ঢাকা     বুধবার   ০৬ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ২৩ ১৪৩৩ || ১৮ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ ‘অবৈধ’: চীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:৩৪, ৬ মে ২০২৬   আপডেট: ১৩:৩৯, ৬ মে ২০২৬
ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ ‘অবৈধ’: চীন

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে ‘অবৈধ’ বলে অ্যাখ্যায়িত করেছে চীন। বুধবার (৬ মে) বেইজিংয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এই মন্তব্য করেন। একইসঙ্গে তিনি উত্তেজনা প্রশমনে অবিলম্বে একটি পূর্ণাঙ্গ ও টেকসই যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন। খবর প্রেস টিভির।

বৈঠকে চীনের শীর্ষ কূটনীতিক ওয়াং ই বলেন, “আমরা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার তীব্রতা কমাতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে প্রস্তুত। এই মুহূর্তে একটি সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতি কেবল প্রয়োজনীয়ই নয়, বরং অনিবার্য।” 

আরো পড়ুন:

তিনি ইরানের ওপর মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনের সমালোচনা করে বলেন, “এই অঞ্চলটি এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে এবং সংকট সমাধানে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সরাসরি সংলাপ জরুরি।”

ইরানের পরাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি চীনের এই দৃঢ় অবস্থানের জন্য, বিশেষ করে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের নিন্দা জানানোর জন্য ধন্যবাদ জানান। বেইজিংকে তেহরানের ‘অকৃত্রিম বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যকার সহযোগিতা আরো শক্তিশালী হবে।

আরাঘচি ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতকে ‘প্রকাশ্য আগ্রাসন’ ও ‘আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ইরান একটি ‘ন্যায্য ও ব্যাপক সমঝোতা’ ছাড়া কোনো প্রস্তাবে রাজি হবে না।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বুধবার (৬ মে) সকালে একটি কূটনৈতিক প্রতিনিধি দল নিয়ে বেইজিং পৌঁছালে চীনা কর্মকর্তা এবং চীনে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত আবদোলরেজা রহমানি ফাজলি তাকে অভ্যর্থনা জানান।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ওয়াং এবং আরাঘচির মধ্যে অন্তত তিনবার ফোনালাপ হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফরের ঠিক আগমুহূর্তে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফর খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।

প্রেস টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপন্সিবল স্টেটক্র্যাফটের বোর্ড সদস্য আমির হানজানি বলেন, “শি জিনপিং ও ট্রাম্পের বৈঠকের আগে তেহরান ও বেইজিং তাদের স্বার্থের সমন্বয় করে নিচ্ছে।”

শীর্ষ সম্মেলনের আগে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকে পরস্পরের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে দেখা গেছে। গত সপ্তাহে চীন নজিরবিহীনভাবে ইরানি অপরিশোধিত তেল কেনায় চীনা শোধনাগারগুলোর ওপর ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞার পাল্টা জবাব দিয়েছে। চীন প্রথমবারের মতো একটি ‘ব্লকিং রুল’ জারি করে তাদের কোম্পানিগুলোকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা না মানার নির্দেশ দিয়েছে।

গত মাসে, চীন ও রাশিয়া মিলে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আনা একটি প্রস্তাব ভেটো দিয়ে বাতিল করে দেয়।

মঙ্গলবার, হরমুজ প্রণালি মার্কিন ও মিত্র দেশগুলোর জাহাজের জন্য খুলে দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে নতুন একটি প্রস্তাব পেশ করেছে। বাহরাইন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও কাতারের সমর্থনে আনা এই খসড়া প্রস্তাবটি নিয়ে রুদ্ধদ্বার আলোচনা চলছে, যা ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা বা বলপ্রয়োগের অনুমোদন দিতে পারে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই প্রস্তাবটিকে জাতিসংঘের কার্যকারিতার পরীক্ষা হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং চীন ও রাশিয়াকে পুনরায় ভেটো না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের ফেলো ড্যানি রাসেলের মতে, এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের কূটনৈতিক পরিকল্পনার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। তিনি বলেন, “ট্রাম্পের জন্য বেইজিংকে পাশে পাওয়া জরুরি যাতে তারা তেহরানকে নিয়ন্ত্রণ করে, ক্ষমতায়ন নয়।”

ঢাকা/ফিরোজ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়