টঙ্গীতে দুই যুবককে অপহরণের অভিযোগ, ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার
গাজীপুর পূর্ব প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পশ্চিম থানা এলাকায় দুই যুবককে অপহরণ করে আটকে রেখে নির্যাতন, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া এবং মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— টঙ্গীর বড় দেওড়া ফকির মার্কেট এলাকার বাসিন্দা তারেক হোসেন (১৯) এবং আফসানা আক্তার আঁখি (২৮) ও তার বোন নদী (২৬)। আঁখি ও নদী সহোদর বোন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর জেলার ফটিয়ামারী এলাকার বাসিন্দা সালেহীন মিয়া (২৮) বর্তমানে টঙ্গীর বড় দেওড়া এলাকায় বাস করেন। বিদেশ গমনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তিনি তার বন্ধু টিটু মিয়ার সঙ্গে আশুলিয়ার গৌরিপুরের একটি ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টারে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন।
গত ১৬ জুন রাত ৯টার দিকে প্রশিক্ষণ শেষে বাসায় ফেরার পথে টিটু মিয়া ফোন করে সালেহীনকে বড় দেওড়া এলাকার একটি বহুতল ভবনের চতুর্থ তলার একটি কক্ষে যেতে বলেন। সেখানে পৌঁছানোর পর সালেহীন কক্ষে প্রবেশ করলে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময় তিনি দেখতে পান, তার বন্ধু টিটু মিয়া আহত অবস্থায় একটি খাটের ওপর বসে আছেন এবং তার শরীর থেকে রক্ত ঝরছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, এরপর দুজনের চোখ বেঁধে ভবনের ছাদে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ধারালো অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে সালেহীনের কাছ থেকে ১৬ হাজার টাকা ও প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ টাকা দামের একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। টিটু মিয়ার কাছ থেকেও ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।
পরে অপহরণকারীরা সালেহীনের পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা এবং টিটু মিয়ার পরিবারের কাছে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। দাবি করা অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানানো হলে সারা রাত তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভীতি প্রদর্শন করে। পরে বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে উভয় পরিবারের কাছ থেকে মোট ৪০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। এরপরও অতিরিক্ত অর্থের জন্য চাপ অব্যাহত রাখা হয়।
পরদিন ১৭ জুন সকালে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার কথা বলে দুই যুবককে আশুলিয়ার গৌরিপুরে নেওয়া হয়। সকাল ১০টার দিকে সালেহীন মিয়াকে মোটরসাইকেলে করে ট্রেনিং সেন্টারে আনা হলে তিনি সুযোগ বুঝে নিজেকে অপহরণের শিকার দাবি করে চিৎকার শুরু করেন। তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ও ট্রেনিং সেন্টারের কর্মীরা এগিয়ে এসে সঙ্গে থাকা এক অভিযুক্তকে আটক করে গণধোলাই দেন।
খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সালেহীন মিয়া ও আটক ব্যক্তিকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে আশুলিয়া থানা পুলিশ তাদেরকে টঙ্গী পশ্চিম থানায় হস্তান্তর করে।
মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে তারেক হোসেন (১৯), আরিফ মাতাব্বর (৩৫), প্রাপ্ত (২২), আফসানা আক্তার আঁখি (২৮) ও নদীর (২৬) নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী সালেহীন মিয়া জানিয়েছেন, পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের সঙ্গে পরামর্শ করে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বলেছেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর তা মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে হানি ট্র্যাপ ও অপহরণ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”
ঢাকা/রফিক সরকার/রফিক
হাম উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১০০৯