পীরগঞ্জে সিলমারা ছয়টি ব্যালট উদ্ধার, ইউএনও অবরুদ্ধ
রংপুর প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পপি খাতুন ঘটনাস্থলে গেলে তাকে অবরুদ্ধ করা হয়।
রংপুরের পীরগঞ্জে একটি ভোট কেন্দ্র থেকে ছয়টি ব্যালট পেপার ও দুটি সিল উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে দুটি ধানের শীষ প্রতীকের, দুটি ‘হ্যাঁ’ এবং দুটি ‘না’ ভোটের। এ ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পপি খাতুন। পরে পুলিশি সহায়তায় তিনি ঘটনাস্থলে ত্যাগ করেন।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার মদনখালী ইউনিয়নের হাসার পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্র থেকে সিলমারা এ সব ব্যালট উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, সকালে স্কুলে গিয়ে শিক্ষার্থীরা দুটি সিলসহ ছয়টি ব্যালট খুঁজে পায়। পরে ব্যালট ও সিলগুলো প্রধান শিক্ষকের কাছে জমা দেয় তারা। প্রধান শিক্ষক তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করেন। খবর পেয়ে দুপুরে ইউএনও পপি খাতুন ঘটনাস্থলে গেলে বাইরে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। ঝাড়ু হাতে নারীরাও অবস্থান নেন। একপর্যায়ে ইউএনওকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর স্থানীয় বিএনপি ও পুলিশের সহায়তায় তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
পীরগঞ্জ থানার ওসি সোহেল রানা বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা ফজলু মিয়া বলেন, শিক্ষার্থীরা প্রথমে ব্যালট হাতে পায়। পরে বিষয়টি এলাকাবাসীকে জানানো হলে ইউএনওকে খবর দেওয়া হয়। তিনি এলে ক্ষুব্ধ জনতা তাকে অবরুদ্ধ করে। পরে পুলিশ এসে তাকে নিয়ে যায়।
ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা শাহ আব্দুর রউফ কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক মো. রাহিদুজ্জামান বলেন, সকল এজেন্টের উপস্থিতিতে ব্যালট বাক্স দেখিয়ে ভোটগ্রহণ শুরু করা হয় এবং সবার সম্মতিতে বাক্স সিলগালা করা হয়। ভোট শেষে গণনা করে ফলাফল প্রস্তুত করে এজেন্টদের হাতে দেওয়া হয়েছে। ব্যালট বাক্সের বাইরে আলাদা ব্যালট পাওয়া গেলে এ বিষয়ে তাদের কিছু করার নেই বলেও তিনি জানান।
এ বিষয়ে ইউএনও পপি খাতুন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এদিকে বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রশাসন, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিক প্রেস ব্রিফিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত নুরুল আমীন ১ লাখ ২০ হাজার ১২৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাইফুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০৩ ভোট। ভোটে কারচুপির অভিযোগ তুলে পুনরায় গণনার দাবিতে গত তিন দিন ধরে বিক্ষোভ করছেন বিএনপির নেতাকর্মীসহ সমর্থকরা।
ঢাকা/আমিরুল/বকুল