২০ বছরের অপেক্ষার অবসান, স্বপ্নের দুয়ারে আর্সেনাল
লন্ডনের রাতটা যেন শুধুই আর্সেনালের ছিল। আবেগ, গর্জন আর ইতিহাসের এক অপূর্ব মিশেলে এমিরেটস স্টেডিয়াম দেখল নতুন এক অধ্যায়ের জন্ম। ২০ বছর পর আবারও ইউরোপসেরা প্রতিযোগিতার ফাইনালে উঠেছে ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি। আর সেই স্বপ্নযাত্রার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন বুকায়ো সাকা।
সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে আতলেতিকো মাদ্রিদকে ১-০ গোলে হারিয়ে দুই লেগ মিলিয়ে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় আর্সেনাল। ম্যাচের একমাত্র গোলটি আসে প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে। লিয়ান্দ্রো ত্রোসারের শট ফিরিয়ে দিয়েছিলেন ইয়ান ওবলাক। কিন্তু ফিরতি বলে সাকা ছিলেন ঠিক জায়গায়। সহজ টোকায় বল জালে জড়িয়ে তিনি যেন ২০ বছরের জমে থাকা অপেক্ষার বিস্ফোরণ ঘটান।
২০০৬ সালে বার্সেলোনার কাছে হারার স্মৃতি এখনো আর্সেনাল সমর্থকদের মনে তাজা। সেই সময় সাকার বয়স ছিল মাত্র ৪। আজ সেই ছেলেটিই ক্লাবকে আবার ফাইনালের মঞ্চে তুলে এনে যেন পুরোনো ক্ষত সারানোর দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিল। ছোটবেলায় যে ক্লাবের একাডেমিতে পা রেখেছিলেন, আজ সেই ক্লাবের ইতিহাসের অন্যতম বড় নায়ক তিনি।
ম্যাচজুড়ে বলের দখল ছিল আর্সেনালের পায়ে। যদিও আতলেতিকো বরাবরের মতোই কঠিন, শারীরিক আর রক্ষণভিত্তিক ফুটবল খেলেছে। কিন্তু মিকেল আর্তেতার দল এবার ছিল ভিন্ন এক মানসিকতায়। ধৈর্য, শৃঙ্খলা আর বিশ্বাস; এই তিন অস্ত্রেই তারা ভেঙে দিয়েছে দিয়েগো সিমিওনের পরিকল্পনা।
আতলেতিকোর জন্য এটি আরেকটি হৃদয়ভাঙার রাত। দুইবার ফাইনালে উঠেও ট্রফি ছুঁতে না পারা দলটি এবারও থেমে গেল শেষ বাঁকের আগেই। বিশেষ করে আন্তোয়ান গ্রিজমানের জন্য রাতটি ছিল আরও আবেগঘন। গুঞ্জন রয়েছে, এটাই ছিল আতলেতিকোর জার্সিতে তার শেষ ইউরোপীয় ম্যাচ।
অন্যদিকে আর্সেনালের সামনে এখন রূপকথার দরজা খোলা। প্রিমিয়ার লিগ শিরোপার দৌড়ে যেমন তারা টিকে আছে, তেমনি ইউরোপসেরার মুকুট থেকেও মাত্র এক ধাপ দূরে। এই মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে এখন পর্যন্ত অপরাজিত আর্তেতার দল। পুরো প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে কম গোল হজম করা দলও তারা।
বুদাপেস্টে অপেক্ষা করছে নতুন এক মহারণ। প্রতিপক্ষ হতে পারে পিএসজি অথবা বায়ার্ন মিউনিখ। কিন্তু এই মুহূর্তে আর্সেনাল সমর্থকদের চোখে শুধু একটাই স্বপ্ন- ২২ বছরের লিগ অপেক্ষার পর যেমন নতুন সূর্যোদয়ের আশা, তেমনি ইউরোপের মঞ্চেও প্রথমবারের মতো রাজত্ব করার আকাঙ্ক্ষা।
ঢাকা/আমিনুল
হরমুজ প্রণালিতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত ঘোষণা ট্রাম্পের