বড় গ্রাহকদের ঋণ সীমায় ছাড় দিল বাংলাদেশ ব্যাংক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম
বাংলাদেশ ব্যাংক বড় গ্রাহকদের ঋণ ও একক গ্রাহক ঋণসীমা সংক্রান্ত নীতিতে ছাড় দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও শিল্প খাতের অর্থায়ন সহজ করতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কোনো একক ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপের মোট ঋণ -ফন্ডেড ও নন ফান্ডেড মিলিয়ে একটি ব্যাংকের মূলধনের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ সুবিধা দিতে পারবে। আগে এই সীমা ছিল ১৫ শতাংশ।
বুধবার (১৪ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়।
২০২২ সালের নির্দেশনায় বলা হয়, কোনো একক গ্রাহক বা গ্রুপের ক্ষেত্রে অর্থায়নের সীমা হবে ব্যাংকের মূলধনের ১৫ শতাংশ। নতুন সিদ্ধান্তে সেই সীমা বাড়ানো হয়েছে।
একই সঙ্গে নন-ফান্ডেড ঋণের ক্ষেত্রে হিসাবের নিয়মেও বড় ধরনের ছাড় দেওয়া হয়েছে। আগে নন-ফান্ডেড এক্সপোজারের ৫০ শতাংশ হিসাবের মধ্যে ধরা হতো। এখন তা কমিয়ে ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ ব্যাংকগুলোকে বড় ঋণের হিসাব করতে এখন কম পরিমাণ নন-ফান্ডেড দায় গণনা করতে হবে। এর ফলে ব্যাংকগুলো এলসি, গ্যারান্টি ও ট্রেড ফাইন্যান্সভিত্তিক সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি সুযোগ পাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ধাপে ধাপে আগের কাঠামোতে ফিরে যাওয়া হবে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী এই সুবিধা ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত নন ফান্ডেড এক্সপোজারের কনভার্সন ফ্যাক্টর ২৫ শতাংশ কার্যকর থাকবে। এরপর ধাপে ধাপে এই হার বাড়ানো হবে। ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ তা ৩০ শতাংশ, ২০২৮ সালের শেষে ৪০ শতাংশ এবং ২০২৯ সালের শেষে ৫০ শতাংশে উন্নীত করা হবে। ২০৩০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আগের নিয়ম পুরোপুরি কার্যকর হবে।
এ ছাড়া বড় ঋণ পোর্টফোলিওর সীমাও নতুনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনো ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার যত কম হবে, সে ব্যাংক তত বেশি বড় ঋণ দিতে পারবে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী , কোনো ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ১০ শতাংশ বা তার কম হলে মোট ঋণ ও অগ্রিমের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ বড় ঋণ হিসেবে রাখা যাবে। আবার খেলাপি ঋণের হার ৩০ শতাংশের বেশি হলে বড় ঋণের সীমা নেমে আসবে ৩০ শতাংশে। তবে সব ক্ষেত্রেই ব্যাংকের মোট বড় ঋণের পরিমাণ মূলধনের ৬০০ শতাংশের বেশি হতে পারবে না বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে। আগে বড় ঋণের সর্বোচ্চ সীমা ছিল ব্যাংকের মূলধনের ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, সংশোধিত এই বিধান আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এরপর ২০২৮ সালের শুরু থেকে আগের নীতিমালার বিধান পুনরায় কার্যকর হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প খাতের আন্তর্জাতিক অর্থায়ন সহজ করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ নির্দেশনা জারি করেছে, যা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।
ঢাকা/নাজমুল/বকুল
ঈদুল আজহায় ছুটি ৭ দিন, প্রজ্ঞাপন জারি