ঢাকা     শনিবার   ০৭ মার্চ ২০২৬ ||  ফাল্গুন ২২ ১৪৩২ || ১৭ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

শাকসু নির্বাচন স্থগিত

নিউজ ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:৫৮, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬  
শাকসু নির্বাচন স্থগিত

সিলেটের শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন চার সপ্তাহর জন্য স্থগিত করেছে হাইকোর্ট।

ভিপি পদপ্রার্থী মমিনুর রশিদ শুভসহ ৩ জনের করা রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) এই আদেশ দেন বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের বেঞ্চ।

আরো পড়ুন:

দীর্ঘ ২৮ বছর পর মঙ্গলবার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল।

রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন রুহুল কুদ্দুস কাজল, রাশনা ইমাম, মনিরুজ্জামান আসাদ, গাজী কামরুল ইসলাম সজল, গাজী তৌহিদুল ইসলাম, মাহবুবুর রহমান খান, আব্দুল্লাহ আল মাহবুবসহ প্রায় অর্ধশত আইনজীবী ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে ছিলেন মোহাম্মদ হোসাইন লিপু। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।

রিটকারীদের আইনজীবী মনিরুজ্জামান আসাদ গণমাধ্যমকে জানান, স্বতন্ত্র ভিপি পদপ্রার্থী, এক সদস্য পদপ্রার্থী ও আরেকজন সাধারণ ছাত্র মিলে রিট মামলাটি করেছেন।

তিনি বলেন, “শাকসুর ইলেকশনের শিডিউলটা ছিল ১৬ নভেম্বরের-প্রথমে ১৬ তারিখে দিয়েছিলেন, পরবর্তীতে নভেম্বরের ২৪ তারিখে আবার রিশিডিউল ডিক্লেয়ার করেছেন।এখন প্রশ্ন হলো যে যেখানে জাতীয় নির্বাচন সামনে আছে এবং শুধুমাত্র এই শাকসুর ইলেকশনটাই শিডিউল ছিল না।সারা বাংলাদেশে বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন, বিভিন্ন সংগঠনের ইলেকশন–কোনোটা জানুয়ারির ৫ তারিখে ছিল, ১২ তারিখ ছিল, ১৫ তারিখ ছিল, ২০ তারিখ ছিল, ২৫ তারিখে ছিল, ফেব্রুয়ারির ৫ তারিখ পর্যন্ত ছিল অনেক জায়গায় ইলেকশন। সেগুলো কিন্তু সবাই স্থগিত করেছে; এই ১২ তারিখের নির্বাচন কমিশনের চিঠি পাওয়ার পরে সবাই কিন্তু স্থগিত করেছেন।”

মনিরুজ্জামান আসাদ বলেন, “শিক্ষা মন্ত্রণালয় ৫ তারিখে চিঠি দিয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে বলেছে যে, আপনারা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে নির্বাচনটা করেন। যে চিঠিটাও আমরা এখানে এনক্লোজ করে দিয়েছি।”

“কাজেই সারা বাংলাদেশে যখন সমস্ত শিডিউলড ইলেকশনগুলো স্থগিত করেছে, সেখানে এটা মানে ইন্টারেস্টটা কী আছে নির্বাচন কমিশনের, সে কারণেই আসলে আমাদের রিট ফাইল করা।”

আইনজীবী রাশনা ইমাম বলেন, “এখানে কিন্তু কোনো ধরনের পার্মানেন্ট ব্যান ইম্পোজ করা হয়নি। পার্মানেন্ট কোনো নিষেধাজ্ঞা না। শুধু বলা হয়েছে যে নিরাপত্তাজনিত কারণে, যাতে প্রভাবমুক্তভাবে জাতীয় নির্বাচন হতে পারে, তার জন্য একটা সীমিত সময়সীমা দিয়ে দিয়েছে। এর মধ্যে অন্য কোনো সংগঠনের কোনো নির্বাচন হতে পারবে না, যার মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও পড়ছে।”

“অর্ডারটাও কিন্তু সীমিত একটা অর্ডার। চার সপ্তাহের জন্য।এরপরে হতেই পারে। উনারা পুনঃতফসিল ডিক্লেয়ার করে আরেকটা নতুন ডেট দিতেই পারে। কোনোভাবেই কিন্তু শাহজালাল ভুক্তভোগী হচ্ছেন না, একটু পিছাচ্ছে।”

“উনারা এখনও ইলেকশন শিডিউল ডিক্লেয়ার করতে পারেন নতুন একটা ডেট দিয়ে।এই ডেটটা ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখের পরে হতে হবে এবং চার সপ্তাহের পরে হতে হবে। এতটুকুই বলা কোর্টের অর্ডারে।অত্যন্ত রিজনেবল একটা অর্ডার এবং এটাকে আমরা স্বাগত জানিয়েছি।”

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের জন্য গত ১৬ নভেম্বর তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল। শুরুতে ভোটগ্রহণের জন্য ১৭ ডিসেম্বর দিন ঠিক করা হলেও পরে তা ২০ জানুয়ারি করা হয়।

এর মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ‘প্রভাবমুক্ত রাখতে’ গত ১২ জানুয়ারি ইসি এক আদেশে পেশাজীবীসহ সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন আয়োজন না করার নির্দেশ দেয়।

এবারের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ২৩ পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৯৭ জন। এছাড়া ছয়টি হল সংসদে লড়ছেন ৮৪ জন। প্রতিটি হল সংসদে নির্বাচনের জন্য ৯টি পদ রয়েছে। সবশেষ শাকসু নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯৭ সালের ২৫ অগাস্ট।

ঢাকা/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়