পুকুর থেকে ব্র্যাকের দুই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার, চিকিৎসকের কিছু ভিন্ন কথা
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
ব্র্যাকের দুই শিক্ষার্থী।
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার পশ্চিম দেওভোগ এলাকায় পুকুরে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন সঙ্গে থাকা বন্ধু, সহপাঠী ও পরিবারের সদস্যরা।
শুক্রবার (২২ মে) বিকেল ৪টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- শহরের পশ্চিম দেওভোগ এলাকার মৃত মোস্তাকুর রহমানের ছেলে সোপান (২২) এবং তার বন্ধু একই গ্রামের রিপনের ছেলে আজওয়ার (২২)। তারা দুজনেই কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
নিহতদের বন্ধু মাসুদ জানান, ঢাকা থেকে তারা ১৫ বন্ধু মিলে মুন্সীগঞ্জের পশ্চিম দেওভোগ এলাকায় সোপানের গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। সবাই ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। শুক্রবার বিকেলে সোপান ও আজওয়াদ স্থানীয় একটি পুকুরে গোসল করতে নামেন। একপর্যায়ে তারা দুজনেই গভীর পানিতে তলিয়ে যেতে থাকে।
মাসুদ বলেন, “আমাদের কেউ সাঁতার না জানায় তাৎক্ষণিক তাদের বাঁচাতে পানিতে নামতে পারিনি।”
মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ ইউসুফ আলী সরকার বলেন, “বিকেল ৫টার দিকে মৃত অবস্থায় দুজনকে হাসপাতালে আনা হয়। যারা নিয়ে এসেছেন তাদের ভাষ্যমতে, পুকুরে পরে মারা গেছেন। যেহেতু এটা অপমৃত্যু, তাই আমরা পুলিশে কল করি। নিয়ম অনুযায়ী, এখন ময়নাতদন্ত হবে। প্রাথমিকভাবে আমাদের মনে হয়েছে, এটা ন্যাচারাল না; আনন্যাচারাল কিছু থাকতেও পারে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।”
প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর হোসেন ঢালী বলেন, “বন্ধুদের ডাক-চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে পুকুর থেকে সোপান ও আজওয়ারকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে তাদের মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।”
নিহত সোপানের চাচা জাহাঙ্গীর বলেন, সোপানের দাওয়াতে তার বন্ধুরা ঢাকা থেকে মুন্সীগঞ্জ বেড়াতে আসে। দুপুরে খাওয়া-দাওয়া শেষে বন্ধুদের কেউ ছাদে, কেউ রুমে ছিল। সোপান ও আজওয়ার পুকুরে গেছে গোসল করতে। সোপান সাঁতার জানত, তবে আজওয়ার সাঁতার জানত না। ধারণা করছি, আজওয়ার পানিতে পড়ে গেলে সোপান তাকে বাঁচাতে গিয়ে দুজনই ডুবে যায়। ছাঁদে থাকা বন্ধুরা তাদের পুকুরে ডুবতে দেখে ছুটে আসে। প্রায় ১৫ মিনিট পরে দুজনকে উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
মুন্সীগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কামরান হোসেন বলেন, “খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ হাসপাতাল ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।”
ঢাকা/রতন/রাজীব
এক মাসের মধ্যে রামিসা হত্যার বিচার হবে: প্রধানমন্ত্রী