ধামরাইয়ে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, শ্বশুর-শ্যালকসহ আটক ৫
সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
ঢাকার ধামরাইয়ে বাকবিতণ্ডার জের ধরে সাবু (৩৫) নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তার শ্বশুর ও শ্যালকসহ পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে ধামরাই থানা পুলিশ।
রবিবার (২২ মার্চ) সকালে ধামরাই উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের রূপনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সাবু ভোলার লালমোহন উপজেলার বাসিন্দা। তিনি রূপনগর এলাকায় থাকতেন এবং স্থানীয় খেয়াঘাটে ম্যানেজারি করতেন।
আটকরা হলেন— নিহতের শ্বশুর হানিফ ও তার ছেলে বাবু এবং স্থানীয় তিন ব্যক্তি।
ধামরাই থানা পুলিশ ও নিহতের পরিবার জানিয়েছে, সাবু দীর্ঘ দিন ধরেই মাদক তৈরি ও সেবনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। প্রায়ই তিনি মাদক সেবন করে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়তেন। গতকাল ঈদের দিনেও তিনি মদপান করে বিকেলের দিকে সাভার গিয়ে মারধরের শিকার হন। রাতে বাড়ি ফিরে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করে তাকে তাড়িয়ে দেন। একপর্যায়ে তার বাসার পাশেই শ্বশুরবাড়ি গিয়ে সেখানেও ঝগড়াঝাটি করে শ্বশুরের বসতঘরের টিনে কোপ দেন ও বিদ্যুতের মিটার ভেঙে দেন। একপর্যায়ে শ্বশুর ও শ্যালক তাকে মারধর করে। সাবুকে আহত অবস্থায় সাভারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রবিবার সকালে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। সেখান থেকে শ্বশুর-শ্যালকসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়।
সাবুর স্ত্রী বলেছেন, “আমার স্বামী মাঝে মাঝে মদ পান করে অনেক ঝগড়াঝাটি করত। মদ বানাইতো। তাকে পরিকল্পিতভাবে মারেনি। কিন্তু, আমি এটার বিচার চাই। আমার বাপ-ভাই মারার আগে ওপার (সাভার) থেকেও মার খেয়ে এসেছিল, আবার হেরাও (শ্বশুর-শ্যালক) মারছে। আমার ভাসুর ও জা বলছে, সে ওপারে মার খেয়েছে। তারপর আমার বাবার বাড়িতে এসে ঘরে কোপাকুপি করে, মিটার ভেঙে ফেলে। আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে।“
ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা খান বলেছেন, “খবর পেয়ে সাবুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
ঢাকা/সাব্বির/রফিক