Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     মঙ্গলবার   ১৫ জুন ২০২১ ||  আষাঢ় ১ ১৪২৮ ||  ০৩ জিলক্বদ ১৪৪২

গর্ব করে বলতে চাই আমি ‘এসইউবিয়ান’

হাকিম মাহি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:১১, ১৮ মে ২০২১   আপডেট: ১৭:৫৪, ১৯ মে ২০২১
গর্ব করে বলতে চাই আমি ‘এসইউবিয়ান’

সেদিন ছিল ২৩ মে ২০১৫।  সকাল থেকেই একটু বেশি ভালো লাগা কাজ করছে। কারণ, সেদিন ছিল আমার উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের প্রথম দিন ‘নবীনবরণ’।  সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠে ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে পড়লাম ভার্সিটির উদ্দেশে। পৌঁছে গেলাম ৯টার মধ্যে। সেদিন আর সকালে নাস্তা করতে মন চাইলো না। কেন যেন আনন্দে পেট ভরে গেছে। সহপাঠীরা রীতিমতো সবাই উপস্থিত। কিন্তু মুখগুলো সবই অপরিচিত। দু’জন সিনিয়রকে তো বিভাগের শিক্ষকই ভেবেছিলাম।

তাদের কাছে জিজ্ঞাসা করেছি, স্যার আমি হাকিম মাহি, জার্নালিজম, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের সপ্তম ব্যাচে ভর্তি হয়েছি। আজ আমাদের নবীনবরণ। ভাববোই বা-না কেন? তাদের একজনের নাম খাইরুল ইসলাম বাশার, তার মুখে বড় বড় গোঁফ ছিল, এই মোটাসোটা ছিলেন। আরেকজন ছিলেন ফারুক আহমদ আরিফ, তার মাথায় চকচকা টাক ছিল, চুল যা ছিল, বেশির ভাগই পাকা। স্যার না বলে উপায় কী! তারা মিটমিট করে হাসছেন, কিন্তু পরিচয় দেননি। হাত দিয়ে দেখিয়ে দিলেন ওপরে ‘২০৫ রুম’।

সোজা সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় চলে গেলাম।  দেখলাম অনেক কচি কচি মুখ, অনেকের গোঁফ গজিয়েছে, অনেকের গজায়নি। কেউ কারও সঙ্গে কথা বলছে না। বলবে কী করে, একটু হৈচৈ করলে সিনিয়ররা চোখ রাঙানি দেন, এ দেখেই জুনিয়ররা চুপ মেরে যায়। যাদের চোখ দেখে ভয় পেতাম, তাদের মধ্যে দোলা আপু, লালচান ভাই, আশা আপু, আসাদুল্লাহ ভাই, সাকের গাজী ভাই অন্যতম। আমার ব্যাচেও দুজন ছিল, একজন ইউসুফ মাহমুদ ওরফে কাকা, প্রথম দিন ওর মুখের দাড়ি-গোঁফ দেখে তো আমরা ভাবছি আমাদের নতুন অধ্যাপক। আরেকজন অনির্বাণ, ওকে দেখে আজও মনে হবে তামিল ছবির ভিলেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ওরাই ছিল বেশি নিরীহ ও প্রেমিক পুরুষ।

সকাল ১১টা, সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুরু হলো আমাদের নবীনবরণ। শিক্ষকরা বসে আছেন সামনের সারিতে। আমি মাঝের সারিতে বসা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করছেন প্রথম আমার যাদের শিক্ষক মনে হয়েছে, তারা।  মনোযোগ দিয়ে শুনছি।  কত সুন্দর করে ছন্দে ছন্দে সঞ্চলনা! আজও চেষ্টা করছি তাদের মতো সঞ্চালক হতে। আমাদের সিনিয়ররা ফুল দিয়ে বরণ করে নিচ্ছেন আমাদের।  আমাকে ফুল একটা বেশি দিলেন, কারণ আমাকে সবচেয়ে বেশি ছোট দেখায়, সাইজে ছোট ছিলাম, কিন্তু বাস্তবে আমার ব্যাচে আমিই সবার চেয়ে সম্ভবত ১/২ বছরের বড়।  আমার কিছু স্টাডি গ্যাপ ছিল। সম্ভবত কেন বললাম, বন্ধু সৌরভ ও ইউসুফ সাইজেও পাকা ছিল, দেখতেও মুরব্বি মুরব্বি দেখাতো, কিন্তু ভার্সিটিতে প্রেম করবে বলে আসল বয়স বলতো না।

যাই হোক নবীনবরণ অনুষ্ঠান এগিয়ে যাচ্ছে। আমি এদিক-সেদিক তাকাচ্ছি, দেখছি কোনো বড় আপুর প্রতি ক্রাশ খাওয়া যায় কি না।  কিন্তু কেমনে, যেই আপুর দিকে একটু বেশি তাকাই, সেই চোখ রাঙানি দেয়। প্রেম আর জাগে না। হঠাৎ মাইক্রোফোনে জানালো নবীনদের মধ্য থেকে কে কে অনুভূতি শেয়ার করতে চায়, আমি মাথামুণ্ড না ভেবে হাত তুললাম।  আর কেউ সাহস করলো না। তাই আমাকেই পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে সামনে পাঠিয়ে দেওয়া হলো।  আমিও মাইক্রোফোন হাতে পেয়ে শুরু করলাম রাজনৈতিক মঞ্চের বক্তৃতা। মাদ্রাসার ব্যাকগ্রাউন্ড তো, মাঝে সম্মানিত শিক্ষকের জায়গায় শ্রদ্ধেয় ‘উস্তাদ’ বলে ফেলেছি।  সেই শব্দটাই আমার ভার্সিটি জীবনে বন্ধু ও বড় ভাই-আপুদের ‘চেতানোর’ কারণ হয়ে দাঁড়ালো।

বক্তৃতায় ৭ মিনিট হয়ে গেছে, ভুলভাল অনেক কিছুই বলেছি, এবার মাইক্রোফোন আর ছাড়ছি না দেখে আমার সামনে দাঁড়ানো বড়রা সেই রকমভাবে চোখ রাঙাচ্ছেন, এবার আর ভয় পাচ্ছি না, চালিয়ে গেলাম ১৩ মিনিট। পরে দর্শকদের ধৈর্যের শেষ সীমানায় গিয়ে মাইক্রোফোন ছেড়ে দিলাম। আমাকে মনে হলো উঁচু করে নিয়ে সিটে বসালো। মনে হলো সবাই বক্তব্যের অত্যাচার থেকে বাঁচলো। সেই থেকে গত চার বছর ভার্সিটির যত অনুষ্ঠানে মঞ্চে উঠেছি স্যার-ম্যাম থেকে শুরু করে সিনিয়র এবং বন্ধুরাও আগে বলে দিয়েছেন, সময়মতো মঞ্চ ছাড়বা, নাহয় খবর আছে মাহি। কিন্তু কথার মধ্য ভালোবাসা লুকানো ছিল।

নবীনবরণের অনুষ্ঠান শেষ, সবাই আমাদের বিভাগে চলে আসলাম, সিনিয়ররা আমাদের র‌্যাগ দেবেন বলে ডাকলেন, এখানে র‌্যাগ মানে মারাত্মক কিছু না, শুধু পরিচয়পর্ব। সবাই ভয়ে ভয়ে আসলাম। কারণ, এর আগে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভয়ঙ্কর কিছু ঘটনার কথা জানি। যদিও আমাদেরটার সঙ্গে সেগুলোর মিল নেই। স্টেট ইউনিভার্সিটি মানেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভালোবাসার, হৃদ্যতার সম্পর্ক। বিশ্ববিদ্যালয়টা আকারে ছোট হতে পারে, কিন্তু ভালোবাসা, শ্রদ্ধাবোধ ও সুপঠন-পাঠনে দেশে এক অনন্য উদাহরণ। এই র‌্যাগ ডের মাধ্যমেই আমরা সিনিয়র-জুনিয়র একে-অন‌্যকে চিনতে পারলাম।  যেই বন্ধন আজও অটুট রয়েছে।

পরদিন থেকেই ক্লাস শুরু। প্রথম দিন ক্লাসে এলাম, এর আগের দিন কিছুটা পরিচয় হয়েছে বন্ধুদের সঙ্গে, এজন্য সবার সঙ্গে মিশতে তেমন সমস্যা হলো না।  কিন্তু আমাদের ব্যাচে ছেলেদের সংখ্যা ২৩ জন, কিন্তু মেয়ে কেবল একজন। তাই শিক্ষকরা ক্লাসে ঢুকেই বলেন, তানিয়া তোমার কোনো ভয় নেই, ছেলেরা সবাই তোমার ভাই, তোমার বন্ধু। আমরা তো আছি-ই। সবাই তোমাকে হেল্প করবে। ভালোই চলছিল ক্লাস, কিন্তু হঠাৎ মেয়েটা এসির ঠাণ্ডায় অজ্ঞান। আমরা দেখলাম ওর হাত-পা বরফের মতো হয়ে গেছে, সবাই মিলে ওকে এসি থেকে বের করে আনলাম। কেউ হাতে মালিশ করছি, কেউ পায়ে, সবমিলে ২০/২৫ মিনিট পর স্বাভাবিক হলো।

মনে হয়েছে ওইদিন মেয়েটা একা থাকায় নার্ভাস হয়েছিল, ভয় পেয়েছিল।  তবে, সত্য বলছি, আমাদের একমাত্র বান্ধবী তানিয়া ভাসির্টি জীবনে আমাদের দেখে একবার ভয় পেয়েছিল, কিন্তু আমরা ২১ জন বন্ধু গত চার বছর ওকে ভয় পেতাম। যখন-তখন আমাদের ধরে মারধর করতো, পকেট মারতো, খাবার নিয়ে কেড়ে খেতো, নরকে গেলেও ওকে ছাড়া যাওয়া যেত না। আমরা মাঝেমধ্যে ওকে দাওয়াত দিতে ভুলে যেতাম, কিন্তু উপস্থিত হতে ভুলতো না। সবার ওপর একচ্ছত্র বন্ধুত্বের প্রভাব খাটাতো। ওকে আজও আমরা ২১ ভাইয়ের এক বোন ভাবি। ২০১৯ সালের মে মাসে আমাদের অনার্স জীবন শেষ হয়েছে, কিন্তু ওর ভালোবাসা, দাবি, খুনসুটি একটুও কমেনি, বরং বেড়েছে। তবে এখন আর তেমন দেখা হয় না। তাতে কি, মোবাইলফোন তো আছে, মনে হয় ও কাছেই আছে।

পরে অবশ‌্যই আরও দুজন বান্ধবী আমাদের সঙ্গে যোগ হয়েছিল, যাদের আমরা বলতাম রোহিঙ্গা। একজনের নাম ছিল মানসী চক্রবর্তী ও আমাদের সঙ্গে বেশি দিন পড়েনি। দুই বা তিন সেমিস্টার ছিল, তারপর কোলকাতায় রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স হওয়ায় ও চলে যায়। ওর একটা গুণ ছিল, খুব ভালো গান করতে পারতো।  ওর গান আজও মিস করি। বন্ধু তো, ভোলা কঠিন।

আরেকজন বান্ধবী, নাম তানিয়া। দুই তানিয়ার একই স্বভাব।  দুষ্টু স্বভাবের। ও আমাদের সিনিয়র ছিল। মডেলিংয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকায় সেমিস্টার গ্যাপ হয়েছে। তাই আমাদের সঙ্গে দেখা।  তবে, বন্ধুত্বের দাবিতে কিছু দিনের মধ্যেই ও আমাদের খুব আপন হয়ে উঠেছে। মেয়ে বন্ধুদের আগে প্রশংসা করছি, এই লেখা দেখে আমার বন্ধুরাও লেখাটা পড়তে পড়তে ক্ষেপতেছে আমার ওপর। যাইহোক এবার তোদের প্রশংসা করি। এক কথায় বলবো, আমার মতো গ্রামাঞ্চলের একটা সহজ-সরল মানষুটাকে তোরা চালাক বানিয়েছিস, সামাজিকীকরণ করেছিস এবং আধুনিক মানুষ বানিয়েছিস, এর পুরো অবদান তোদের।

একটু নিজের গল্প বলি।  বাবা-মা নাম রেখেছিলেন হাকিম। কী মনে করে রেখেছিলেন জানি না, তবে বাবা স্বপ্ন দেখতেন, ছেলে বড় হয়ে বিচারপতি হবে, নাম হবে আদালতের হাকিম। কিন্তু সেটা আর হলো কই! হলাম ছোটখাটো সংবাদকর্মী।  তাও বাবা দেখে যেতে পারলেন না। বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে শহরে আসা। মনে আছে, আইন বিষয়ে পড়বো বলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিলাম।  পাস করেছি দুটোতেই। তবে, ভালো সাবজেক্টও পাইনি। জগন্নাথে একটি মার্কের জন্য আইন বিষয় পাইনি। পেলাম ৭৬ মার্কস, ৭৭ মার্কস পেয়ে অনেকে আইনে ভর্তি হয়েছেন। মনের মতো সাবজেক্ট পাইনি। তাই ভর্তি হইনি কোথাও। আমার বিশ্বাস ছিল, প্রতিষ্ঠান কখনো স্বপ্ন হতে পারে না, তাই ঢাবি-জবি আমার কাছে প্রাধান্য পায়নি।  যেনতেন বিষয় পেয়েও ভর্তি হইনি।

চিন্তা করলাম, দেশের বাইরে চলে যাবো, কিন্তু এত টাকা পাবো কোথায়?  তাই ইয়ার গ্যাপ দিলাম, কাজে নেমে পড়লাম, পাশাপাশি আইইএলটিএস করলাম, স্কোর তত বেশি ভালো হলো না। তবে, বাইরের যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে এটা দিয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া যাবে।  টাকাও মোটামুটি জমালাম। লন্ডনের স্বপ্ন দেখতাম ছোটবেলা থেকেই। তাই লন্ডনের একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাপ্লাই করলাম, চান্সও হলো, টাকা জমা দেওয়ার ডেট পড়লো, টাকা জমা দিতে হবে স্কলারশিপ ছাড়াও সাড়ে সাত লাখ টাকা। সমস্যা হলো টাকা জমিয়েছি আড়াই লাখ, এত টাকা কোথায় পাবো! ব্যাংক স্টেটমেন্ট ১২ লাখ টাকার ওপরে দেখাতে হবে। এত টাকা তো জীবনেও  দেখিনি, জমা দেবো কোথা থেকে! যাইহোক, দুই বন্ধু অ্যাপ্লাই করেছিলাম, দুজনেই সুযোগ পেয়েছি বিদেশে পড়ার। আমি টাকার কাছে হেরি গেছি তখন, কিন্তু বন্ধু চলে গেছে। ও কম্পিউটার সায়েন্সে পড়াশোনা করেছে, অনেক বড় হয়েছে।

স্টাডি গ্যাপ হলো দু’বছর।  ভাবলাম পড়বো না, ব্যবসা করবো টাকাগুলো দিয়ে। গ্রামের এক বন্ধুর ভাই ঢাকায় ছোটবেলা থেকেই থাকেন। তিনি গাবতলীতে গাড়ির গ্লাসের দোকান দিয়েছেন, ভালোই চলছে তার।  আমিও ভাইয়ের কাছে এলাম অল্প কয়েকটা টাকা নিয়ে।  বললাম, ভাই আমিও ব্যবসা করবো। তবে, আমার টাকা তো কম, আপনি আমার সঙ্গে শেয়ার থাকবেন আর আমি তো ব্যবসা বুঝি না, আপনি আমাকে শেখাবেন।  তিনি রাজি হলেন আমার আগ্রহ দেখে।  শুরু করলাম থাই গ্লাসের ব্যবসা। ভাইয়ের দোকানের সঙ্গেই একটা ছোট কর্নার খুললাম। চলছে মোটামুটি। ছয় মাস কাজ করলাম একসঙ্গে। কিন্তু মনের মধ্যে তীব্র দ্বিধাদ্বন্দ্ব। কাজ করবো না কি পড়াশোনা শুরু করবো আবার! বাবা বলতেন, গরিবের সম্পত্তি পড়ালেখা। তাই মনের সঙ্গে আর পেরে উঠলাম না, পার্টনার ভাইকে বুঝিয়ে বললাম।  ভাই বললেন, তোমার ইচ্ছা।  তুমি শুরু করছ, যদি ছেড়ে দাও, দিতে পারো, আমি তোমাকে তোমার পাওয়ানা মিটিয়ে দেই।  ভাই আমার ভাগের টাকা দিয়ে দিলেন।  আমি নিয়ে এলাম। আজ সেই থাই গ্লাসের দোকান বড় কারখানায় রূপ নিয়েছে। প্রিয় জাকির ভাই, তিনি একজন সৎ মানুষ, ভালো মনেরও। এজন্য তিনি জীবনে এতটা বড় হয়েছেন।  বন্ধু সুমনকেও ধন্যবাদ জানাই।

গ্রাম থেকে সাড়ে ছয়শো টাকা হাতে নিয়ে শহরে পড়তে এসেছি। মাঝে দুই বছরে আড়াই লাখ টাকা ইনকাম করেছি, সেই টাকা নিয়ে আবার পড়াশোনা শুরু করবো।  পাবলিকে আর ভর্তির সুযোগ নেই। খবর নিলাম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বো, তখন নর্থ সাউথের নাম গ্রামে বসে শুনতাম। চলে গেলাম, ভর্তি পরীক্ষা দিলাম।  সেই সময়ে নর্থ সাউথে ভর্তি হতে হলে পরীক্ষায় পাস করতে হতো, এখন কী অবস্থা জানি না।  যাই হোক পরীক্ষায় পাস করলাম।  বলে রাখি, আমি কখনো কোনো পরীক্ষায় ফেল করিনি, সামনেও করবো না, এটা আত্মবিশ্বাস। কিন্তু ভর্তি হতে গিয়ে দেখলাম ৮/৯ লাখ টাকা লাগবে অনার্স শেষ করতে, আবার ক্লাস করতে হবে প্রতিনিয়ত, খুব কড়াকড়ি। এখানেও টাকার কাছে সাময়িক হারলাম।

এবার ভাবলাম মিডিয়ায় পড়বো, সাংবাদিক হবো। চলে এলাম ধানমন্ডির ইউল্যাবে ভর্তি হবো। কারণ তখন মিডিয়ায় পড়তে হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরে ইউল্যাবের নামডাক অনেক বেশি। এসে খবর নিলাম কত টাকা খরচ হবে, অ‌্যাডমিশন অফিসার বললেন, এখানেও ডিসকাউন্ট দিয়ে ৬/৭ লাখ টাকা খরচ হবে। মাথায় এবার আসমান ভেঙে পড়ার মতো। তাহলে কোথায় পড়বো! শহরে তো অনেক কিছুই চিনি না, জানি না। অ‌্যাডমিশন অফিসারকে আমার আর্থিক অবস্থার কথা বললাম। তিনি আমাকে ভালো পরামর্শ দিলেন। বললেন, আপনি ‘স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ’-এ গিয়ে ভর্তি হতে পারেন। আমার জানা মতে, সেখানে কম টাকা লাগবে অনার্স করতে। আরও বললেন একজন শিক্ষকের কথা, তিনি সেখানকার সাংবাদিকতা বিভাগের উপদেষ্টা। চলে এলাম।  ডান-বাম আর ভাবলাম না, সরাসরি ভর্তি হতে অ‌্যাডমিশন অফিসে। সেখানে প্রথমেই একজন ম্যাডামের সঙ্গে পরিচয় হলো, তার নাম জহুরা নাজনিন।  তিনি ডেপুটি রেজিস্ট্রার। তিনি আমাকে সেইদিনই ভর্তি নিলেন। অবস্য ভর্তি পরীক্ষা দিতে হয়েছে। পরীক্ষায় সম্ভবত পুরো নম্বরের মধ্যে দুই নম্বর কম পেয়েছি। আমাকে বড় একটা স্কলারশিপে ভর্তি করালেন। এখানে ‘জার্নালিজম, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ’ বিভাগে সম্পূর্ণ খরচ হবে মাত্র ৩ লাখ ২৭ হাজার টাকা। আমি তো মহা খুশি।  সেই থেকে হয়ে গেলাম এসইউবিয়ান বা স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের একজন গর্বিত শিক্ষার্থী। শুরু হলো আবার শিক্ষাজীবন। এবার হবো সাংবাদিক।

সেদিন নবীনবরণে স্যারের সঙ্গে দেখা হয়নি। স্যার নাকি জাদু জানেন, সবাই স্যারের কথার জাদুতে বশ হয়ে যান।  তিনি নাকি দারুণ বাগ্মী।  যত জনের সঙ্গে দেখা হয়েছে সাংবাদিকতায় ভর্তি হওয়ার পর, সবাই একই কথা বলেছেন, নবীনবরণেও সবার বক্তব্যে স্যারের নামটাই বেশি ছিল।  প্রিয় পাঠক বুঝতে পেরেছি, আপনারা তার নাম শুনতে চান, তাই তো! তিনি আমাদের বিভাগের উপদেষ্টা অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস। স্যার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক। তিনি পাশাপাশি এসইউবিতেও সাংবাদিকতা বিভাগের উপদেষ্টা।

নবীনবরণের পর যথারীতি ক্লাস শুরু হলো। স্যার ক্লাসে এলেন এক সপ্তাহ পর। কারণ তিনি দেশের বাইরে ছিলেন। প্রথম ক্লাসেই স্যারের পড়ানোর স্টাইল ও লেকচারের জাদুতে পড়ে গেলাম। স্যারের সঙ্গে কিভাবে যেন প্রথম দিন থেকেই আমার ভালো সম্পর্ক হয়ে গেলো। তার পরীক্ষাগুলোতেও আমরা ২/৩ বন্ধু সর্বোচ্চ মার্কস পেলাম। প্রথম তিন/চার সেমিস্টার সবার চেয়ে বেশি জিপিএ পেলাম সব বিষয়ে, কিন্তু ধীরে ধীরে গচ্ছিত টাকা কমতে থাকলো, আর আমার জিপিএও কমতে থাকলো। কারণ, তখন ইতোমধ্যে পার্ট টাইম চাকরি করতাম। একটা সময় চাকরি নিলাম ফুল টাইম, আর পড়াশোনা হয়ে গেলো পার্ট টাইম। সিজিপিএ তেমন কমেনি, কিন্তু সর্বশেষ ফার্স্ট হতে পারিনি, অনার্সে দ্বিতীয় হয়েছি, প্রথম হয়েছে আমার কাছের বন্ধুদের একজন তৈয়ব আলী।  ছেলেটা যতটা না মেধাবী, তার চেয়ে বেশি প্রচেষ্টা ছিল ওর। চেষ্টা থাকলে সফল হবেই। রোবায়েত ফেরদৌস স্যারের সঙ্গে সেই ক্লাসের গুরু-শিষ্যের সম্পর্ক আজও ক্লাসের বাইরে বিদ্যমান। কেউ যদি আমাকে জিজ্ঞেস করেন, আমার জীবনে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক কে, আমি স্যারের কথাই অকপটে বলবো, ভালো বন্ধু কে? স্যারের কথাই বলবো। জন্মদাতা পিতার পর কে পিতার আসনে, আমি স্যারের কথা দ্ব‌্যর্থহীনভাবে বলবো। তিনি আমাকে শুধু শিক্ষা দেননি, বাবার আসনে বসে মুখে খাবারও তুলে দেন এখনো।

আমি শেষের দুই বছরে সেমিস্টার ফি সময়মতো দিতে পারতাম না, এসময়ে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করেছেন দুজন মানুষ। একজন আমাদের জেসিএমএস বিভাগের প্রধান সজীব সরকার স্যার ও অন্যজন ডেপুটি রেজিস্ট্রার ফারহানা ম্যাম। তারা আমাকে পরীক্ষায় বসতে সুযোগ করে দিতেন। যেকোনো সমস্যায় পড়লে ছুটে যেতাম এ দুজনের কাছে, বলার সঙ্গে সব সমাধান করে দিতেন। মন খারাপ থাকলে ফারহানা ম্যাম বুঝে ফেলতেন, জিজ্ঞেস করতেন, মাহি কী হয়েছে? মন খারাপ করা যাবে না, মন দিয়ে কষ্ট করেই পড়তে হয়, চালিয়ে যাও, সমস্যা হলে বলো, আমি আছি।

ক্লাসে তেমন উপস্থিত হতে পারতাম না, সজীব সরকার স্যার ডেকে নিয়ে ক্লাসের পড়া বুঝিয়ে দিতেন, নোট দিতেন। নাসরিন আক্তার ম্যাম বই দিতেন আমাকে পড়ার জন্য। ক্লাসে কোনোদিন পড়া ভালো না হলে ডেকে ডেস্কের সামনে বসিয়ে পড়া আদায় করে দিতেন, ম্যাম আমাদের বিজয় পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন কিছু দিন, আমাকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন কো-অর্ডিনেটরের, তার দায়িত্বশীলতা আমাকে শিখিয়েছে। রিফাত সুলতানা ম্যাম শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তুলনামূলক বেশি মেশেন, এজন্য তিনি আবিষ্কার করতে পারেন কার কোথায় দক্ষতা ও দুর্বলতা। সে অনুযায়ী তিনি সবসময় আমাকে গাইড করতেন, তারজন্য অনেকটা আমার পড়াশোনা ভালো হয়েছে। সাহস মোস্তাফিজ স্যার ছিলেন শিক্ষার্থীদের মনের ডাক্তার। তিনি সবার সঙ্গে সবসময় বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহার করতেন। মিশে যেতেন সবার সঙ্গে। তবে, ক্লাসে কাউকে একটুও ছাড় দিতেন না, পরীক্ষায় তো নয়ই। মনে হতো স্যার এত বন্ধুত্বপূর্ণ হয়ে হঠাৎ এত কঠোর হন কিভাবে। এজন্য শিক্ষকতায় স্যার নবীন হয়েও বিভাগের প্রধান হয়েছিলেন।

আফরোজা সোমা ম্যাম, রকি ম্যাম, জিনাত ম্যামদের সঙ্গে আমাদের তেমন ক্লাস হয়নি। কারণ তারা অন্যত্র চলে গেছেন। তবে, যতটুকু ক্লাসে পেয়েছি, তাদের গুরুদক্ষিণা ছিল সম্প্রদান কারকের মতো। তারা মানবিক শিক্ষক ছিলেন, এজন্য তারা আজও শিক্ষার্থীদের মনে আছেন অনেকখানি জায়গা দখল করে। জেনিফার কামাল ম্যাম ও রাগীব রহমান স্যার বিভাগে জয়েন্ট করেছেন আমাদের বিদায়ী মুহূর্তে, তবে সামনে থেকে যতটুকু দেখেছি, তারা বহুগুণী ও শিক্ষার্থীবান্ধব শিক্ষক।

সর্বশেষ একজন শিক্ষকের কথা বলতে চাই, তিনি আমাদের সবার প্রিয় কাজী আনিছ স্যার। তার বিভাগে আগমন ছিল অনেকটা উপহারের মতো। স্যারের দেওয়া হাতে-কলমে শিক্ষা আজও কর্মজীবনে সবচেয়ে বেশি প্রয়োগ করি। নিউজ ও ফিচার লেখা এবং সম্পাদনা শেখানো প্রতিটি মুহূর্তে অনুভব করি। মনে করি স্যারকে মনে রাখার মতো এ শিক্ষাটাই আমার মতো নগন্য ছাত্রের জন্য যথেষ্ট। চার বছরে আরও অনেক খণ্ডকালীন শিক্ষক আমরা পেয়েছি, তাদের সবাই আমাদের মাথার মুকুট তুল্য আজও। তবে, যাদের নাম উল্লেখ না করলে বড় অন্যায় হবে। পলাশ মাহবুব ও জাহিদ নেওয়াজ স্যার, যাদের কাছ থেকে মূলত অনলাইন সাংবাদিকতার হাতেখড়ি। কর্মক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত তাদের শিক্ষা ব্যবহার হয়। রানা ইসলাম স্যারের ভিডিও এডিটিং ক্লাস, তখন ততটা গুরুত্ব দেইনি, কিন্তু সেই শিক্ষা আজ অনলাইন সাংবাদিকতার প্রাণ।

নজরুল ইসলাম খান স্যারের টেলিভিশন সাংবাদিকতায় রিপোর্টিংয়ের খুঁটিনাটি শিক্ষারও কোনো বিকল্প পাই না কর্মজীবনে। মাঝে মাঝে শিক্ষক হওয়ার অনুপ্রেরণা পাই আমাদের সবার শিক্ষক, শিক্ষকদেরও শিক্ষক শামসুল মজিদ হারুন স্যারকে দেখে। কারণ তিনি আপাদমস্তক একজন শিক্ষক।

করপোরেট জীবনে সবসময়ই অনুপ্রাণিত হই আমার একজন শিক্ষককে দেখে। যাকে আমি কর্মজীবনে বস হিসেবে পেয়েছি। তিনি উদয় হাকিম স্যার। তার কর্মদক্ষতা আমাকে বার বার অনুপ্রাণিত করে। আমি যদি অফিসে ১২/১৩ ঘণ্টা কাজ করে হয়রান হয়ে যাই, তখন স্যারকে ১৬/১৭ ঘণ্টা কাজ করতে দেখে নিজের মধ্যে প্রাণ ফিরে পাই। খুঁজি পরিশ্রম করার মধ্যে আনন্দ। দুই বছরে স্যারের হাত থেকে অনেক ভালো কাজের পুরস্কার পেয়েছি, ভুলের জন্য পেয়েছি শিক্ষা। কর্মক্ষেত্রেও স্যার হাতে ধরে শেখান। ক্লাসে একজন আপাদমস্তক শিক্ষক ও কর্মক্ষেত্রে একজন অপ্রতিদ্বন্দ্বী কর্মী কিভাবে হওয়া যায়, তা বাস্তব উদাহরণ তিনি।

মানবিক উদাহরণ তার প্রতিটি পদক্ষেপে। মাঝে মাঝে অনেক রাতে স্যারের ম্যাসেজ পাই, মাহি অসহায় মানুষের পাশে কিভাবে দাঁড়ানো যায়, ভাবেন। আমার ছোট্ট মাথা থেকে যা আসে তাই বলি। স্যার খুব গুরুত্বসহকারে সেটা শোনেন এবং যুক্তিযুক্ত হলে সেভাবে মানুষের পাশে দাঁড়ান। ব্যক্তিজীবনে তাকে আমি আদর্শ মনে করি। স্যারের ক্লাসেও সর্বোচ্চ নম্বর আমিই পেয়েছিলাম বোধহয়।

একটা সময় আমার প্রাণের বিশ্ববিদ্যালয় আকারে ছোট থাকলেও আজ দেশের স্থাপত্য শৈলী ও সবুজ ক্যাম্পাস নির্মাণে দেশের অনন্য উদাহরণ স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ। মূল ক্যাম্পাস ঢাকার অদূরে তিনশো ফিটের কাছাকাছি কাঞ্চন ব্রিজের পাশেই। সেখানে বিশাল জায়গাজুড়ে গড়ে উঠছে শিক্ষানগরী খ্যাত এসইউবি। দেশের যেকয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম খরচে সবচেয়ে ভালো শিক্ষা  হাতে-কলমে পাওয়া যায়, কর্মক্ষেত্রে দাপটের সঙ্গে প্রাপ্ত শিক্ষা ব্যবহার করা যায়, তারমধ্যে প্রথম স্থান বলবো স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের। আমি এখানকার শিক্ষার্থী বলতে নয়, পর্যালোচনা কর্মক্ষেত্রের নিরিখে। এখান থেকে ইতোমধ্যে যারা পাস করেছেন, আমার জানামতে দু'একজন ছাড়া সবাই কর্মক্ষেত্রে ভালো সুনামের সঙ্গে আছেন।

চাকরি নিতে গেলে ভাইভায় বিভাগের শিক্ষকদের পরিচয় দিলেই প্রাপ্ত শিক্ষার সুনাম পাওয়া যায় চাকরি দাতাদের কাছ থেকে। একটি বিষয় বুঝি, মেশিন ও কাঁচা মাল যত ভালো হবে, প্রডাক্টও তত সেরা হবে। আমাদের এসইউবির শিক্ষকরা যেমন সেরা, তাদের শিক্ষার্থীরাও সেরা হওয়ার দাবিদার। একটা সময় অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে কেউ চাইলে বলার সুযোগ ছিল, কিন্তু এখন সেটা নেই। এখন দেশসেরা নির্মাণাধীন ক্যাম্পাস এসইউবির।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কথা যদি বলতে যাই, তাহলে বলতে হবে, তারা সবসময় শিক্ষার্থীদের চাহিদা বা দাবিগুলোকে প্রাধান্য দেওয়ার চেষ্টা করেন। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, আমাদের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ডা. এ এম শামীম স্যার সবসময় শিক্ষার্থীদের সুযোগসুবিধার বিষয়ে শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের নিয়ে যৌথ আলোচনায় বসতেন, সবার দাবি-দাওয়া শুনতেন, এরপর ধরে ধরে সেগুলো সমাধান করার চেষ্টা করতেন, এখনো করেন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসতে কর্তৃপক্ষের কোনো কার্পণ্য ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল কবীর স্যারও তৎকালীন প্রো-ভিসি থাকাকালীন শিক্ষার্থীবান্ধব ছিলেন, যখন যেই কাজে স্যারের কাছে গিয়েছি, কখনো তিনি না শব্দটি উচ্চারণ করেননি।

একটা বিষয় না বললেই নয়, শুধু আমাদের জেসিএমএস বিভাগ নয়, প্রতিটি বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা একে-অন‌্যের বন্ধুসূলভ। সব বিভাগের এক বিভাগের সঙ্গে অন্য বিভাগের সম্পর্ক এতটাই রয়েছে, অনেক সময় গুলিয়ে ফেলতাম, আমরা কে কোন বিভাগের। এর অন্যতম কারণ হলো আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো। বিশেষ করে আমাদের প্রথম সেমিস্টারে একটি কমন সাবজেক্ট রয়েছে। এই ক্লাসে সব বিভাগের প্রথম সেমিস্টারের শিক্ষার্থীরা একত্রে ক্লাস করেন। এর মাধ্যমে সব বিভাগের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। চার বছরে সব বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আপন করে নেওয়ার মতো মানসিকতা গড়ে ওঠে। কালচারাল ক্লাবের দায়িত্বে রয়েছেন আমাদের সবার প্রিয় সোহান ভাই। যিনি সবার মাঝে সম্পর্ক উন্নয়নের একজন কারিগর।

সবশেষে বলবো, আমার চারটি বছর সুন্দর ও সার্থক হয়েছে যাদের জন্য, তারা আমার প্রিয় বিদ্যাপীঠের প্রিয় শিক্ষক-সহপাঠী, সিনিয়র-জুনিয়র, কর্মকর্তা ও কর্মচারী ও বন্ধুরা। অনেকের নাম বলতে পারিনি লেখার স্বল্পতার জন্য। তবে, আমি মনে করি যাদের নাম বলিনি, তাদের নাম হৃদয়ে লেখা রয়েছে পরম যত্নে। শ্রদ্ধা, ভক্তি ও ভালোবাসা সবার সমীপে নিবেদন করলাম। সবার সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গলকামনা করি। আমার বন্ধু নিয়ন, অনিক, রমিজ, রবি, অনির্বাণ, মিশেল, সৌরভ, সজীব, হাবীব, তনু তোরা হৃদয়ে আছিস এবং থাকবি চির সবুজ হয়ে।

লেখক: সাবেক শিক্ষার্থী স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (এসইউবি) ও গণমাধ্যমকর্মী। 

মাহি/এনই 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়