ইমাম নিয়োগ নিয়ে বিএনপি-জামায়াত দ্বন্দ্বে মসজিদে তালা, বাইরে নামাজ আদায়
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
সিরাজগঞ্জে ইমাম নিয়োগ নিয়ে বিএনপি-জামায়াত সমর্থকদের দ্বন্দ্বের জেরে মসজিদে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে মুসল্লিরা বাধ্য হয়ে মসজিদের বাইরে খোলা স্থানে নামাজ আদায় করেছেন। তবে, কে বা কারা তালা মেরেছে তা জানা যায়নি।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) ভোরে সদর উপজেলার বাগবাটি ইউনিয়নের পেঁচিবাড়ি জামে মসজিদের এ ঘটনা ঘটে। দুপুরে সদর থানা পুলিশ ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন মসজিদ কমিটির উপস্থিতিতে তালা ভেঙে মুসল্লিদের নামাজের ব্যবস্থা করে দেয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পেঁচিবাড়ি জামে মসজিদের ইমাম আব্দুল হাইয়ের কেরাত মুসল্লিদের অনেকে পছন্দ করেন না বলে অভিযোগ উঠে। তারা ওই ইমামকে বদলির দাবি জানান। তবে, কমিটির লোকজন তাকে বাদ দেয়নি।
রোজা শুরুর আগে মুসল্লিরা কমিটিকে প্রস্তাব দেন, আব্দুল হাইকে রেখে নতুন আরেকজন ইমাম নিয়োগ দেওয়া হোক। আব্দুল হাই যথারীতি ওয়াক্তের নামাজ পড়াবেন; নতুন নিয়োগ পাওয়া ইমাম তারাবি নামাজ পড়াবেন। কিন্তু, কমিটি মুসল্লিদের এই প্রস্তাবেও কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি। এ অবস্থায় গ্রামবাসী বাধ্য হয়ে তারাবি পড়ানোর জন্য নতুন একজন ইমাম নিয়োগ দেন।
গত বুধবার প্রথম তারাবির দিন নতুন ইমাম মসজিদে গেলে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে যুবদল নেতা লিটনকে ধাক্কা দিয়ে বাইরে বের করে দেন জামায়াতের লোকজন। এ ঘটনায় বাইরে এসে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। এরপর থেকে আব্দুল হাই ওই মসজিদে নামাজ পড়ান না। কমিটির লোকজনও মসজিদে নামাজ পড়েন না।
শনিবার রাতে মুসল্লিরা অন্য এক ইমামের ইমামতিতে মাগরিব ও এশার নামাজ পড়েন। রবিবার ফজরের নামাজের সময় গিয়ে তারা মসজিদে গেলে তালা মারা দেখেন।
বাগবাটি ইউনিয়ন কৃষকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা অভিযোগ করে বলেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ চলে যাওয়ার পর জামায়াতের লোকজন এককভাবে কমিটি গঠন করে। সে সময় তারা আব্দুল হাই নামে জামায়াত সমর্থিত একজনকে ইমাম হিসেবে নিয়োগ দেন। তাকে নিয়ে মুসল্লিদের অনেক অভিযোগ রয়েছে।”
পেঁচিবাড়ি জামে মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “আব্দুল হাইয়ের নামাজ পড়ানো ও কেরাত ভালো হয় না—এমন অভিযোগ তুলে তাকে বাদ দেওয়ার দাবি করা হয়েছিল।”
তিনি আরো বলেন, “আমাদের গ্রামে জামায়াতের কোনো নেতা নেই। আমি নিজেও জামায়াতের কোনো পদে নেই। তবে আমি সমর্থক। মসজিদে কে তালা দিয়েছে সেটা বলতে পারব না।”
এ বিষয়ে বাগবাটি ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মো. ছানোয়ার হোসেন বলেন, “বিষয়টিকে দলীয় ট্যাগ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটা আসলে গ্রামের আভ্যন্তরীণ বিষয়। কোনো দলীয় দ্বন্দ্ব নয়। মসজিদে তালা দেওয়ার ঘটনা নিন্দনীয়।”
সিরাজগঞ্জ সদর থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শফিকুর রহমান বলেন, “ফজরের নামাজ পড়তে দিয়ে মুসল্লিরা মসজিদে তালা দেখতে পান। পরে তারা থানায় জানালে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। আমরা উপস্থিত জনতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করি। কে বা কারা তালা দিয়েছে সে বিষয়ে কেউ বলতে পারে না। পরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের লোকজন ও মসজিদ কমিটির লোকের সহযোগিতায় তালা খুলে নামাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ বিষয়ে সঠিক তথ্য পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঢাকা/রাসেল/রাজীব