গ্রাম আদালতে ভরণপোষণের মামলা মীমাংসা হবে
পঞ্চগড় প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
গ্রাম আদালত কার্যক্রমের ত্রৈমাসিক সমন্বয় সভায় বক্তব্য রাখেন ইউএনও ফাহমিদা সুলতানা।
গ্রাম আদালতের মাধ্যমে এখন থেকে সব ধর্মের নারী বকেয়া ভরণপোষণ আদায়ের মামলা করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা সুলতানা।
তিনি জানান, গ্রাম আদালত আইন, ২০০৬-এর তফসিলের দ্বিতীয় অংশে ২০২৪ সালের দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে স্ত্রীর বকেয়া ভরণপোষণ আদায়ের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে যে কোনো স্ত্রী এখন ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে মামলা করতে পারবেন।
বুধবার (৬ মে) পঞ্চগড় সদর উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত গ্রাম আদালত কার্যক্রমের ত্রৈমাসিক সমন্বয় সভায় তিনি এ কথা বলেন। উপজেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন ‘বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়)’ প্রকল্প যৌথভাবে সভার আয়োজন করে।
ইউএনও জানাম, আগে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ অনুযায়ী শুধু মুসলিম নারীরা সালিশি পরিষদের মাধ্যমে এ ধরনের দাবি উত্থাপন করতে পারতেন। নতুন সংযোজনের ফলে এ সুবিধা এখন সকল ধর্মের নারীর জন্য উন্মুক্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, একজন স্ত্রী সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত বকেয়া ভরণপোষণ আদায়ের জন্য মাত্র ২০ টাকা ফি দিয়ে মামলা করতে পারবেন। তবে গ্রাম আদালত কেবল ভরণপোষণ সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করতে পারবে; তালাক বা সন্তানের অভিভাবকত্বের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে পারবে না।
ভরণপোষণের সংজ্ঞা ব্যাখ্যা করে ইউএনও বলেন, খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থানসহ জীবনের মৌলিক চাহিদা পূরণই ভরণপোষণ, যা পরিবারের সামাজিক ও আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, স্ত্রীর ভরণপোষণের দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে স্বামীর, এবং স্ত্রীর নিজস্ব আয় থাকলেও এ দায়িত্ব থেকে স্বামী অব্যাহতি পাবেন না।
তিনি আরও বলেন, যৌক্তিক কারণে স্ত্রী আলাদা বসবাস করলেও তার ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকার বহাল থাকবে। ভরণপোষণের পরিমাণ নির্ধারণে স্বামীর আয়, পারিবারিক অবস্থা ও সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিতে হবে।
মুসলিম আইনের আলোকে ইউএনও বলেন, বিবাহ একটি দেওয়ানি চুক্তি এবং তালাকের পর মুসলিম নারীর ক্ষেত্রে ইদ্দতকাল (৯০ দিন) পর্যন্ত ভরণপোষণ প্রদান বাধ্যতামূলক। স্ত্রী গর্ভবতী হলে সন্তানের জন্ম পর্যন্ত এ দায়িত্ব বহাল থাকে।
সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা গ্রাম আদালতের কার্যক্রম আরো কার্যকর করতে এবং সাধারণ মানুষের কাছে এ সেবা পৌঁছে দিতে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ‘বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়)’ প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী মো. মিজানুর রহমান।
ঢাকা/নাঈম/বকুল
১০ হাজার অস্ত্র উদ্ধারে ডিসিদের কঠোর নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর