ঢাকা     বুধবার   ০৬ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ২৩ ১৪৩৩ || ১৮ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

নাটোরে থোকায় থোকায় ঝুলছে আমজাদের স্বপ্ন  

নাটোর প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:৩২, ৬ মে ২০২৬   আপডেট: ১৩:৪০, ৬ মে ২০২৬
নাটোরে থোকায় থোকায় ঝুলছে আমজাদের স্বপ্ন  

আমজাদ হোসেনের আঙুর বাগান।

নাটোরে আঙুর চাষ করে সাফল্যের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা আমজাদ হোসেন। 

শহরতলির কান্দিভিটা এলাকায় পলিনেট হাউসে ঢুকলেই চোখে পড়ে মাচায় ঝুলে থাকা থোকা থোকা আঙুর। সবুজ পাতার ফাঁকে কোথাও লাল, কোথাও হলুদ-সবুজের মিশ্রণে রঙিন হয়ে উঠেছে আঙুর বাগান। দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, তেমনি স্বাদেও দারুণ—কোনোটা মিষ্টি, কোনোটা হালকা টক-মিষ্টি।

একসময় প্রচলিত ধারণা ছিল, আঙুর বিদেশি ফল। বাংলাদেশের আবহাওয়ায় চাষ করলে টক হয়। সেই ধারণা ভেঙে দিয়ে আমজাদ হোসেন প্রমাণ করেছেন, সঠিক পদ্ধতি ও যত্ন নিলে দেশীয় মাটিতেও উন্নত মানের মিষ্টি আঙুর ফলানো সম্ভব।

জানা গেছে, দেড় বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে রাশিয়ান ‘বাইকুনুর’সহ সাতটি জাতের আঙুর চাষ করছেন তিনি। শুরুটা ছিল শখের, তবে সময়ের সঙ্গে তা রূপ নিয়েছে লাভজনক খামারে। বর্তমানে তার বাগানে উৎপাদিত আঙুর স্থানীয় বাজারের চাহিদা মেটাচ্ছে। 

আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার, সঠিক সেচ ব্যবস্থা, নিয়মিত ছাঁটাই এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়াতে সক্ষম হয়েছেন আমজাদ। মৌসুমভিত্তিক আঙুর উৎপাদনের পাশাপাশি তিনি গড়ে তুলেছেন আদর্শ খামার, যা এখন হয়ে উঠেছে কৃষিশিক্ষার এক বাস্তব ক্ষেত্র।

প্রতিদিনই তার বাগানে ভিড় করছেন কৃষক, শিক্ষার্থী ও নতুন উদ্যোক্তারা। অনেকেই সরাসরি তার কাছ থেকে আঙুর চাষের কৌশল শিখছেন। আমজাদ হোসেন বলেন, “একসময় মনে করা হতো আমাদের দেশে আঙুর চাষ সম্ভব নয়। কিন্তু আমি দেখিয়েছি, সঠিক যত্ন ও প্রযুক্তি ব্যবহার করলে সফল হওয়া যায়। এখন অনেকে আমার কাছে পরামর্শ নিতে আসছেন—এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”

তিনি আরও জানান, কৃষি বিভাগের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ তার সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। বর্তমানে তিনি নিজেই নতুন উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন এবং আঙুর চাষে আগ্রহী করে তুলছেন।

দর্শনার্থী কানাইখালী এলাকার নিলা চৌধুরী বলেন, “আমরা আগে ভাবতাম আঙুর শুধু বিদেশেই হয়। কিন্তু এখানে এসে বুঝলাম, আমাদের এলাকাতেও এত সুন্দর আঙুর উৎপাদন সম্ভব। এটি সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।”

সিংড়া উপজেলার রানবাঘা গ্রামের মিষ্টি এক্কা বলেন, “আমজাদ ভাইয়ের বাগান দেখে আমিও আঙুর চাষ করার পরিকল্পনা করছি। তিনি নতুনদের অনেক সহায়তা করছেন।”

নলডাঙ্গা উপজেলার জাতীয় পদকপ্রাপ্ত কৃষক আতিকুর রহমান বলেন, ‘‘আমজাদের এই সাফল্য নাটোরে কৃষির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। তার মতো উদ্যোক্তাদের হাত ধরে এ অঞ্চলে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে, পাশাপাশি বেকার যুবকদের জন্য তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ। 

“ধানের বাইরে এসে আঙুর চাষ করলে কৃষক বেশি লাভবান হতে পারবেন। এটি আমাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে,’’ যোগ করেন আতিকুর রহমান। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান খান বলেন, “আমজাদ হোসেনের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি দেখিয়েছেন, সঠিক পরিকল্পনা ও প্রযুক্তি থাকলে আমাদের দেশের মাটিতেও উচ্চমূল্যের ফল চাষ সম্ভব। কৃষি বিভাগ তার এই উদ্যোগকে সহযোগিতা করছে।’’ 

ভবিষ্যতে আঙুর চাষ সম্প্রসারণে আরও কার্যক্রম নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। 

ঢাকা/আরিফুল// 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়