ঢাকা     বুধবার   ০৬ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ২৩ ১৪৩৩ || ১৮ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ঘোড়ায় চড়ে শান্তি আর সম্মান পান আবুল হাসেম

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:৫১, ৬ মে ২০২৬  
ঘোড়ায় চড়ে শান্তি আর সম্মান পান আবুল হাসেম

ঘোড়ার পিঠে সওয়ারী চড়িয়ে লাগাম ধরে হাঁটছেন আবুল হাসেম।

আবুল হাসেম (৬৮) শান্তি এবং সম্মান খুঁজে পেয়েছেন ঘোড়ার প্রতি ভালোবাসা থেকে। টাঙ্গাইল জেলার সখীপুর উপজেলার বহুরিয়ায় সেই ভালোবাসা থেকে গড়ে তুলেছেন ঘোড়ার খামার।  

আবুল হাসেমের বাবা মৃত বছির উদ্দিন তৎকালীন যাদবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। শৈশবে বাড়িতেই দেখেছেন হাতি আর ঘোড়া। সেই থেকে হাতির প্রতি না-হলেও ঘোড়ার প্রতি তার তীব্র আকর্ষণ জন্মে। মাত্র ৭ বছর বয়সে আবুল হাসেমের বাবা মারা যান। এরপর পরিবার থেকে হাতি, ঘোড়া বিক্রি করে দেওয়া হয়। এর তিন বছর পর, আবদার মেটাতে ছেলেকে ঘোড়া কিনে দেন মা মৃত শাবজান বেগম। এরপর ঘোড়া হয়ে ওঠে তার জীবনেরই অংশ। এ জন্য লেখাপড়াও ঠিকমতো করতে পারেননি। তাই বলে জীবন থেমে থাকেনি। গড়ে তুলেছেন সফল ব্যবসা, নির্মাণ করেছেন পাকা বাড়ি। গাড়ি-ঘোড়া দুটোরই মালিক হয়েছেন আবুল হাসেম। 

আবুল হাসেম জানান, দেশ স্বাধীনের পর ঘোড়ার পাশাপাশি গাড়ির ব্যবসা শুরু করেন মাত্র একটি বাস দিয়ে। ব্যবসা ভালো হওয়ায় কয়েক বছরের মধ্যেই ১৩টি বাসের মালিক হন। এক সময় দেশে সিএনজিচালিত অটো রিকশার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায়, বাসের সংখ্যা কমিয়ে ঘোড়ার খামারের প্রতি মনোযোগী হন। এখন খামারে রয়েছে মারোয়ারি, থ্রপিট, সিন্ধি, দেশিসহ বিভিন্ন জাতের ঘোড়া। জাত ভেদে ২ থেকে সাড়ে ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত দামের ঘোড়া আছে আবুল হাসেমের খামারে। 

ভারত থেকে ঘোড়া কিনে এনে আবুল হাসেম দেশে প্রশিক্ষণ দিয়ে বিক্রি করেন। সাধারণ ক্রেতার পাশাপাশি, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পুলিশ, আনসারসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করেন প্রশিক্ষিত ঘোড়া।

তিনি আরও জানান, শুধু ঘোড়া ক্রয়-বিক্রয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সাতক্ষীরা, বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় আবুল হাসেমের ঘোড়া। এভাবে অনেক পুরস্কারও জিতেছেন। সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে সুনাম। শুধু তাই নয়, তার ঘোড়া দিয়ে দেশের জনপ্রিয় অনেক সওয়ারী তাসলিমা, হালিমা, দিঘী, সোনিয়াসহ অনেকে ঘোড়দৌড়ে অংশ নিয়ে পুরস্কার জিতেছেন বলেও জানান আবুল হাসেম।

আবুল হাসেমের ঘোড়ার খামারে সওয়ারী হিসেবে প্রায় ৫ বছর কাজ করছেন একই গ্রামের সোহেল মিয়া (১৫)। সোহেল জানান, ছোটবেলা থেকে ঘোড়ার প্রতি তারও প্রবল আগ্রহ। একদিন তার বাবা তাকে আবুল হাসেমের খামারে নিয়ে আসেন ঘোড়া চালানো শেখানোর জন্য। সেই থেকে শুরু। আজ তিনি জনপ্রিয় সওয়ারী। দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘোড়দৌড়ে অংশ নিয়ে পুরস্কার জিতেছেন। 

এক সময় রাজা, বাদশা আর জমিদারদের বাহন ছিল হাতি ঘোড়া। সময় পরিক্রমায় অনেক পরে সাধারণ মানুষের নাগালে আসে ঘোড়া। ঘোড়া নিয়ে উচ্চবিত্তরা বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতো। যুগ পাল্টে আধুনিক হয়েছে, কিন্তু এই আধুনিক যুগে আজও ঘোড়া নিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠানসহ অনেক জায়গায় ঘুরে বেড়ান আবুল হাসেম। তিনি যেন এই আধুনিক যুগের রাজা। 

আবুল হাসেম বলেন, ‘‘আমার পাজেরো গাড়ি আছে, সেই গাড়ি নিয়ে কোথাও গেলে যে শান্তি পাই, তার চেয়ে অনেক বেশি শান্তি আর সম্মান পাই ঘোড়া নিয়ে গেলে। তাই জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ঘোড়া লালন-পালন করে যেতে চাই।’’ 

ঢাকা/কাওছার//

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়