বৈশাখের উৎসবে মৃৎশিল্পে নতুন প্রাণ
নাটোর প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
নাটোর শহরের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হচ্ছে মাটির তৈরি বিভিন্ন পণ্য।
বাংলা নববর্ষকে সামনে রেখে নাটোরের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প পল্লীগুলোতে বইছে উৎসবের আমেজ। বছরের অন্য সময়ের তুলনায় এখন যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে এসব পল্লী। নতুন বছরের আগমনী বার্তা ঘিরে মাটির তৈরি নান্দনিক ও ব্যবহারিক পণ্যের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দিন-রাত নিরলস পরিশ্রমে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা।
জেলা শহরসহ আশপাশের বিভিন্ন মৃৎশিল্প পল্লী ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি ঘরেই চলছে কর্মযজ্ঞ। কোথাও মাটি কাঁদা হচ্ছে, কোথাও চাকার ঘূর্ণনে আকার নিচ্ছে হাড়ি-পাতিল, আবার কোথাও রোদে শুকানো বা চুলায় পোড়ানোর কাজে ব্যস্ত কারিগররা। মাটির সাদামাটা দলা যেন শিল্পীদের নিপুণ হাতে পরিণত হচ্ছে আকর্ষণীয় পণ্যসামগ্রীতে। শিশু থেকে বৃদ্ধ- পল্লীর সব বয়সী কারিগরই এই ব্যস্ততায় অংশ নিচ্ছেন।
মৃৎশিল্পীরা জানান, পহেলা বৈশাখ তাদের জন্য বছরের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়িক মৌসুম। বিশেষ করে মাটির তৈরি রঙিন মুখোশ, বৈশাখী পুতুল, ফুলদানি, শো-পিস, ব্যাংক (মানি ব্যাংক), হাড়ি-পাতিল এবং ঘর সাজানোর নানা উপকরণের চাহিদা এই সময় ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। গ্রাম থেকে শহর- সবখানেই এসব পণ্যের কদর রয়েছে।
নলডাঙ্গা উপজেলার ভাংঙাল কলসি এলাকার মৃৎশিল্পী অমল বলেন, “বৈশাখ আমাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। সারা বছর যেটুকু আয় হয় না, এই সময় সেটার ঘাটতি অনেকটা পুষিয়ে নেওয়া যায়। এখন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে।”
একই এলাকার অপর কারিগর বিন্তি রানী জানান, কাঁচামাল যেমন- মাটি, রং, জ্বালানি কাঠসহ অন্যান্য উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও বেড়েছে। তবুও ঐতিহ্য রক্ষার তাগিদে এবং জীবিকার প্রয়োজনে তারা এই পেশা ধরে রেখেছেন।
তিনি বলেন, “এখন আগের মতো লাভ হয় না, কিন্তু এই কাজই আমাদের পরিচয়। তাই কষ্ট হলেও ছাড়তে পারি না।”
শুধু উৎপাদনই নয়, বিক্রির ক্ষেত্রেও দেখা গেছে বাড়তি উৎসাহ। ক্রেতারা ভিড় করছেন মৃৎশিল্প পল্লীগুলোতে। অনেকে পরিবার নিয়ে এসে পছন্দমতো সামগ্রী কিনছেন। আবার অনেকেই আগেভাগেই অর্ডার দিয়ে রাখছেন নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্য। শহরের দোকানদাররাও পাইকারিভাবে এসব পণ্য সংগ্রহ করছেন।
মৃৎশিল্প পল্লীতে পণ্য কিনতে আসা নাটোর শহরের কানাইখালীর ঘোষপাড়া এলাকার বাসিন্দা তিথি দেব বলেন, “বৈশাখ মানেই একটু আলাদা সাজ। মাটির জিনিস দিয়ে ঘর সাজালে একটা অন্যরকম অনুভূতি আসে। তাই প্রতি বছর বিভিন্ন ধরনের মাটির পণ্য কিনতে এখানে আসি।”
ইঙ্গিত থিয়েটারের সভাপতি অ্যাডভোকেট খগেন্দ্রনাথ জানান, মৃৎশিল্প শুধু একটি জীবিকা নয়, এটি বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। আধুনিকতার ছোঁয়ায় অনেক ঐতিহ্যবাহী পেশা হারিয়ে গেলেও মৃৎশিল্প এখনো টিকে আছে মানুষের ভালোবাসায়। এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন সরকারি সহায়তা, সহজ ঋণ সুবিধা, আধুনিক প্রশিক্ষণ এবং বাজারজাতকরণের সুযোগ বৃদ্ধি।
ঢাকা/আরিফুল/মাসুদ
হামসহ শিশুদের টিকা নিয়ে দুদকে অভিযোগ: অধ্যাপক ইউনূস ও সাবেক উপদেষ্টা নূরজাহানের বিরুদ্ধে তদন্ত দাবি