ঢাকা     বুধবার   ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ২৮ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

নির্বাচিত সরকার এলে ঘুরে দাঁড়াবে পুঁজিবাজার, বলছেন বিশেষজ্ঞরা

নুরুজ্জামান তানিম || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:৪৯, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  
নির্বাচিত সরকার এলে ঘুরে দাঁড়াবে পুঁজিবাজার, বলছেন বিশেষজ্ঞরা

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বান ও গণভোটের ভোটগ্রহণের মধ্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসার আশায় দেশের পুঁজিবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। নির্বাচিত সরকার গঠনের পর পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবে এবং গতি আসবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ ও বাজার সংশ্লিষ্টরা।

এবারের নির্বাচনের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে দীর্ঘমেয়াদে মূলধন সরবরাহের অন্যতম উৎস পুঁজিবাজার নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরেছে। এতে বেড়েছে প্রত্যাশ্যা, যার প্রভাবে গত দুই সপ্তাহ ধরে পুঁজিবাজারে চাঙ্গাভাব লক্ষ্য করা গেছে।

আরো পড়ুন:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের অধ্যাপক মো. আল-আমিন রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিএনপির ইশতোহারে পুঁজিবাজার নিয়ে সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনা আছে। সেদিক বিবেচনায় বিএনপি সরকার গঠন করলে, সেটা পুঁজিবাজারবান্ধব হবে।”

তিনি বলেন, “যদি সেটা বাস্তবায়ন না হয়; তাহলে সোশ্যাল প্রেসার থাকবে। ইতোমধ্যে অনেক বিনিয়োগকারী বিনিয়োগে ফিরেছেন। আবার অনেকেই নির্বাচিত সরকার এলে বিনিয়োগ করবেন বলে অপক্ষোয় আছেন। সে পরিপ্রেক্ষিতে মনে করছি, নির্বাচনপরবর্তী পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবে।”

“নির্বাচনকে ঘিরে গত দুই সপ্তাহ ধরে পুঁজিবাজারের সূচক ও লেনদেনে ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। অনেক অনিশ্চয়তা থাকা সত্ত্বেও যেহেতু নির্বাচন হচ্ছে, তাই বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে ফিরছেন। অনেকেই ধারণা করছেন, নির্বাচিত সরকার এলে পুঁজিবাজারে একটা মোমেনটাম ঘটবে। তাই অনেকেই বিনিয়োগ করে রাখছেন। কারণ নির্বাচনকে ঘিরে যে অনাস্থা ছিল, সেটা কেটে গেছে।”

এ বিষয়ে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলামের সঙ্গে কথা হয় রাইজিংবিডি ডটকমের। 

তিনি বলেন, “জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলো যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা বাস্তবায়ন হলে পুঁজিবাজারের টেকসই উন্নয়ন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা হবে। নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে যে সরকারই আসুক, আমরা তাদের সাধুবাদ জানাব।”

“আশা করি, যে সরকার ক্ষমতায় আসবে তারা অবশ্যই পুঁজিবাজারের উন্নয়নে কাজ করবে। রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে পুঁজিবাজারের উন্নয়নে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, নির্বাচনপরবর্তী তা যদি বাস্তবায়ন না করে, তাহলে বাজার ঘুরে দাঁড়াবে না। আমাদের পুঁজিবাজার পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। তাই আমরা আশা করি নির্বাচিত হয়ে যে সরকারই আসুক, তারা পুঁজিবারের উন্নয়নে কাজ করবে,” বলেন সাইফুল ইসলাম।

দেশের ইতিহাসে এই প্রথম রাজনৈতিক দলগুলো পুঁজিবাজারকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নির্বাচনি ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করেছে বলে মন্তব্য করে সাইফুল ইসলাম বলেন,  “এই খাতের সংস্কার ও উন্নয়ন-সংক্রান্ত সুস্পষ্ট পরিকল্পনা জনগণের সামনে উপস্থাপন করেছে তারা। অতীতে রাজনৈতিক দলগুলো পুঁজিবাজারকে প্রত্যাশিত গুরুত্ব দেয়নি।”

“বিএনপির ঘোষিত ইশতেহারের মাধ্যমে আমাদের সেই দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে। ঘোষিত ইশতেহারের যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে পুঁজিবাজারের টেকসই উন্নয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, বাজারে আস্থা পুনরুদ্ধার এবং সামগ্রিক গতিশীলতা আরো ত্বরান্বিত হবে,” যোগ করেন তিনি।

নির্বাচনি ইশতেহারে পুঁজিবাজারের ভবিষ্যৎ
‘সবার আগে বাংলাদেশ’ শিরোনামে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার প্রকাশ করেছে বিএনপি। ইশতেহারের তৃতীয় অধ্যায়ে ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধার ‘পুঁজিবাজার সংস্কার ও উন্নয়ন’ শিরোনামে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসন; ‘পুঁজিবাজার সংস্কার কমিশন’ গঠন; শেয়ারবাজারের স্বচ্ছতা আনয়ন; শেয়ারবাজার কারসাজি বন্ধকরণ; শক্তিশালী বন্ড ও ইক্যুইটি মার্কেট গঠন; করপোরেট বন্ড ও সুকুক; প্রবাসীদের জন্য ইনভেস্টমেন্ট গেটওয়ে চালুকরণ; পুঁজিবাজারে প্রবেশাধিকার সহজলভ্যকরণ; ‘পুঁজিবাজার ট্রাইব্যুনাল’ গঠন এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুঁজিবাজার-সংক্রান্ত শিক্ষার প্রসারে সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিএনপি।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ইশতেহার ‘একটি নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশের ইশতেহার’-এর তৃতীয় ভাগে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও ব্যাপকভিত্তিক কর্মসংস্থান শিরোনামের ‘মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর অর্থনীতি’ অধ্যায়ে শেয়ারবাজার প্রসঙ্গে বলেছে, শেয়ারবাজারে সব ধরনের অনিয়ম ও কারসাজি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এবং আস্থাহীনতা দূর করে শেয়ারবাজারকে গতিশীল ও কার্যকর করা হবে। শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা হবে।

এনসিপির নির্বাচনি ইশতেহারে পুঁজিবাজার সংস্কার অধ্যায়ে বলা হয়েছে, “টেকসই প্রবৃদ্ধি ও অবকাঠামো উন্নয়নের শক্তিশালী পুঁজিবাজার অপরিহার্য। আমরা ব্যাংক ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের প্রধান উৎস হিসেবে পুঁজিবাজারকে গড়ে তুলতে চাই। আমাদের লক্ষ্য আগামী পাঁচ বছরে বাজার মূলধন ও জিডিপির অনুপাত ৫০ শতাংশে উন্নীত করা এবং ‘বন্ড মার্কেট ফাস্ট’ কৌশলের মাধ্যমে অবকাঠামো, করপোরেট সম্প্রসারণ ও সবুজ রূপান্তরে টেকসই অর্থায়ন নিশ্চিত করা।”

এনসিপির প্রতিশ্রুতিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের ক্ষেত্রে ব্যাংকনির্ভরতা কমিয়ে ধাপে ধাপে বন্ড, সুকুক ও রিয়েল এস্টেট ট্রাস্টের মাধ্যমে পুঁজিবাজারকেন্দ্রিক অর্থায়ন ব্যবস্থায় রূপান্তর করা হবে। বাজারে কারসাজি ম্যানিপুলেশন, ইনসাইডার ট্রেডিং ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে দৃঢ় ও কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা, বিনিয়োগবান্ধব ও যুক্তিসংগত করনীতি প্রণয়ন এবং পুঁজিবাজারে সুশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদার করা হবে।

ঢাকা/রাসেল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়