Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     মঙ্গলবার   ১৫ জুন ২০২১ ||  আষাঢ় ১ ১৪২৮ ||  ০৩ জিলক্বদ ১৪৪২

ভালোবাসায় সিক্ত থাকুক পৃথিবীর সব মা

শাপলা খাতুন || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:৪৩, ৯ মে ২০২১  
ভালোবাসায় সিক্ত থাকুক পৃথিবীর সব মা

‘মা কথাটি ছোট্ট অতি, কিন্তু জেনো ভাই, ইহার চেয়ে নাম যে মধুর, ত্রিভূবনে নাই।’ মা একটি ছোট্ট শব্দ কিন্তু এর গভীরতা ঢের। এই ‘মা’ শব্দটি কখনো মাতা, কখনো জননী, কখনো জন্মদাত্রী, কখনো বা মাতৃস্থানীয়া নারী আবার কখনো কন্যা বা কন্যাস্থানীয়া নারীকে সম্বোধনে ব্যবহৃত হয়। 

মা শব্দে কোনো কৃত্রিমতা নেই, সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে প্রাপ্ত সব নিয়ামতের মধ্যে মা শ্রেষ্ঠ নিয়ামত। একটু খেয়াল করলেই দেখবেন, আমি বা আপনি সাধারণত যখন বিস্ময়-যন্ত্রণা প্রকাশ করি, তখন ‘মা’ শব্দটাই প্রথম ব্যবহার করে থাকি। এই যে ‘মা’ শব্দের ব্যবহার অবিরতভাবে কোনো না কোনো ঘটনার প্রেক্ষিতে ঘটে চলছে, তার মধ্যখানে কোনো কৃত্রিমতা নেই। 

আজ মা দিবস। মাকে ভালোবাসা জানানোর জন্য আলাদা দিনের প্রয়োজন পড়ে না। প্রতিদিন, প্রতিক্ষণই মায়ের প্রতি ভালোবাসা আমাদের হৃদয়জুড়ে থাকে। এরপরও দেশে দেশে বিশেষ দিনে মা দিবস পালনের রীতি দেখা যায়। সব দেশে একই দিনে মা দিবস পালিত হয় না। ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় রবিবার নরওয়েতে, মার্চের চতুর্থ রবিবার আয়ারল্যান্ড, নাইজেরিয়া ও যুক্তরাজ্যে। আর বাংলাদেশে মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার মা দিবস পালন করা হয়। 

মা দিবসের মূল উদ্দেশ্য, মাকে যথাযথ সম্মান দেওয়া। যে মা জন্ম দিয়েছেন, লালন-পালন করেছেন, তাকে শ্রদ্ধা দেখানোর জন্য দিনটি পালন করা হয়। এই দিনে মাকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানায় সন্তানেরা। কেউ মাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়, কেউ বা দেয় কার্ড। মাকে উপহারও দিয়ে থাকেন কেউ কেউ। মাকে সঙ্গে নিয়ে কেক কাটা বা বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজনও লক্ষ করা যায়। কেউবা এসব না করে শুধুই বলেন, ‘মা, তোমায় অনেক ভালোবাসি।’ 

মা পরিবারের সব কাজ করে থাকেন, নিজে না খেয়ে সন্তানকে খাওয়ান। বিশেষ কোনো অনুষ্ঠান, ঈদ উৎসবে নিজে নতুন কাপড় না কিনে সন্তানদের কিনে দেন। সন্তানের খুশিতে মায়ের মুখে খুশির ঝিলিক ফুটে ওঠে। মা শিক্ষিত হন বা অশিক্ষিত, আমাদের পড়ালেখার হাতেখড়ি মায়ের হাতেই হয়ে থাকে। মায়ের ভাষা আমাদের মুখের প্রথম বুলি হয়। নৈতিকতা, বুদ্ধিমত্তা আমরা আমাদের মায়ের কাছেই শিখে থাকি। নেপোলিয়ন বোনাপার্ট বলেছেন, ‘তোমরা আমাকে শিক্ষত মা দাও, আমি তোমাদের শিক্ষিত জাতি উপহার দেব।’ 

কোনো একটা বিষয় মায়েদের দুইবার ভাবতে হয়–একবার তার সন্তানের জন্য আরেকবার নিজের জন্য কিন্তু পরিবারে অনেক সময় মায়েরা তাদের ন্যায্য সম্মান পান না। অনেক সময় সন্তানেরা মায়ের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে থাকে। বৃদ্ধ বয়সে মায়ের শেষ আশ্রয় হয় বৃদ্ধাশ্রম। মায়েরা সারাজীবন পরিবার ও সন্তানের জন্য সর্বদা নিজের শখ আহ্লাদ বিসর্জন দিয়ে থাকেন কিন্তু তারা তাদের সম্মান থেকে বঞ্চিত হন। মায়ের প্রতি সদা সদাচরণ করতে হবে। তাদের সব আদেশ উপদেশ মেনে চলা আমাদের জন্য অত্যাবশ্যক। 

মায়ের প্রতি সদ্ব্যবহার, বিনয় ও শ্রদ্ধা প্রদর্শনের জন্য পবিত্র কুরআন ও হাদিসে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইসলামে মায়ের সম্মানকে তিনগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেশত (মুসলিম)।’

মায়েরা অনেক কষ্ট করে আমাদের গর্ভে ধারণ করেন, প্রতিপালন করেন। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আমি মানবজাতিকে নির্দেশ দিয়েছি তারা যেন তাদের পিতা-মাতার সঙ্গে সুন্দর আচরণ করে; তার মা তাকে অতিকষ্টে গর্ভে ধারণ করেছেন ও অতিকষ্টে প্রসব করেছেন এবং লালন-পালন করেছেন।’

মায়ের প্রতি ভালোবাসা ব্যক্ত করার অভিপ্রায় আমরা খুঁজে পাই না। সারাজীবন মাকে ভালোবাসলেও আমাদের মন তৃপ্ত হবে না। যে পরিবারে বাবা থাকেন না, সেই পরিবারে মা একাই বাবা-মা দুজনের দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিটি মা একজন যোদ্ধা। আমাদের সবার উচিত মাকে ভালোবাসা, সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রদর্শণ করা। প্রবীণ বয়সে মায়ের যত্ন নেওয়া, তাদের সব প্রয়োজন নজরদারিতে রাখা। মা হিসেবে তাদের সম্মান দেওয়া, নারী হিসেবে সম্মান দেওয়া, মা জাতি হিসেবে তাদের  সম্মান দেওয়া আমাদের সবার নৈতিক দ্বায়িত্ব। আব্রাহাম লিঙ্কন বলেছেন, ‘যার মা আছে সে কখনোই গরীব নয়’। ভালো থাকুক পৃথিবীর সব ‘মা’। মা দিবসে মায়েদের জানাই অনেক শুভেচ্ছা, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। 

লেখক: সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

জবি/মাহি 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়