যখন ঈদযাত্রা শুরু হবে, তখন আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হবে। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, “ইতোমধ্যে টাঙ্গাইলে জ্বালানি তেল মজুত ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি অভিযোগে কয়েকজনকে জরিমানা করা হয়েছে। অন্যান্য ফিলিং স্টেশনকে এ বিষয়ে সতর্ক করা হচ্ছে।” অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানান তিনি।

ঢাকা/কাওছার/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়