ঢাকা     সোমবার   ৩০ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ১৭ ১৪৩২ || ১০ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

১৭ বছর আগের শিউরে ওঠা রহস্য নিয়ে ‘চক্র টু’

বিনোদন প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:৪৩, ৩০ মার্চ ২০২৬   আপডেট: ১৪:৩৯, ৩০ মার্চ ২০২৬
১৭ বছর আগের শিউরে ওঠা রহস্য নিয়ে ‘চক্র টু’

ভিকি জাহেদের জাদুকরী নির্মাণ ‘চক্র’। এ সিরিজের প্রথম সিজনের অভাবনীয় সাফল্যের পর দর্শকরা দ্বিতীয় কিস্তির অপেক্ষায় ছিলেন। গত ২৬ মার্চ আইস্ক্রিনের বিশেষ ঈদ আয়োজনে মুক্তি পেয়েছে এটি। ৮ পর্বের সিরিজটির দ্বিতীয় পার্ট দর্শকদের নিয়ে গেছে আরও গভীর অন্ধকার আর মনস্তাত্ত্বিক গোলকধাঁধায়।  

২০০৭ সালের এক নিস্তব্ধ রাত। ময়মনসিংহের একটি পরিবারের ৯ সদস্যের রহস্যময় ‘আত্মহত্যার’ খবর স্তব্ধ করে দিয়েছিল পুরো দেশকে। কেউ বলেছিল এটি কোনো আধ্যাত্মিক সাধনা, কেউবা দেখেছিল এর পেছনে কোনো অন্ধকার ষড়যন্ত্র। সেই হাড়হিম করা বাস্তব ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্মিত হয়েছিল সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ‘চক্র’। প্রথম সিজনের অভাবনীয় সাফল্যের পর, এবার দর্শকদের স্নায়ুর পরীক্ষা নিতে আইস্ক্রিন অরিজিন্যাল নিয়ে এলো ‘চক্র টু’। 

আরো পড়ুন:

প্রথম সিজনে রহস্যের যে জাল বোনা হয়েছিল ‘চক্র টু’ সিরিজে, তা আরও জটিল ও গাঢ় অন্ধকারে রূপ নিয়েছে। গল্পটি কেবল একটি পরিবারের মৃত্যুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এর পেছনে লুকিয়ে থাকা মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব, সামাজিক কুসংস্কার এবং মানুষের ভেতরের গোপন অন্ধকারকে নিপুণভাবে তুলে ধরেছেন নির্মাতা ভিকি জাহেদ। 

৮ পর্বের এই সিরিজে দেখা যায়, অতীত কীভাবে বর্তমানকে তাড়া করে বেড়ায়। প্রধান চরিত্রগুলোর জীবনের পরতে পরতে জমে থাকা রহস্য উন্মোচিত হতে শুরু করে। প্রতিটি এপিসোড শেষ হয় এমন এক রুদ্ধশ্বাস মোড়ে, যা দর্শকদের বাধ্য করে পরবর্তী পর্বটি দেখতে। বিশেষ করে মানুষের অবচেতন মনের ভয় আর আধ্যাত্মিকতার সংমিশ্রণ সিরিজটিকে সাধারণ থ্রিলার থেকে আলাদা করেছে। 

২৬ মার্চ আইস্ক্রিনের বিশেষ ঈদ আয়োজনে মুক্তি পাওয়ার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই বাজিমাত করেছে ‘চক্র টু’। ১ লাখের বেশি দর্শক ইতিমধ্যে সিরিজটি দেখে ফেলেছেন এবং এর মোট ওয়াচ টাইম ছাড়িয়ে গেছে ১ মিলিয়ন মিনিট! 

এই বিশাল সাফল্য উদযাপন করতে রবিবার (২৯ মার্চ) দুপুরে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে এক বর্ণাঢ্য সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে পরিচালক ভিকি জাহেদ ও অভিনয়শিল্পীরা তাদের শুটিং ডায়েরির নানা রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন।  

ভিকি জাহেদ বলেন, “বাস্তব ট্র্যাজেডিকে পর্দায় তুলে আনা সবসময়ই এক ধরনের দায়বদ্ধতা। দর্শকদের এই তুমুল সাড়া প্রমাণ করে তারা ভালো গল্প ও মেকিংকে সবসময়ই সমর্থন করেন।” 

সিরিজটির প্রাণ ছিল এর শক্তিশালী কাস্টিং। প্রধান চরিত্রে তৌসিফ মাহবুব ও আজমেরী হক বাঁধনের অভিনয় ছিল দেখার মতো। তাদের স্ক্রিন প্রেজেন্স দর্শকদের প্রতিটি মুহূর্তে টানটান উত্তেজনার মধ্যে রেখেছে। এছাড়া শাহেদ আলী, নাদের চৌধুরী, গাজী রাকায়েত, মোমেনা চৌধুরী, মেঘলা মুক্তা এবং মৌসুমী মৌয়ের মতো শিল্পীদের তুখোড় অভিনয় সিরিজটিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বিশেষ করে ডার্ক হিউমার আর রহস্যময় অভিব্যক্তিতে প্রত্যেকেই ছিলেন অনবদ্য।

ঢাকা/রোহান/শান্ত

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়