মোটরসাইকেলে ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি ফিরছে মানুষ
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
মোটরসাইকেলে ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি ফিরছে হাজার হাজার মানুষ।
দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদ। ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীসহ বিভিন্ন শহর থেকে হাজার হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছে। স্ত্রী, শিশুদের সঙ্গে শত শত কিলোমিটার পথ পাড়ি দিচ্ছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত সিরাজগঞ্জের কড্ডার মোড়, যমুনা সেতু গোলচত্বর, মুলিবাড়ী, ঝাঔল ওভারব্রিজ, নলকা ও হাটিকুমরুল এলাকা ঘুরে শত শত মোটরসাইকেলে মানুষকে গ্রামে ফিরতে দেখা গেছে।
ঢাকা-যমুনা সেতু পশ্চিম মহাসড়কে মোটরসাইকেলে পরিবার-পরিজন নিয়ে বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে। কেউ স্ত্রীকে নিয়ে, কেউ শিশু সন্তানকে নিয়ে, কেউ স্ত্রীর সঙ্গে শিশু সন্তানকে নিয়ে মহাসড়ক পাড়ি দিচ্ছেন।
দুপুরে যমুনা সেতু সাইট অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ ঘণ্টায় ১০ হাজার ৯৭৪টি মোটরসাইকেল সেতু পারাপার হয়েছে। মোটরসাইকেল প্রতি ৫০ টাকা টোল নেওয়া হয়েছে। এতে ৫ লাখ ৪৮ হাজার ৭০০ টাকা টোল আদায় হয়েছে।
গাজীপুর থেকে নাটোরের উদ্দেশে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে রওনা হওয়া করিম শেখ বলেন, ‘‘ঈদে বাড়িতে বাবা-মার সঙ্গে না থাকলে মনটা খালি লাগে। ছেলে-মেয়েও দাদা-দাদির সঙ্গে ঈদ করতে চায়। তাই তাদের নিয়ে মোটরসাইকেলে রওয়া হয়েছি। ঝুঁকি আছে জানি, তবুও উপায় নেই।’’
সাভার থেকে রাজশাহী যাচ্ছেন শামীম তালুকদার। তিনি বলেন, ‘‘বাসে ভাড়া বেশি, সময়ও লাগে। তাই পরিবার নিয়ে মোটরসাইকেলে রওনা হয়েছি।’’
একইভাবে গাজীপুর থেকে বগুড়ার উদ্দেশে স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে যাত্রা করছেন সাগর হোসেন। তার কণ্ঠে ছিল দুশ্চিন্তা আর ভালোবাসার মিশেল, “আল্লাহ ভরসা, যেন নিরাপদে পৌঁছাতে পারি।’’
গাজীপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত সেরাজুল ইসলাম। তিনি এবং তার দুই বন্ধু তিনটি মোটরসাইকেলে একসঙ্গে যাচ্ছেন। সেরাজুল ইসলাম বলেন, ‘‘দুই বন্ধুকে নিয়ে নগরবাড়িতে যাচ্ছি। দোয়া চাই সকলের। যাত্রা পথে কোনো সমস্যা হলে একে অন্যকে যেন সাহায্য করতে পারি, সেই জন্য দলবেঁধে যাচ্ছি।’’
দীর্ঘ পথ মোটরসাইকেলে ভ্রমণ ঝুঁকিপূর্ণ। ক্লান্তি, অতিরিক্ত গতি এবং ট্রাফিক নিয়ম না মানায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যায়।
হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘‘মহাসড়কে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। যাত্রীদের সচেতনতা বাড়াতে হেলমেট ব্যবহারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মোটরসাইকেলে পরিবার নিয়ে যাত্রা ঝুঁকিপূর্ণ। আমরা সচেতন করছি, তবুও অনেকে শুনছেন না।’’
ট্রাক ও বাস চালকরাও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, মহাসড়কে হঠাৎ করে মোটরসাইকেল সামনে চলে আসে। তখন নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
ঢাকা/রাসেল/বকুল