ঢাকা     শনিবার   ০৭ মার্চ ২০২৬ ||  ফাল্গুন ২২ ১৪৩২ || ১৭ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ডিওডোরেন্ট ব্যবহারে যে ভুল করলে ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে

লাইফস্টাইল ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:২৭, ৭ মার্চ ২০২৬   আপডেট: ০৯:৪৬, ৭ মার্চ ২০২৬
ডিওডোরেন্ট ব্যবহারে যে ভুল করলে ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে

ছবি: প্রতীকী

ঘামের দুর্গন্ধ দূর করতে ডিওডোরেন্ট আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি সাধারণ অনুষঙ্গ। তবে ব্যবহারের কিছু ভুল অভ্যাস ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই ডিওডোরেন্ট ব্যবহারের আগে এর ধরন ও সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কে জানা জরুরি।

ডিওডোরেন্ট ও অ্যান্টিপার্সপিরেন্টের পার্থক্য
অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট ঘাম কমাতে সাহায্য করে, আর ডিওডোরেন্ট মূলত দুর্গন্ধ দূর করে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের চর্মরোগবিশেষজ্ঞ ফেন ফ্রে বলেন, বেশির ভাগ অ্যান্টিপার্সপিরেন্টে অ্যালুমিনিয়াম লবণ থাকে। কখনও এতে জিরকোনিয়াম লবণও মেশানো হয়। এই লবণ ঘর্মগ্রন্থির নালির প্রোটিনের সঙ্গে রাসায়নিক বন্ধন তৈরি করে নালিতে সাময়িক বাধা সৃষ্টি করে। ফলে অস্থায়ীভাবে ঘাম কমে যায়।
অন্যদিকে ডিওডোরেন্ট সরাসরি ঘাম কমায় না; এটি দুর্গন্ধ সৃষ্টি করা ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস বা নিষ্ক্রিয় করে। ক্যালিফোর্নিয়ার চর্মরোগবিশেষজ্ঞ ট্রিপরা শেইনহাউজ বলেন, ডিওডোরেন্ট বগলকে শুষ্ক রাখে না এবং ঘাম নিঃসরণের পরিমাণও কমায় না।

আরো পড়ুন:

শেভ করার পরপরই ব্যবহার
শেভ করার পরপরই ডিওডোরেন্ট বা অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট ব্যবহার করা ঠিক নয়। বিশেষ করে যেসব পণ্যে অ্যালকোহলের মাত্রা বেশি থাকে, সেগুলো ত্বকে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে। তাই শেভ করার পর কিছু সময় অপেক্ষা করে ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করা ভালো।

ময়লা ত্বকের ওপর ব্যবহার
গতকালের ঘামের ওপর নতুন করে ডিওডোরেন্ট লাগালে তা কার্যকর হয় না। ডিওডোরেন্ট সব সময় পরিষ্কার ও শুষ্ক ত্বকে লাগাতে হবে। ত্বকে আগে থেকে ঘন ক্রিম বা অন্য কোনো পদার্থ লেগে থাকলে ডিওডোরেন্ট ঠিকমতো কাজ নাও করতে পারে।

শুধু সকালে ব্যবহার করা
অনেকে মনে করেন সকালে ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করাই সবচেয়ে ভালো। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্ধ্যায় বা ঘুমানোর আগে ব্যবহার করলে এটি বেশি কার্যকর হয়। তখন ঘর্মগ্রন্থি তুলনামূলক কম সক্রিয় থাকে এবং ত্বক অপেক্ষাকৃত শুষ্ক থাকে। গোসলের পর ভালোভাবে শরীর মুছে ডিওডোরেন্ট লাগানো সবচেয়ে উপযোগী।

প্রতিদিন ব্যবহার না করা
সব ধরনের ডিওডোরেন্ট প্রতিদিন ব্যবহার করা প্রয়োজন হয় না। কিছু অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত কার্যকর থাকতে পারে। তাই ব্যবহারের আগে পণ্যের লেবেল বা নির্দেশনা পড়ে নেওয়া উচিত।

ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার না করা
ডিওডোরেন্ট ব্যবহারের ফলে অনেক সময় বগলের ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা ডিমেথিকনযুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের পরামর্শ দেন, যা জ্বালাপোড়া কমাতে সাহায্য করে। অনেকেই প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে নারকেল তেল ব্যবহার করতে বলেন। এটি ত্বকের শুষ্কতা কমায় এবং প্রাকৃতিকভাবে ব্যাকটেরিয়াবিরোধী।

ভুল ধরনের ডিওডোরেন্ট বেছে নেওয়া
ত্বকের ধরন অনুযায়ী ডিওডোরেন্ট নির্বাচন করা জরুরি। স্প্রে বা জেলের মতো বেশি অ্যালকোহলযুক্ত পণ্য সংবেদনশীল ত্বকে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। অতিরিক্ত সুগন্ধিযুক্ত ডিওডোরেন্টও অনেক সময় ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই বগলের ত্বকের যত্নও মুখের ত্বকের মতো গুরুত্ব দিয়ে নেওয়া উচিত।
ক্লিনিক্যাল ও রেগুলার ডিওডোরেন্টের পার্থক্য না জানা

সাধারণ অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট ঘর্মগ্রন্থির কার্যক্রম প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে পারে। ক্লিনিক্যাল শক্তিসম্পন্ন অ্যান্টিপার্সপিরেন্টে এই হার প্রায় ৩০ শতাংশ। তবে এতে অ্যালুমিনিয়াম জিরকোনিয়াম লবণের মাত্রা বেশি থাকায় সংবেদনশীল ত্বকে জ্বালাপোড়া হতে পারে। তাই নাজুক ত্বকের ক্ষেত্রে মৃদু ফর্মুলার পণ্য ব্যবহার করাই ভালো।

প্রাকৃতিক বিকল্প উপেক্ষা করা
প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি ডিওডোরেন্টও অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের ঘাম কম হয় বা হালকা দুর্গন্ধের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্য এসব পণ্য ভালো বিকল্প হতে পারে।
নিজের ত্বকের ধরন ও প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক ডিওডোরেন্ট বেছে নিলে ত্বক থাকবে সুস্থ, আর আপনি থাকবেন সারাদিন সতেজ ও সুরভিত।

সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট

ঢাকা/লিপি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়