ঢাকা     মঙ্গলবার   ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ২৭ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

রাঙামাটি-২৯৯: আঞ্চলিক দলের সমর্থনে চোখ প্রার্থীদের

শংকর হোড়, রাঙামাটি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:১৯, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১৩:২৮, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রাঙামাটি-২৯৯: আঞ্চলিক দলের সমর্থনে চোখ প্রার্থীদের

ফাইল ফটো

আয়তনে দেশের সবচেয়ে বড় রাঙামাটি ২৯৯ নম্বর সংসদীয় আসন। সুষ্ঠু, উৎসবমুখর ও নিরাপদ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে প্রশাসন। ইতোমধ্যে উপজেলাগুলোতে নির্বাচনি সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। এবারের নির্বাচনে এই আসনে পাহাড়ের আঞ্চলিক কোনো দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে না। ফলে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারীদের নির্ভর করতে হবে আঞ্চলিক দলগুলোর সমর্থনের ওপর এমনটি মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

রাঙামাটি আসনে সাতজন নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তারা হলেন- বিএনপির অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান, ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের আবু বকর সিদ্দিকী, জাতীয় পার্টির অশোক তালুকদার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জসীম উদ্দিন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির জুঁই চাকমা, গণঅধিকার পরিষদের এমএ বাশার ও স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমা।

আরো পড়ুন:

ভোটাররা জানান, অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান ২০০৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে বিএনপির রাজনীতিতে যোগ দেন। এবারই প্রথম তিনি বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছেন। তার পক্ষে জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা এক হয়ে প্রচার চালিয়েছেন। সংখ্যালঘু ভোট এবং পাহাড়িদের বড় একটি ভোট তার বাক্সে যাবে এমনটি মনে করছেন ভোটাররা। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী জানান, পার্বত্য রাঙামাটির সবচেয়ে শক্তিশালী আঞ্চলিক দল জনসংহতি সমিতির সমর্থন দীপেন দেওয়ানের পক্ষে রয়েছে। 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আরেক আঞ্চলিক দল ইউপিডিএফ সরাসরি স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমাকে সমর্থন দিয়েছে। ফলে নির্বাচনে দীপেন দেওয়ানের সঙ্গে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়া সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে, ১১ দলীয় জোট সমর্থিত খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আবু বকর সিদ্দিকী সরাসরি স্থানীয় বাঙালিদের সঙ্গে রাজনীতিতে জড়িত থাকায় সেখানে তার কিছু ভোট রয়েছে। জোটের ভোট আসলে তার শক্তি বৃদ্ধি পাবে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সহ তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা বলেন, ‍“আমরা সরাসরি ভোটে অংশ গ্রহণ করছি না। তবে, নির্বাচনে যে কোনো একজন প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন থাকতে পারে।” 

ইউপিডিএফ এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রাঙামাটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমাকে ভোট দিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

বিএনপির প্রার্থী দীপেন দেওয়ান বলেন, “কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর সমর্থন নয়; পুরো জেলার মানুষ আমাকে সমর্থন করছে। জয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী।”

স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমা বলেন, শুধু ইউপিডিএফ নয়; পাহাড়ি-বাঙালি সবাই আমাকে আপন করে নিয়েছে। আমার জয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।”

রাঙামাটি জেলার ২১৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২০টি হেলিসর্টি কেন্দ্রকে অতি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই আসনের ১৪৯টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ এবং বাকি ৪৪টি কেন্দ্রকে সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

রাঙামাটি পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব বলেন, “ভোটাররা যাতে নিরাপদে ভোট দিতে পারেন সেজন্য নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তিন হাজারের বেশি সেনাবাহিনীর সদস্য, ৩৭ প্লাটুন বিজিবি, ১ হাজার ৫৯৭ জন পুলিশ ও ২ হাজার ৭৬৯ জন আনসার মাঠে কাজ করতে শুরু করেছেন।”

রাঙামাটি রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, “ভোট সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ১৭০টি কেন্দ্রে সিসি টিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।”

ঢাকা/মাসুদ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়