সংরক্ষিত নারী আসন
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিএনপির নেত্রীদের দৌড়ঝাঁপ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বিএনপির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকে কেন্দ্র করে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
গত শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর থেকেই জেলার নারী নেত্রীরা সংসদ সদস্য হওয়ার দৌড়ে শামিল হয়েছেন। রাজপথের লড়াই-সংগ্রাম, পারিবারিক ঐতিহ্য এবং সাংগঠনিক দক্ষতার সমীকরণ মিলিয়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
তালিকায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন অ্যাডভোকেট সৈয়দা আসিফা আশরাফি পাপিয়া। সাবেক এই সংসদ সদস্য বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হারুনুর রশিদের স্ত্রী এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা পাপিয়ার জনপ্রিয়তা তৃণমূল পর্যায়ে রয়েছে। মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ শেষে তিনি জানান, দল যাকে যোগ্য মনে করবে তাকেই বেছে নেবে। তবে সাবেক সংসদ সদস্য হিসেবে নতুন করে যোগ্যতা প্রমাণের কিছু নেই বলেও মনে করেন এই নেত্রী।
মনোনয়ন দৌড়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক মাসউদা আফরোজ হক শুচি। বিগত দিনে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজপথে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো। ২০১৮ সালের নির্বাচনে দলের পক্ষে কাজ করতে গিয়ে তিনি নির্যাতনের শিকার হন, এমনকি সেই সময় হামলার শিকার হয়ে তার স্বামী পঙ্গুত্ব বরণ করেন। শুচি জানান, তিনি সংরক্ষিত নারী আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বিএনপির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাকে দায়িত্ব দিলে তিনি নারী ক্ষমতায়ন ও স্বচ্ছ প্রশাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করবেন। দলের প্রতি তার দীর্ঘ রাজনৈতিক আত্মত্যাগের মূল্যায়ন হবে বলে তিনি শতভাগ আশাবাদী।
দলটির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি নাদিরা চৌধুরী। বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কাজে যুক্ত থাকা নাদিরা মনে করেন, জেলার মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সংরক্ষিত নারী আসনের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার সময় এখন তার। তিনি নির্বাচিত হলে সবাইকে নিয়ে এলাকার টেকসই উন্নয়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
ইতোমধ্যে, ভোলাহাট উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা মহিলা দলের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক শাহানাজ খাতুন বিএনপির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। বিএনপির এই নেত্রী আওয়ামী লীগবিরোধী আন্দোলনে সম্মুখভাগে থেকে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে একাধিকবার কারাবরণ করেন। ত্যাগের বিচারে দল তাকে যথাযথ মূল্যায়ন করবে বলে তার বিশ্বাস।
মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এমন নেত্রীদের মধ্যে রয়েছেন জেলা বিএনপির সদস্য ফরিদা পারভিন মেঘলা। তিনি শিবগঞ্জ পৌর নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী প্রয়াত ওজিউল ইসলামের স্ত্রী। স্বামীর মৃত্যুর পর রাজনীতিতে হাল না ছাড়া মেঘলা জেলা বিএনপির একমাত্র নারী সদস্য হিসেবে সব আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। তিনি নির্ভীক নেতৃত্বের মাধ্যমে এই অঞ্চলের মানুষের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চান।
শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের দুইবারের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি সায়েমা খাতুনও রয়েছেন এই তালিকায়। জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকায় তিনি দল-মত নির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। বিশেষ করে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
এ ছাড়াও জেলা মহিলা দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি দিলসাদ তাহমিনা বেগম মিমিও মনোনয় প্রত্যাশী হিসেবে দৌড়ে রয়েছেন।
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মতে, এবার মনোনয়নের ক্ষেত্রে দলীয় ত্যাগ, সাংগঠনিক ভূমিকা এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি প্রাধান্য পাবে। তবে তৃণমূলের সাধারণ কর্মীদের দাবি, বিগত ১৭ বছর যারা স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন এবং সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় থেকেছেন, শেষ পর্যন্ত দল তাদেরই মূল্যায়ন করবে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি জোটের জন্য ৩৬টি আসন নির্ধারণ করা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী জোট পাবে ১৩টি আসন। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য রাখা হয়েছে ১টি আসন। সব মিলিয়ে মোট আসন সংখ্যা ৫০।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল মোতাবেক সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ মে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল। আপিল দায়েরের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ এপ্রিল। আপিল নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৩০ এপ্রিল।
ঢাকা/মেহেদী//
ভারতীয় উপ-মহাদেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোসলে মারা গেছেন