ঢাকা     মঙ্গলবার   ২৫ জুন ২০২৪ ||  আষাঢ় ১১ ১৪৩১

সর্বজনীন পেনশন প্রত্যাহারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংবাদ সম্মেলন

ঢাবি সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:৩৫, ২০ মে ২০২৪   আপডেট: ১৫:৩৫, ২০ মে ২০২৪
সর্বজনীন পেনশন প্রত্যাহারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংবাদ সম্মেলন

সর্বজনীন পেনশন প্রত্যাহার, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষদের জন্য সুপার গ্রেড কার্যকর ও সতন্ত্র বেতন স্কেল প্রর্বতনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন। সোমবার (২০ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় লিখিত বিবৃতি পাঠ করেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুল ইসলাম ও মহাসচিব নিজামুল হক ভূঁইয়া। এসময় ঢাবিসহ ৩৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন। 

লিখিত বিবৃতিতে প্রত্যয় স্কিমের সুবিধা ও বৈষ্যম্য উল্লেখ করে বলা হয়, গত ১৩ মার্চ অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বশাসিত, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্টায়ত্ত্ব, সংবিধিবদ্ধ অঙ্গ প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রত্যয় স্কিমের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যা আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন যোগদানকৃতদের জন্য প্রযোজ্য হবে। ফলে ১ জুলাইয়ের আগে ও পরে চাকরিতে যোগদানকৃতদের মধ্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষ্যম্য তৈরি হবে, যা সংবিধান পরিপন্থী।

অবিলম্বে সুপার গ্রেড কার্যকরের দাবি জানিয়ে বলা হয়, ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেলে শিক্ষকদের অবনমন করা হয়েছিল। সে সময় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বিষয়টি সুরাহা হয়। তখন সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সুপার গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতি প্রদান করা হয়েছিল। আজ সেটা কার্যকর হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য একটি স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো প্রদানের দীর্ঘদিনের দাবি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা পেশা মেধাবীদের কাছে আকর্ষণীয় করতে পেশাগত সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত একটি স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো প্রবর্তন জরুরি।

এতে আরও বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী আধুনিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে শিক্ষার উন্নয়ন ও প্রসারে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। কিন্তু একটি মহল নিজেদের সুযোগ-সুবিধা অক্ষুণ্ন রেখে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের উপর এ ধরনের একটি বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা চাপিয়ে দিয়েছে। অনতিবিলম্বে   প্রজ্ঞাপনটি প্রত্যাহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশে অব্যাহত রাখার দাবি জানানো হয়। 

কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে বলা হয়, আগামী ২৫ মে’র মধ্যে এ বিষয়ে কোনো ধরনের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে ২৬ মে (রোববার) দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা একযোগে সকাল সাড়ে ১১টা থেকে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবেন। ২৮ মে (মঙ্গলবার) সারাদেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালসমূহের শিক্ষকরা একযোগে সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ২ ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করবেন। তবে সব ধরনের পরীক্ষা কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবে।

এ সময়ের মধ্যে দাবি না মানা হলে আগামী ৪ জুন (মঙ্গলবার) দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা একযোগে অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করবেন এবং বৃহত্তম কর্মসূচি ঘোষণা প্রদান করবেন। সেখানেও সব ধরনের পরীক্ষাগুলো কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবে।

এসময় বিবৃতিতে বৈষম্যগুলো তুলে ধরা হয়। সেগুলো হলো-

১. প্রত্যয় স্কিমে মূল বেতন থেকে ১০ শতাংশ অর্থ কেটে নেওয়া হবে, যা আগে কাটা করা হতো না। 

২. এ স্কিমে, আনুতোষিক শূন্য। বর্তমানে পেনশনার ও নমিনি  আজীবন পেনশন প্রাপ্ত হন। কিন্তু নতুন এই স্কিমে  পেনশনারের ৭৫ বছর পর্যন্ত পেনশন প্রাপ্ত হবেন। 

৩. বিদ্যমান পেনশন ব্যবস্থায় প্রাপ্ত ৫ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হতো। তবে সবর্জনীন পেনশন ব্যবস্থায় সেটা সুস্পষ্ট করা হয়নি।

৪. সব থেকে বড় বিষয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চাকরির মেয়াদকাল ৬৫ বছর থেকে ৬০ বছর হয়েছে।

৫. মাসিক চিকিৎসা ভাতা, উৎসব ভাতা ও বৈশাখি ভাতা নতুন প্রত্যয় স্কিমে প্রদান করা হবে না।

৬. সর্বজনীন পেনশন স্কিমে আনুতোষিক শূণ্যের কোটায় আনা হয়েছে।

/হারুন/মেহেদী/

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়