ঢাকা     শনিবার   ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ||  ফাল্গুন ১১ ১৪৩০

প্রেসক্লাব আমাদের সেকেন্ড হোম

আল মাহমুদ বিজয় || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:২৪, ৯ ডিসেম্বর ২০২৩  
প্রেসক্লাব আমাদের সেকেন্ড হোম

হঠাৎ ঘুম ভাঙে। চোখের পাতা খোলে উৎকণ্ঠায়। ঘড়ির টিকটিক শব্দে কয়টা বাজে? নজর পড়তেই লাফ দিয়ে ওঠে তণুমন। খেয়াল একটাই, আমার দিকে চেয়ে কেউ একজন অপেক্ষমান। তড়িঘড়িতে প্রস্তুতি সেরে মায়ার টানে চিরচেনা গন্তব্যে পথে ছুটে চলা।

গন্তব্যে পৌঁছিয়ে যেন হাফ ছেড়ে বাঁচা। সাজিয়ে-গুছিয়ে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এক সুরভিত মঞ্চ তৈরি করতে পারলেই যেন প্রশান্তির কোমল ছোঁয়া ধরা দেয়। কম হয় বুকের ধুক বকুনি। শেষ হয় সব উৎকণ্ঠা।

তারপর দেশ-বিদেশের সংবাদের দিকে দৃষ্টি নিবন্ধ হয়। একে একে ছোট্ট মঞ্চ ভারি করে সমবেত হতে থাকেন ক্লাব সদস্যরা। সিনিয়র সদস্যদের আগমনে জুনিয়রদের মনে সঞ্চার হয় অন্য মাত্রার প্রণোদনা। দাঁড়িয়ে  সম্মান জানিয়ে কুশল বিনিময় সে-তো কখনোই মিস হবার নয়। যাহোক, শুরু হয় গোছালো-আগোছালো হরেক রকমের গল্প, বিশ্লেষণ আর মতামতের ছড়াছড়ি।

হঠাৎ স্মরণ হয় বিভিন্ন প্রোগ্রামে আমন্ত্রণের কথা। দলবেঁধে ক্যামেরা, স্ট্যান্ড সঙ্গে মাইক্রোফোন হাতে দ্রুত বেগে হেঁটে চলা। কে কত আগে নিউজ শেষ করতে পারে প্রতিযোগিতাও কি কম হয়? তা বটেই নয়। আবার সম্মিলিত কাজ হয় চরম মজার। সিনিয়রেরা কাজ ভাগ করে মূল দায়িত্বটা নেন নিজের কাঁধেই। তুমি অমুক স্যারের বক্তব্য কোড করো আর তুমি অমুক স্যারেরটা। আর হ্যাঁ, তুমি উপস্থিতিদের সংখ্যা ও নামগুলো দ্রুত শেষ করো।

এভাবেই ১৯৮৬ সাল থেকে আজ পর্যন্ত সকাল থেকে সন্ধ্যা হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) প্রেসক্লাবের সদস্যদের। এটা তাদের নৈমিত্তিক ঘটনা। নানান ঘাত-প্রতিঘাতের শিকার হয়ে দীর্ঘ ৩৮ বছর 'আমরা নির্ভীক সত্য লিখবই' প্রত্যয়কে বুকে লালন করে এভাবেই টিকে আছে ক্লাবটি।

হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা, সুখ-দুঃখের সাথী হয়ে ভাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ এ যেন এক সমৃদ্ধ পরিবার। পরিবারের সদস্যের সঙ্গে ঝটিকা সফর, সাংস্কৃতিক আড্ডা, খেলাধুলা, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন, বিভিন্ন জাতীয় ও ধর্মীয় উৎসব পালন, আবার কখনো দেশ ভ্রমণের প্রত্যয়ে দেশের এমাথা-ওমাথায় অবিরাম ছুটে চলা।

পৃথিবীতে সবচেয়ে ব্যস্ত প্রাণীদের কাতারে সাংবাদিক সম্প্রদায়কে না রাখলে সম্ভবত মহা অন্যায় হবে। সকাল থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত ঠিকমতো খাওয়া-ঘুম ও প্রশ্রয় পায় না তাদের কাছে। কারণ সত্য-সুন্দর বস্তুনিষ্ঠ্য সংবাদ পরিবেশনের জন্য উৎসুক জনতা তাদের পানে চাতক পাখির ন্যায় চেয়ে থাকে।

সকাল হতেই এ ব্যস্ত সম্প্রদায়ের মেহনতের ফল সংবাদপত্র হাতে তাদেরকেই গালি দিতে বসে এক শ্রেণির মানুষ। দেবেই বা না কেন? কিছু স্বার্থেন্বেষী যে সব জাতিতেই জন্ম নেয়। লোভ, মোহ, ক্ষোভ কিংবা পক্ষপাতিত্ব করে মিথ্যা তথ্য তুলে ধরার মতো কিছু মানুষও যে আছে। বন্ধ হোক এ ঘৃণিত পন্থা। সমাপ্তি হোক হলুদ সাংবাদিকতার।

/মেহেদী/

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়