‘আমার এক বন্ধু কয়, তোর বেটা আর বউ নাই’
গাইবান্ধা প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
“ওইখানে (ঘটনা স্থান) থাকি আমার এক বন্ধু কয়, তোর বেটা আর বউ নাই। ট্রেনে কাটা পড়ি মারা গেছে। যাওয়ার সময় ছেলেকে বারবার বলেছি- আব্বু তোমার ঢাকায় যাওয়ার দরকার নাই। ছেলে বলল, আমি এক বছর পর মার সঙ্গে আসবো আব্বা।” ছেলে নীরব (১৫) ও স্ত্রী নার্গিসের (৩৫) মৃত্যুতে এভাবেই বিলাপ করছিলেন গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার মধ্যপাড়া গ্রামের রাজমিস্ত্রী হামিদুজ্জামান।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে মধ্যপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, হামিদুজ্জামানের বাড়িতে ভিড় করেছেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা। তারা সবাই হামিদুজ্জামানকে সান্তনা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। ছেলে ও স্ত্রীর কথা বলতে গিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন তিনি।
আরো পড়ুন: টাঙ্গাইলে ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত ৫ জনের মরদেহ বাড়িতে, দুপুরে জানাজা
নার্গিস টাঙ্গাইলের গোড়াই হাঁটুভাঙা এলাকার সাউথ ইস্ট নামে একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। ঈদের ছুটি শেষে শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে ছোট ছেলে নীরব ও বেয়াইন দোলাকে (৩৫) নিয়ে গাইবান্ধা থেকে কর্মস্থলে ফিরছিলেন তিনি। রাতে কালীহাতীর ধলাটেংগর এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে তারা তিনজন মারা যান।
সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহাদাৎ হোসেন বলেন, “দুদিন আগে বড় ছেলে নাঈমের বিয়ে দেন নার্গিস। ছোট ছেলে নীরব, বড় ছেলে নাঈম ও বেয়াইন দোলাকে নিয়ে নার্গিস পোশাক কারখানার কাজে যোগ দিতে শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে বাড়ি থেকে রওনা দেন। রাতে নীরব, নার্গিস ও নার্গিসের বেয়াইন ট্রেনে কাটা পেড়ে মারা গেছেন বলে খবর আসে।”
ওই দুর্ঘটনায় উপজেলার নীজপাড়া গ্রামের আজিজারের ছেলে সুলতান (৩৫) ও আব্দুর রশিদের মেয়ে রিফা মারা যান। আজ সকাল ১০টার দিকে তাদের পাঁচজনের মরদেহ এলাকায় পৌঁছায়। এরই মধ্যে সুলতান ও রিফার মরদেহ দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মা-ছেলেসহ অন্য তিনজনের মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি চলছে।
আরো পড়ুন: তেল শেষ হয়ে যাওয়া বাসের যাত্রী ছিলেন কালীহাতীতে নিহত পাঁচজন
সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট পুলিশ ফাঁড়ির এসআই স্বপন কুমার জানান, শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত ৮টার দিকে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার ধলাটেঙ্গর এলাকায় তেল শেষ হলে একটি বাস রাস্তার পাশে দাঁড়ায়। বাসের পাঁচজন যাত্রী তখন রেল লাইনে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। সেখানেই তারা ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত হন।
নিহতদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গাইবান্ধার থেকে একটি বাসে তাদের স্বজনরা ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার ধলাটেঙ্গর এলাকায় বাসটির তেল শেষ হয়ে যায়। রেল লাইনের পাশে বাস দাঁড় করিয়ে চালক ও হেলপার তেল আনতে যান। এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বাসটি একই স্থানে দাঁড়িয়ে ছিল। কয়েকজন বাস থেকে নেমে রেললাইনে বসে ছিলেন এবং ফোনে কথা বলছিলেন। এসময় একটি ট্রেনে কাটা পড়ে মা-ছেলেসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়। বাসের যাত্রীরা বেশির ভাগই পোশাক কারখানার কর্মী ছিলেন।
ঢাকা/মাসুম/মাসুদ
বরখাস্তকৃত সেনা কর্মকর্তা মো. আফজাল নাছেরকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা নহানগর গোয়েন্দা পুলিশ