ঢাকা     সোমবার   ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ||  চৈত্র ৩০ ১৪৩২ || ২৪ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

হামলা চালিয়ে আসামি ছিনতাই, শিশুকে আটকের অভিযোগ

কক্সবাজার প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:২৭, ১৩ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ১৩:২৭, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
হামলা চালিয়ে আসামি ছিনতাই, শিশুকে আটকের অভিযোগ

ফাইল ফটো

কক্সবাজারের উখিয়ায় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হাতকড়া পরিহিত এক আসামিকে ছিনিয়ে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় পুলিশের দুই সদস্য আহত হয়েছেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আসামির পরিবারের চার সদস্যকে আটক করেছে। তাদের মধ্যে ছয় বছর বয়সী এক শিশু রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। পুলিশ বলছে, কোনো শিশুকে আটক করা হয়নি। পরিবারের অনুরোধে শিশুটিকে তার মায়ের সঙ্গে রাখা হয়েছে।   

শনিবার (১২ এপ্রিল) মধ্যরাতে উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের কাশিয়াবিল এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। 

আরো পড়ুন:

উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান জানান, ছয় মাসের সাজাপ্রাপ্ত ও পরোয়ানাভুক্ত আসামি মিজানুর রহমান (২৯)। গোপন সংবাদে তার অবস্থান  নিশ্চিতের পর পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি চিৎকার শুরু করেন।

এ সময় পরিবারের সদস্যসহ ১০ থেকে ১৫ জন দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র ও লাঠি নিয়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে হামলাকারীরা মিজানুর রহমানকে ছিনিয়ে নেয় এবং তিনি অন্ধকারের সুযোগে বাড়ির পেছন দিক দিয়ে পালিয়ে যান। 

তিনি জানান, হামলায় উখিয়া থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) স্বদেশ বিশ্বাস ও কনস্টেবল ওমর ফারুক আহত হন। পরে তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে আসামির স্ত্রী ফারজানা হাকিম নিথর (২৯), বড় ভাইয়ের স্ত্রী রোজিনা আক্তার (৪৩) এবং আসামির বাবা জাফর আলমকে আটক করে। তবে, ৬ বছর বয়সী শিশুকে আটকের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ওসি মো. মুজিবুর রহমান।

পালিয়ে যাওয়া আসামির বড় ভাই ও রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, “মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক।” তার দাবি, পুলিশ তার ভাইকে বাড়িতে না পেয়ে অসুস্থ বৃদ্ধ বাবা, দুই নারী ও ৬ বছর বয়সী শিশুকে আটক করে নিয়ে যায়। ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে নিতে আসামি ছিনতাইয়ের নাটক সাজানো হয়েছে।

ওসি মো. মুজিবুর রহমান বলেন, “পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত এক বৃদ্ধ ও দুই নারীকে আটক করা হয়েছে। পরে পরিবারের অনুরোধে শিশুটিকে তার মায়ের সঙ্গে রাখা হয়।” 

এ ঘটনায় আহত এএসআই স্বদেশ বিশ্বাস বাদী হয়ে সরকারি কাজে বাধা প্রদান ও আসামি ছিনতাইয়ের অভিযোগে ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। গ্রেপ্তারকৃত তিনজনকে কক্সবাজার আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের এ কর্মকর্তা।

ঢাকা/তারেকুর/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়