বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ শিক্ষককে হত্যার হুমকি, ইউটিএল-এর উদ্বেগ
ঢাবি সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষককে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেওয়ায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল)।
সম্প্রতি ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন এবং মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রভাষক আসিফ মাহতাব উৎসকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট)) ইউটিএল-এর আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. আতাউর রহমান বিশ্বাস এবং সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন এক যৌথ বিবৃতিতে এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের দুটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেওয়া কেবল ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়; বরং বাংলাদেশের শিক্ষা, সমাজ, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সাংবিধানিক অধিকারের বিরুদ্ধে এক ভয়াবহ অপরাধ। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ ও দমন করা রাষ্ট্র, সমাজ এবং প্রতিটি সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত সিলেট মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে শুধু বহিষ্কার যথেষ্ট নয়, তার বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার আহ্বান জানাচ্ছে ইউটিএল।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ড. মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন একজন খ্যাতিমান গবেষক, লেখক ও সমাজসেবক। তিনি বায়োমেডিকেল রিসার্চ ফাউন্ডেশনের (বিআরএফ) অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং দীর্ঘদিন ধরে থ্যালাসেমিয়া, ডেঙ্গু ও শিশুদের স্থূলতা নিয়ে গবেষণা ও সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।
অপরদিকে, আসিফ মাহতাব উৎস একজন তরুণ শিক্ষক, গবেষক ও জনপ্রিয় বক্তা। তিনি নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।
এ দুই শিক্ষকই সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায় অবিচল থেকেছেন বলেই একটি মহল তাদেরকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে বলে ইউটিএল মনে করে।
ইউটিএল গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছে, এই ঘটনার পর দেশের ১৬২ জন ব্যক্তি প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি প্রদানের মতো গুরুতর অপরাধকে আড়াল করার চেষ্টা চালিয়েছেন। তাদের এ অবস্থান নিন্দনীয়। অপরাধীকে অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে। দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি যাতে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
ইউটিএল নেতৃবৃন্দের দাবি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিরাপদ হোক।
ঢাকা/সৌরভ/মেহেদী