উত্তরাঞ্চলগামী মানুষের ঈদযাত্রায় চরম ভোগান্তি
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে যানজট
দিনভর ভোগান্তি নিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক হয়ে বাড়ি ফিরছে উত্তরাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ। প্রখর রোদ ও গরম, ধুলাবালিতে ভোগান্তি বেড়েছে কয়েক গুণ।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপরেও অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ ও যমুনা সেতু সংযোগ সড়কে একাধিক গাড়ি বিকল হওয়ায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের ২৫ কিলোমিটার এলাকায় থেমে থেমে যানবাহন চলাচল করছে। এর আগে রাত থেকে ৬৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে থেমে যানবাহন চলাচল করেছে। বেলা যত বাড়ছে যানবাহনের চাপ কমছে। তবে ভোগান্তি বাড়ছে।
সকালে মহাসড়কের নগরজালফৈ এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন।
এদিকে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ সামাল দিতে সকাল ১১টা ৩৫ থেকে দুপুর ১টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত সেতুর উভয় লেন দিয়ে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহন পারাপার করে সেতু কর্তৃপক্ষ।
পুলিশ জানায়, বুধবার দিবাগত রাত থেকে যমুনা সেতুর টোল প্লাজা থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত ধীর গতিতে যানবাহন চলাচল করছে। কখনো আবার থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। দেড় ঘণ্টার সড়ক পার হতে সময় লাগছে ১০ থেকে ১৫ ঘণ্টা।
শেফালি বেগম নামের এক নারী বলেন, ভোর রাতে চন্দ্রা বাসের জন্য এসেছিলাম। বাস পাইলেও সিট নাই। তাই ট্রাকে যাচ্ছি। তবে যানজটে দিনটা মহাসড়কেই কেটে গেল। রোদ আমি সহ্য করলেও আমার ছেলে-মেয়ের সহ্য হচ্ছে না। তাদের খুব কষ্ট হচ্ছে।
গার্মেন্টস কর্মী টুটুল মিয়া বলেন, গতকাল চন্দ্রাতে যানবাহনের ব্যাপক চাপ ছিল। তাই ভোগান্তি হবে বলে গতকাল বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হইনি। আজকে বাড়ি যাচ্ছি, তাও ভোগান্তি শেষ করতে পারলাম না।
হযরত মিয়া বলেন, একদিকে তিন গুণ বেশি গাড়ি ভাড়া, অন্য দিকে মহাসড়কে ভোগান্তি। তারপরও বাড়ি যেতে পারলে একটু ভালো লাগবে।
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী রিয়াজ উদ্দিন জানান, রাত ১২টা থেকে দুপুর ২টা ২২ মিনিট পর্যন্ত প্রায় ২৮ হাজার যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি এক লাখ টাকার উপরে।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার শামসুল আলম সরকার জানান, যানবাহনের চালকদের বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর কারণে মহাসড়কে ধীর গতি রয়েছে। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়কে পুলিশ কাজ করছে। দ্রুত যান চলাচল স্বাভাবিক হবে।
ঢাকা/কাওছার/ফিরোজ