১১ বছরের শিশু অন্তঃসত্ত্বা: সেই শিক্ষক ৩ দিনের রিমান্ডে
নেত্রকোণা সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম
রিমান্ড মঞ্জুরের পর আদালত থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক আমানউল্লাহ সাগরকে নিয়ে যায় পুলিশ সদস্যরা।
নেত্রকোণার মদন উপজেলায় ধর্ষণের ফলে ১১ বছরের এক ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক আমানউল্লাহ সাগরের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহসিনা ইসলাম রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট নূরুল কবির রুবেল এ তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে, মঙ্গলবার (৫ মে) ভোর সোয়া ৪টার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আমানউল্লাহ সাগরকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১৪। বুধবার বিকেলে তাকে নেত্রকোণা জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মদন থানা পুলিশ সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে তাকে আদালতে সোপর্দ করে।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত আমানউল্লাহ সাগর উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ২০২২ সালে হজরত ফাতেমাতুজ যাহরা মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। সেখানে তিনি শিক্ষক ও পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার স্ত্রী একই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষিকা।
ভুক্তভোগী মেয়ে স্বামী পরিত্যক্তা নারীর একমাত্র সন্তান। জীবিকার প্রয়োজনে তার মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। এ কারণে শিশুটি নানির কাছে থেকে মাদ্রাসায় পড়ালেখা করত।
এজাহার অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে শিক্ষক আমানউল্লাহ সাগর শিশুটিকে ধর্ষণ করেন এবং বিষয়টি প্রকাশ না করতে প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরবর্তীতে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে কয়েক মাস ধরে মাদ্রাসায় যাওয়া বন্ধ রাখে। চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল ছুটি নেওয়ার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক আত্মগোপনে চলে যান। এ ঘটনায় গত ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে মদন থানায় মামলা করেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট নূরুল কবির রুবেল বলেন, “পুলিশের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। অভিযুক্ত শিক্ষক আমানউল্লাহ সাগর প্রাথমিকভাবে র্যাব ও পুলিশের কাছে ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। রিমান্ড শেষে আশা করছি ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটিত হবে।”
ঢাকা/ইবাদ/মাসুদ