৩০ মণের ‘রাজাবাবু’কে লোকজন দেখতে আসে
ফরিদপুর প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
চার বছরের রাজাবাবুর ওজন এখন ৩০ মণ
আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে ফরিদপুরের খামারিরা এখন শেষ মুহূর্তের ব্যস্ত সময় পার করছেন। জেলায় চাহিদার তুলনায় পশু বেশি রয়েছে। খামারিরাও লাভের আশা করছেন। এবার জেলায় আলোচনায় এসেছে নগরকান্দা উপজেলার দেবীনগর গ্রামের ৩০ মণ ওজনের ষাড়। সেটির নাম রাখা হয়েছে রাজাবাবু।
সরেজমিন দেখা যায়, দেবীনগর গ্রামের খামারি আদু মন্ডল চার বছর ধরে বিশাল দেহী গরুটিকে বড় করেছেন। প্রায় ৯ ফুট দৈর্ঘ্য আর ৬ ফুট উচ্চতার এই রাজাবাবুর ওজন প্রায় ১২০০ কেজি। প্রাকৃতিক আর দানাদার খাদ্যে বড় হওয়া শান্ত স্বভাবের গরুটিকে মানুষ দেখতে আসে।
গরুর মালিক আদু মন্ডল বলেন, “রাজাবাবুকে আমি নিজের সন্তানের মতো বড় করেছি। ক্ষতিকর ইনজেকশন বা ওষুধ তাকে দেওয়া হয়নি। মাঠে চাষ করা ঘাস আর ঘরোয়া খাবার খেয়ে সেটি এত বড় হয়েছে। শরীরটা পাহাড়ের মতো হলেও ও স্বভাবে শান্ত।’’
খামারে গরুর পরিচর্যায় দিনরাত পরিশ্রম করছেন আদু মন্ডলের স্ত্রী রুপালি খাতুন। তিনি বলেন, “রাজাবাবুকে আমরা পরিবারের একজন সদস্যের মতো দেখি। ওর পেছনে খাটুনি অনেক, কিন্তু যখন মানুষ দূর থেকে ওকে দেখতে আসে, তখন সব কষ্ট ভুলে যাই। আমাদের স্বপ্ন রাজাবাবু এবার ভালো দামে বিক্রি হবে।”
জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার ফরিদপুরে কোরবানির পশুর চাহিদা ৯০ হাজার ৮৬৪টি। এর বিপরীতে ৮ হাজার ১৬৯টি খামারে প্রস্তুত রয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ৩৬১টি পশু। অর্থাৎ চাহিদার চেয়ে ১২ হাজারের বেশি পশু জেলায় প্রস্তুত রয়েছে। তবে পশু খাদ্যের অস্বাভাবিক দাম বাড়ায় লাভ নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তায় আছেন খামারিরা।
ফরিদপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ. কে. এম আসজাদ বলেন, “আমাদের টিম মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত কাজ করছে। আমরা অসুস্থ পশুদের ভ্যাকসিন দিচ্ছি এবং খামারিদের পরামর্শ দিচ্ছি। বিশেষ করে কেউ যেন গরু দ্রুত মোটাতাজা করতে ক্ষতিকর হরমোন বা ইনজেকশন ব্যবহার না করে, সেদিকে কড়া নজরদারি রয়েছে। পশুখাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় এবার খামারিদের হয়ত অল্প লাভে সন্তুষ্ট থাকতে হতে পারে, তবে পশুর স্বাস্থ্য নিয়ে আপস করছি না।”
ঢাকা/তামিম/বকুল
ঈদুল আজহায় ছুটি ৭ দিন, প্রজ্ঞাপন জারি