সংসদ নির্বাচনে চবির ২৭ সাবেক ছাত্রনেতা প্রার্থী, ক্যাম্পাসে উচ্ছ্বাস
চবি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সাবেক ২৭ জন ছাত্রনেতা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ১০ জন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জোট থেকে ১৭ জন নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
সাবেক ছাত্রনেতাদের এমন অংশগ্রহণে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন বর্তমান শিক্ষার্থীরা। এটি ছাত্ররাজনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের রাজনীতি থেকে উঠে এসে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া তরুণ রাজনীতিবিদদের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক বলেও মনে করছেন তারা।
বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে চবির সাবেক ১০ ছাত্রনেতা হলেন; আসলাম চৌধুরী (চট্টগ্রাম-৪), গিয়াস উদ্দীন কাদের চৌধুরী (চট্টগ্রাম-৬), ওয়াদুদ ভূইয়া (খাগড়াছড়ি-২৯৮), আলমগীর ফরিদ (কক্সবাজার-২), অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন (ফেনী-২), ড. রফিকুল ইসলাম হেলালী (নেত্রকোনা-৩), শাহজাহান চৌধুরী (কক্সবাজার-৪), শাহাদাত হোসেন সেলিম (লক্ষ্মীপুর-১), আশরাফ উদ্দীন নিজাম (লক্ষ্মীপুর-৪) এবং কামরুল হুদা (কুমিল্লা-১১)।
এর মধ্যে ওয়াদুদ ভূইয়া ও ড. রফিকুল ইসলাম হেলালী চবি ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ছিলেন।
অন্যদিকে জামায়াত জোটের দাঁড়িপাল্লা ও অন্যান্য প্রতীক নিয়ে চবির সাবেক ১৭ ছাত্রনেতা হলেন; ড. হামিদুর রহমান আযাদ (কক্সবাজার-২), অ্যাডভোকেট জসীম উদ্দিন সরকার (ঢাকা-১০), মজিবুর রহমান মঞ্জু (ফেনী-২, ঈগল প্রতীক), মুহাম্মদ আলাউদ্দীন সিকদার (চট্টগ্রাম-৩), অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান (চট্টগ্রাম-১), কাজী দ্বীন মোহাম্মদ (কুমিল্লা-৬), অধ্যক্ষ নুরুল আমিন (চট্টগ্রাম-২), অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী (চট্টগ্রাম-১০), ড. ফয়জুল হক (ঝালকাঠি-১), অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান (চট্টগ্রাম-১৩), শফিউল আলম (চট্টগ্রাম-১১), একে করিম (চট্টগ্রাম-২, ফুটবল প্রতীক), অ্যাডভোকেট এসএম কামাল উদ্দিন (ফেনী-১), ড. সৈয়দ একেএম সরওয়ার উদ্দিন ছিদ্দিকী (কুমিল্লা-৯), অ্যাডভোকেট এয়াকুব আলী চৌধুরী (খাগড়াছড়ি-২৯৮), অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১) ও জয়নুল আবেদীন (সিলেট-৪)।
এদের মধ্যে হামিদুর রহমান আযাদ, জসীম উদ্দিন সরকার, আলাউদ্দীন সিকদার ও মজিবুর রহমান মঞ্জু শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ছিলেন। জসীম উদ্দিন সরকার ১৯৮১ সালে চাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন এবং মজিবুর রহমান মঞ্জু ২০০৩ সালে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
এ বিষয়ে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুল হোসেন বলেন, “চবির ২৭ জন সাবেক ছাত্রনেতার সংসদ সদস্য প্রার্থী হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গৌরবের বিষয়। ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে এসে জাতীয় রাজনীতির মূলধারায় অংশগ্রহণ নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক। এটি বর্তমান শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব চর্চা ও গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হতে উৎসাহিত করবে।”
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী সাইদুল ইসলাম শামীম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ নেতৃত্ব তৈরির স্বাভাবিক ধাপ। একই সঙ্গে এটি ছাত্ররাজনীতির ইতিবাচক দিকগুলো সামনে আনার সুযোগ সৃষ্টি করে। রাজনীতিতে সাবেক চবিয়ানদের এমন অংশগ্রহণে আমরা আনন্দিত।”
ঢাকা/মিজানুর/জান্নাত