ঢাকা     রোববার   ০১ মার্চ ২০২৬ ||  ফাল্গুন ১৬ ১৪৩২ || ১১ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

যশোরে ভারপ্রাপ্ত জেলা জজের ওপর আইনজীবীদের অনাস্থা, আদালত মুলতবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:২৪, ১ মার্চ ২০২৬  
যশোরে ভারপ্রাপ্ত জেলা জজের ওপর আইনজীবীদের অনাস্থা, আদালত মুলতবি

যশোরের ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ আইরিন পারভীনের ওপর অনাস্থা প্রকাশ করেছেন জেলা আইনজীবীরা।  এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার (১ মার্চ) দুপুরে আদালতের এজলাসে আইনজীবীদের মধ্যে অসন্তোষ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আইনজীবীরা বিচারকের প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে অনাস্থা প্রকাশ করেন এবং আদালত মুলতবি ঘোষণার আবেদন জানান। পরে বিচারক সেই আবেদন মঞ্জুর করে আদালত মুলতবি ঘোষণা করেন। 

আইনজীবীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ এ আদালতে নির্দিষ্ট বিচারক না থাকায় এ ধরনের ঘটনা প্রতিনিয়তই ঘটছে।  

আরো পড়ুন:

ঘটনার বিষয়ে যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এম. এ. গফুর বলেন, ভারপ্রাপ্ত বিচারক আইরিন পারভীন বিচার বিভাগীয় মনোভাব নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন না— এমন অভিযোগ আইনজীবীদের মধ্যে রয়েছে। এ কারণে তার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। আজ এজলাসে বিষয়টি নিয়ে কথাকাটাকাটি হয়। পরে তিনি এজলাসে প্রবেশ করেন। আইনজীবীরা অনাস্থা প্রকাশ করলে আদালত মুলতবি ঘোষণার আবেদন করা হয়, যা বিচারক মঞ্জুর করেন। 

তিনি আরো বলেন, এ বিষয় নিয়ে জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে বিচারকের সঙ্গে আলোচনায় বসা হবে। আলোচনা শেষে পরবর্তী করণীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

যশোর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, এটি মূলত দুই পক্ষের মধ্যে সামান্য ভুল বোঝাবুঝির ফল। বিষয়টি আজই আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসা করা হবে বলে তিনি আশাবাদী।

আদালতের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, গত বছরের ২৮ আগস্ট তৎকালীন সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ নাজমুল আলম বদলি হন। তিনমাস পর  ৫ নভেম্বর সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে মোহাম্মদ আলী যোগদান করেন। তবে চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি মোহাম্মদ আলীরও বদলি হলে জেলা ও দায়রা জজ পদটি শূন্য হয়ে পড়ে। এরপর থেকে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজদের মাধ্যমে জেলা জজ আদালতের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল, যা নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে বেশ কয়েকদিন ধরে ক্ষোভ বিরাজ করছিল। সম্প্রতি আইরিন পারভীন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে পদোন্নতি পান এবং জেলা ও দায়রা জজ পদ শূন্য থাকায় তাকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

সিনিয়র আইনজীবীরা বলছেন, কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা ভারপ্রাপ্ত বিচারকের পক্ষে সম্ভব নয়। তার হাতে সর্বোচ্চ ক্ষমতা না থাকায় তিনি পূর্ণাঙ্গ আইনি সেবা দিতে পারেন না। এতে করে আইনজীবী ও বিচারকদের মধ্যে দূরত্ব বাড়ে, যার প্রভাব পড়ে সেবা প্রত্যাশীদের ওপরও। 
 

ঢাকা/রিটন/বকুল 

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়