ঢাকা     মঙ্গলবার   ০৩ মার্চ ২০২৬ ||  ফাল্গুন ১৮ ১৪৩২ || ১৩ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ভারতে ট্রেনের টয়লেট থেকে উদ্ধার অচেতন বাকৃবি শিক্ষার্থী এখন আইসিইউতে

বাকৃবি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:০৪, ৩ মার্চ ২০২৬   আপডেট: ১৭:০৭, ৩ মার্চ ২০২৬
ভারতে ট্রেনের টয়লেট থেকে উদ্ধার অচেতন বাকৃবি শিক্ষার্থী এখন আইসিইউতে

বর্তমানে জীম কলকাতার মনিপাল হাসপাতালে আইসিইউতে রয়েছেন

ভারতের একটি ট্রেনের টয়লেট থেকে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক তানিউল করিম জীমকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি কলকাতার মনিপাল হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

রবিবার (১ মার্চ) ভারতের ব্যাঙ্গালুরু থেকে কলকাতা ফেরার পথে এ ঘটনা ঘটে।

আরো পড়ুন:

তানিউল করিম জীম বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সিনিয়র সদস্য। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের স্নাতকোত্তর থিসিসের শিক্ষার্থী।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ২১ ফেব্রুয়ারি মেডিকেল ভিসা নিয়ে তার চাচার সাথে ভারতে যান জীম। ১ মার্চ সকালে ভারতের ব্যাঙ্গালুরু থেকে তার চাচার সাথে ট্রেনে করে কলকাতা আসার পথে ট্রেনের ভেতরেই নিখোঁজ হন জীম। দীর্ঘ ১২ ঘণ্টা খোঁজাখুঁজির পর ট্রেনের টয়লেট থেকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

এরপর ট্রেনটি কলকাতায় পৌঁছালে তাকে প্রথমে হাওড়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সিটি স্ক্যান রিপোর্টে তার মাথার পেছনে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ধরা পড়ে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে পরে কলকাতার মনিপাল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে জীম হাসপাতালের আইসিইউতে রয়েছেন।

পরিবারের সদস্য হিসেবে একমাত্র তার চাচাই তার সাথে আছে। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তার চাচা জানান, '৪৮ ঘন্টা পার হলেও জীমের এখন পর্যন্ত জ্ঞান ফেরেনি। জ্ঞান ফেরার পর শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করে অস্ত্রোপচারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় গভীর উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন তার পরিবার, সহকর্মী ও বাকৃবিয়ানরা। পরিবারের কারো ভিসা না থাকায় এই কঠিন মুহূর্তে পরিবার তার পাশে থাকতে পারছে না। ভারতের অবস্থানরত বাংলাদেশিদের কাছে তার পাশে দাঁড়ানোর জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন পরিবার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

এদিকে, ছেলের চিকিৎসায় পাশে থাকতে দ্রুত ভিসার জন্য ভারতের হাই কমিশন ও বাংলাদেশ সরকারের সহায়তা চেয়েছেন জীমের ছোট ভাই তানিউল করিম মিম।

তিনি বলেন, “আমরা ভারতীয় হাই কমিশন ও আমাদের সরকারের কাছে সহযোগিতা কামনা করছি। আমাদের পরিবারের কোনো সদস্য বর্তমানে তার পাশে নেই। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভিসার ব্যবস্থা করে দিলে আমরা ভাইয়ের পাশে থাকতে পারতাম। অনুরোধ করছি, মানবিক দিক বিবেচনা করে আগামী দু-একদিনের মধ্যে আমাদের ভিসা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।”

দেশবাসীর কাছে জীমের দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়েছেন তার পরিবার ও সহকর্মীরা। তারা আশা প্রকাশ করছেন, উন্নত চিকিৎসা পেলে জীম দ্রুত সুস্থ হয়ে সবার মাঝে ফিরে আসবেন।

ঢাকা/লিখন/জান্নাত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়