ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ১৪ মে ২০২৬ ||  চৈত্র ৩১ ১৪৩৩ || ২৭ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

জাবিতে ‘জোহারি উইন্ডো’র নতুন ব্যাখ্যা, সাংবাদিকতা বিভাগের ব্যতিক্রমী আয়োজন

জাবি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:২৭, ১৪ মে ২০২৬   আপডেট: ১৯:২৮, ১৪ মে ২০২৬
জাবিতে ‘জোহারি উইন্ডো’র নতুন ব্যাখ্যা, সাংবাদিকতা বিভাগের ব্যতিক্রমী আয়োজন

প্রচলিত ‘জোহারি উইন্ডো’ তত্ত্বের সীমাবদ্ধতাকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করে আত্ম-উপলব্ধি ও যোগাযোগের ভিন্ন মাত্রা তুলে ধরতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী এক একাডেমিক প্রদর্শনী। এতে শিক্ষার্থীরা ‘উইন্ডো’র পরিবর্তে নতুন ‘ডোর’ ধারণা উপস্থাপন করেন।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলাভবন প্রাঙ্গণে ‘জোহারি উইন্ডোর দিন শেষ: ছয়টি ডোর, ছয়টি চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

আরো পড়ুন:

বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সালমা আহমেদ এবং বিভাগের ৫৩ তম আবর্তনের শিক্ষার্থীদের যৌথ উদ্যোগে ‘জেইউএমএস ২০২: আন্তঃব্যক্তিক ও গোষ্ঠী যোগাযোগ’ কোর্সের অংশ হিসেবে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।

১৯৫৫ সালে জোসেফ লুফট ও হ্যারিংটন ইনহাম প্রবর্তিত ‘জোহারি উইন্ডো’ দীর্ঘদিন ধরে মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে ব্যবহৃত হলেও, বর্তমান ডিজিটাল যুগে আত্মপরিচয় ও যোগাযোগের বহুমাত্রিকতা বিবেচনায় শিক্ষার্থীরা এর বিকল্প ভাবনার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। সেই প্রেক্ষাপটে তারা ‘উইন্ডো’র পরিবর্তে ‘ডোর’ ধারণা উপস্থাপন করেন, যেখানে ব্যক্তি নিজের ইচ্ছামতো পরিচয়ের স্তরগুলো খুলতে, আংশিক উন্মুক্ত রাখতে বা সম্পূর্ণ গোপন রাখতে পারেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, কোর্স চলাকালে শিক্ষকদের উৎসাহে তারা শুধু তত্ত্ব মুখস্থ না করে বাস্তবতা ও অভিজ্ঞতার আলোকে নতুন কাঠামো তৈরির চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় তারা ছয়টি দলে বিভক্ত হয়ে নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে ছয়টি ভিন্ন ‘ডোর মডেল’ নির্মাণ করেন।

প্রদর্শনীতে উপস্থাপিত মডেলগুলোর মধ্যে ছিল—‘অপরাজিতা ডোর’, যেখানে সম্পর্কের গভীরতার ওপর আত্মপ্রকাশ নির্ভরশীল; ‘আরনাস ডোর অব ফান’, যা ডিজিটাল পরিচয় ও বাস্তব সত্তার দ্বন্দ্ব তুলে ধরে; ‘মাইন্ডস্কেপ এন্ট্রি’, যেখানে আত্মপরিচয়কে একটি চলমান মানসিক যাত্রা হিসেবে দেখানো হয়েছে।

এ ছাড়া ‘সেলফ অ্যাওয়ারনেস ডোর’-এ অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আত্মসচেতনতার বিকাশ, ‘ঘূর্ণায়মান ডোর’-এ আত্মপ্রকাশের পরিবর্তনশীলতা এবং ‘রিসোর্স ডোর’-এ ব্যক্তির সুপ্ত সম্ভাবনা ও বিকাশের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

আয়োজকরা জানান, এই প্রদর্শনী আত্ম-উপলব্ধি ও পারস্পরিক যোগাযোগের জটিলতা নতুনভাবে অনুধাবনের একটি সৃজনশীল প্রয়াস। তাদের মতে, এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রচলিত তাত্ত্বিক কাঠামোকে সমসাময়িক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে নতুন চিন্তার দিগন্ত উন্মোচন করেছেন।

ঢাকা/আহসান/জান্নাত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়