ফেসবুক পোস্ট ঘিরে জাবি ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ
জাবি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রদলের নেতা আবদুল গাফফার জিসান দাবি করেছেন, সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্থাপিত একটি অভিযোগসংবলিত পোস্ট শেয়ার করাকে কেন্দ্র করে নোয়াখালীর হাতিয়ায় তার বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের বিচার এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (৫ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ ও দাবি তুলে ধরেন আবদুল গাফফার জিসান।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গণঅধিকার পরিষদ থেকে বিএনপিতে যোগ দেওয়া রাশেদ খাঁন একটি পোস্টে অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীকে দেশত্যাগে সহায়তা করার বিষয়ে আবদুল হান্নান মাসউদের সঙ্গে আর্থিক সমঝোতার আলোচনা হয়েছিল। ওই পোস্টটি তিনি নিজের ফেসবুক আইডিতে শেয়ার করেন।
এরপর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। একপর্যায়ে আবদুল হান্নান মাসউদ নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে গাফফারের সঙ্গে ফোনালাপের একটি অডিও প্রকাশ করেন। পরে রাশেদ খাঁনও গাফফারের একটি ভিডিও প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি অভিযোগগুলোর পক্ষে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে গাফফার দাবি করেন, এসব ঘটনার পর থেকেই তিনি ও তার পরিবার বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকির মুখে পড়েন। এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাত পৌনে ৯টার দিকে হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের সাগরিয়া বাজার এলাকায় তার গ্রামের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমি বাড়িতে থাকি না। সেখানে আমার বৃদ্ধ বাবা-মা থাকেন। মূলত তাদের আতঙ্কিত করতেই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। মতপ্রকাশের কারণে কোনো পরিবারের ওপর এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
গাফফারের অভিযোগ, হামলাকারীরা তার বাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং জানালার কাচ ভাঙচুর করে। তিনি এ ঘটনার জন্য সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদের অনুসারীদের দায়ী করেন।
তিনি আরো দাবি করেন, হামলার পর ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়েছে এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে প্রশাসনের কাছে চার দফা দাবি জানান গাফফার। দাবিগুলো হলো—হামলার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা, তার পরিবার ও স্বজনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঘটনার নেপথ্যে থাকা মদদদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার রাতে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নে আবদুল গাফফারের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে রাতেই স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।
ঢাকা/আহসান/জান্নাত
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ