গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯ শিক্ষার্থীকে অর্থদণ্ড, নোটিশে নেই আইনি ব্যাখ্যা
সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে স্বচ্ছতার ঘাটতির অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জারি করা পৃথক নোটিশে ৯ জন শিক্ষার্থীকে অর্থদণ্ড এবং কয়েকজনকে সতর্কীকরণ দেওয়া হলেও, কোনো নোটিশেই সংশ্লিষ্ট নির্দিষ্ট বিধান উল্লেখ করা হয়নি।
কোন আইনি বা প্রশাসনিক ভিত্তিতে এসব শাস্তি দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা। নোটিশে বিধিভঙ্গ ও অশ্লীল ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ আনা হলেও, কোন ধারার লঙ্ঘনের দায়ে জরিমানা করা হয়েছে বা কীভাবে অর্থদণ্ডের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা নেই।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অফিস আদেশে বলা হয়েছে, গত বছরের ৯ ডিসেম্বর গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ৫ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়। এরপর চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি শৃঙ্খলা কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সিন্ডিকেট ও বোর্ড অব ট্রাস্টিজের ধারাবাহিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের আর্থিক, একাডেমিক ও প্রশাসনিক সুবিধা (যদি থাকে) বাতিল করা হয় এবং জরিমানা আরোপ করা হয়।
নোটিশ অনুযায়ী, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য, উপাচার্য ও শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহারের অভিযোগে বাংলা বিভাগের ৩৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রিয়া আক্তারকে ১০ হাজার টাকা এবং রসায়ন বিভাগের ১৬তম ব্যাচের নাসিম, আইন বিভাগের ২৯তম ব্যাচের তাওহীদ আহমেদ সালেহীন ও ইইই বিভাগের ১৬তম ব্যাচের মনোয়ার হোসেন অন্তরকে ১২ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
এছাড়া, হাইকোর্টের রায় নিয়ে ক্যাম্পাসে ফিরে আসা রেজিস্ট্রার দেলোয়ার হোসেনের উপস্থিতিতে সৃষ্ট পরিস্থিতির দায়ে রসায়ন বিভাগের ১৯ ব্যাচের সামিউল আলম, ২০ ব্যাচের মেঘলা আক্তার, আইন বিভাগের ২৮তম ব্যাচের রাকিব, ২৯তম ব্যাচের প্রিন্স সম্রাট মুস্তাকিম এবং মাস্টার্সের শিক্ষার্থী শেখ খোদার নূর ইসলামসহ প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
পাশাপাশি সমাজবিজ্ঞান ও সমাজকর্ম বিভাগের ২৫তম ব্যাচের আল-আমিন (আবির) এবং আইন বিভাগের ২৮তম ব্যাচের আসাদুর রহমান বিজয়কে সতর্কীকরণ প্রজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। তাদের সাত কর্মদিবসের মধ্যে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত না থাকার মুচলেকা জমা দিতে বলা হয়েছে।
এ ঘটনায় শাস্তির যৌক্তিকতা ও প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা।
রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী নাসিম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোন আইনের কোন ধারায় এই নোটিশ জারি করেছে, তা উল্লেখ করেনি। এমনকি আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও দেওয়া হয়নি।” এ ধরনের একতরফা সিদ্ধান্ত ন্যায়বিচার ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতার পরিপনন্থি বলে জানান তিনি।
আইন বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিবের দাবি, তদন্ত বা শৃঙ্খলা কমিটি গঠনের পর তাকে ডাকা হয়নি, এমনকি কোনো মাধ্যমে যোগাযোগও করা হয়নি। ফলে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাইনি, যা ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির পরিপন্থি।
রিয়া আক্তার বলেন, “অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে, কিন্তু এর আইনি ভিত্তি জানানো হয়নি। সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসা করলেও কেউ সুনির্দিষ্ট কিছু বলতে পারেনি।”
শেখ খোদার নূর ইসলাম বলেন, “সেদিন আমরা কোর্টের রায় নিয়ে গিয়েছিলাম। কোর্টের রায় নিয়ে কোথাও যাওয়া তো অপরাধ নয়। কিন্তু আমাদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ, তা আমরা জানি না।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন পরামর্শক এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান বলেন, “গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইনে সিন্ডিকেট ও ট্রাস্টি বোর্ডের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।”
তদন্ত কমিটি নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তদন্তের নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বক্তব্য নেওয়ার কথা। তা না হলে তদন্ত সম্পূর্ণ হয় না।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান জানান, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও শৃঙ্খলা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সিন্ডিকেট ও ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কোনো অভিযোগ থাকলে তারা লিখিতভাবে জানাতে পারেন।
ঢাকা/সাব্বির/জান্নাত
হামে আরো ৭ মৃত্যু, আক্রান্ত ১২৮১