নারায়ণগঞ্জ-৫: স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ হোসেনের কর্মী-সমর্থকের ওপর হামলা ও তাদের বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত বন্দরের একরামপুর, নূরবাগ ও মুছাপুর ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন স্বতন্ত্র প্রার্থীর ছেলে মাহমুদুল হাসান শুভ।
তিনি বলেন, “আসনটিতে বিজয়ী ধানের শীষের প্রার্থী আবুল কালামের কর্মী-সমর্থকরা এ হামলা চালিয়েছেন। দুপুরে বন্দরের একরামপুর এলাকায় ইস্পাহানি বাজার এলাকায় আমাদের কর্মী শামীমকে কুপিয়ে জখম করা হয়। তার বাড়িঘরেও হামলা হয়েছে। একই এলাকার আনোয়ারকে মারধর করা হয়। সেখানে একটি রিকশার গ্যারেজে ভাঙচুর চালানো হয়। পাশের নুরবাগ এলাকাতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।”
এছাড়া, মুছাপুর ইউনিয়নেরও কয়েকটি জায়গায় তাদের কর্মী-সমর্থকদের মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মাহমুদুল হাসান শুভ।
হামলার বিষয়ে মোবাইলে কথা হলে ভুক্তভোগী শামীম জানান, এ বিষয়ে তিনি কোনো কথা বলতে চান না। তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
তবে, এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আবুল কালামের ছেলে মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশা। তিনি বলেছেন, “এগুলো সব মিথ্যা অভিযোগ। ধানের শীষের কোনো কর্মী-সমর্থক এসব ঘটনায় জড়িত না।”
আবুল কাউসার আরো বলেন, “আমরা সকল ভিন্নমতের প্রতি সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করছি। নিজে কেন্দ্রে কেন্দ্রে ঘুরেছি, কোনো বিশৃঙ্খলা যাতে না হয়। তাছাড়া ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র ওই প্রার্থী আমাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীও ছিলেন না। সুতরাং এসব মিথ্যা অভিযোগ তুলে ইস্যু বানানোর চেষ্টা করছে।”
বন্দর থানার ওসি গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন বলেন, “একরামপুরের ঘটনাটিতে পুলিশ গিয়েছিল। সেখানে বিষয়টিকে পারিবারিক দ্বন্দ্ব হিসেবে পেয়েছি। তারপরও আমার থানাতে অভিযোগ করতে বলেছি। অভিযোগ দিলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মুছাপুর এবং আরো কয়েকটি স্থানে হামলার ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছি। এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের বিষয় পাইনি। তারপরও পুলিশ বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছে।”
এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক রায়হান কবির বলেন, “আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা এখনো দায়িত্বে আছেন। কিন্তু আমি তাদের মাধ্যমে এমন কোনো অভিযোগ পাইনি। এমনটা হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঢাকা/অনিক/রাজীব