ঢাকা     সোমবার   ০২ মার্চ ২০২৬ ||  ফাল্গুন ১৭ ১৪৩২ || ১৩ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

তালগাছে রেড পাম্প উইভিল, মাঠে বৈজ্ঞানিক দল

মেহেরপুর প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:৩৪, ২ মার্চ ২০২৬  
তালগাছে রেড পাম্প উইভিল, মাঠে বৈজ্ঞানিক দল

মেহেরপুরের গাংনীতে রেড পাম্প উইভিল পোকার আক্রমণে প্রায় দুই হাজার তালগাছ নষ্ট হয়ে গেছে। আরো বহু গাছ আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে তিন সদস্যের একটি বৈজ্ঞানিক দল গাংনী উপজেলার চিৎলা পাট বীজ খামার এলাকার তালগাছ সরেজমিন পরিদর্শন করেন।

খামার সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সাল থেকে সেখানে প্রায় দেড় লাখ তালগাছ রোপণ করা হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ ক্ষতিকর পোকার আক্রমণে গাছগুলো মারা যেতে শুরু করে। কাণ্ড নষ্টকারী এ পোকার কারণে অল্প সময়েই বিপুলসংখ্যক তালগাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিষয়টি উদ্বেগজনক হয়ে উঠলে তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে জানানো হয়।

খামারের কর্মচারীরা জানান, কয়েক মাস ধরে পোকার আক্রমণ বেড়েছে। প্রাথমিকভাবে কীটনাশক প্রয়োগ করা হলেও তেমন ফল পাওয়া যায়নি। আক্রান্ত গাছ দ্রুত শুকিয়ে মারা যাচ্ছে। এভাবে ক্ষতি চলতে থাকলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হবে।

বৃক্ষপ্রেমী ওয়াসিম সাজ্জাদ লিখন বলেন, “আমি প্রায় সাড়ে তিন লাখ তালবীজ রোপণ করেছি। ২০১৮ সাল থেকে ব্যক্তিগতভাবে, সমিতির মাধ্যমে এবং সাংগঠনিক উদ্যোগে এই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। নিঃস্বার্থভাবে গাছগুলো বড় করেছি। সন্তানের মতো লালন করেছি। এখন গাছগুলো মারা যেতে দেখে কষ্টে ভেঙে পড়ছি।”

তিনি আরো বলেন, বৈজ্ঞানিক দলের পরামর্শ অনুযায়ী এখন থেকে নির্ধারিত কীটনাশক প্রয়োগ করা হবে।
গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মতিয়ার রহমান জানান, সাংবাদিকদের মাধ্যমে চিৎলা ফার্মের তালগাছ মারা যাওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে তারা সরেজমিনে যান। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছে, রেড পাম্প উইভিলের আক্রমণেই গাছগুলো মারা যাচ্ছে। আক্রমণ আগেই শুরু হয়েছিল, তবে তা শনাক্ত করা যায়নি। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক দল আনার ব্যবস্থা করা হয়। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সঞ্জীব মৃধা বলেন, “বিষয়টি জানার পরপরই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয় এবং একদিনের মধ্যেই বৈজ্ঞানিক দল পরিদর্শনে আসে। তাদের পরামর্শ বাস্তবায়নে কাজ চলছে।”

প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. নুর আলম বলেন, “রেড পাম্প উইভিল অত্যন্ত ক্ষতিকর পোকা। এর লার্ভা গাছের নরম কাণ্ড দ্রুত নষ্ট করে ফেলে। ছোট গাছ বেশি ঝুঁকিতে থাকে। দ্রুত রোগ শনাক্ত করা না গেলে গাছ রক্ষার সম্ভাবনা খুবই কম—প্রায় দুই শতাংশের মতো। আক্রান্ত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় কীটনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সঠিকভাবে প্রয়োগ করলে বাকি গাছগুলো রক্ষা পাওয়ার আশা রয়েছে।

পরিদর্শনকালে আরো উপস্থিত ছিলেন ড. মো. আনিসুজ্জামান ও ড. মো. শামসুদ্দিন আরেফিনসহ কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।

ঢাকা/ফারুক/জান্নাত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়