শিশুদের অপ্রত্যাশিত ভবিষ্যতের জন্য দায়ী সাহিত্য বিমুখতা
পারভেজ হুসেন তালুকদার || রাইজিংবিডি.কম
আজকের কোমলমতি শিশুদের যে সাহিত্যকে উপজীব্য করার কথা, তারা সেখান থেকে যোজন যোজন দূরে অবস্থান করছে। ছোট্ট শিশুদের মন বইয়ের বদলে আধুনিক বিজ্ঞানের আশীর্বাদে প্রাপ্ত উন্নত প্রযুক্তির মোবাইল বা ট্যাবলেট নিয়ে বসে আছে।
ছোটবেলার সেই ‘আতা গাছের তোতা পাখি’ কিংবা ‘আয় আয় চাঁদ মামা’র মতো প্রভৃতি কবিতার বদলে ভিডিও গেমস, কার্টুন ইত্যাদি নিয়ে বড় হচ্ছে। অবশ্য এসব ডিভাইসে চাইলেই শিশুদের উপযোগী ডিজিটাল শিক্ষা ও সাহিত্যগুলো পাওয়া যায়। কিন্তু সাহিত্য বাদ দিয়ে তারা গেমস নিয়ে বেশিরভাগ সময় পার করছে।
৫-৭ বছর বয়সী বাচ্চাদের শিশুসাহিত্যে ‘খুদে পাঠক’ বলা হয়। তারাও একই রকম দিন কাটাচ্ছে। খুদে পাঠকরা ৬-৭ বছর বয়সে স্কুলে যাওয়া শুরু করে। কিন্তু স্কুল থেকে ফিরে অধিকাংশ সময় মোবাইল বা ট্যাবে নিয়েই ব্যস্ত থাকে। যা তাদের বাহিরে খেলাধুলাকে ভুলিয়ে রাখে। কিন্তু চাইলেই এই খুদে পাঠকরা ই-বুক অ্যাপে পড়ে নিতে পারে তাদের জন্য লেখা শিশু সাহিত্যিকদের চমৎকার সব চকচকে ঝকঝকে ই-বইগুলো।
বড় বাচ্চাদের অবস্থা একই রকম; ভয়ংকর। তাদের মনে শিশু সাহিত্যের ‘শিক্ষা, আনন্দ আর কল্পনা’র কোনো ছিটেফোঁটাও নেই। বিপরীতে এই বয়সেই তাদের শিশু সাহিত্য তথা সাহিত্যের মধু আহরণে মগ্ন হবার কথা। একটু একটু করে ছড়া-গল্প লিখতে আগ্রহী হবার কথা।
আজকের অনেক শিশু-কিশোরদের বলতে শোনা যায়- কবিতা ভালো লাগে না, গল্প ভালো লাগে না। এইসব কি এরই ফল নয়? বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ছোট থেকেই প্রযুক্তির অত্যাধিক সুবিধাগুলো থেকে শিশুরা অকল্যাণ গ্রহণ করছে। ফোনে ভিডিও গেমসের আসক্তির বদলে অনলাইনে থাকা বিনামূল্যের মূল্যবান বিভিন্ন ই-বই পড়তে পারত। তাছাড়াও আধুনিকতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশে থাকা ই-বুকের বিভিন্ন পরিষেবা প্রদানকারী ডিজিটাল প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবহারকারী থেকে উদ্বুদ্ধ হতে পারতো। কিন্তু এসবের ছিঁটেফোটাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
এই ব্যাপারে স্কুলগুলোতে পাঠ-অভ্যাসে কম গুরুত্বের পরে অভিভাবকদের অসতর্কতাকেও একটি বড় কারণ বলা যেতে পারে। যা ভবিষ্যতের জন্য খুবই অপ্রত্যাশিত কিছু বয়ে আনবে বলে মনে করি। তবে যদি অভিভাবকরা চাইলে শিশুরা এক পলক ঘুরে আসত ডিজিটাল সাহিত্য দুনিয়ায়। অথচ আমরা দেখছি তারা স্কুল শেষে ভিডিও গেমস ইত্যাদি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
তাছাড়াও কোমলমতিদের অতিরিক্ত ভিডিও গেমসের বদলে শিশুসাহিত্য এবং অন্তত এক ঘন্টা হলেও বাহিরে উপযুক্ত জায়গায় খেলাধুলার সুযোগ করে দিতে হবে। আগ্রহী করে তুলতে হবে বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে। এতে করে শিশু পাবে এক রঙিন ঝলমলে শিশুকাল, যা বুদ্ধিদীপ্ততায় প্রস্তুত হবে আগামীর ভবিষ্যৎ।
-লেখক : শিক্ষার্থী, সিলেট বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজ
/মেহেদী/
২৭ হাজার টন ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রামে এল ‘পিভিটি সোলানা’