ভোটের অপেক্ষায় হাওরপাড়ের ২১ লাখ ভোটার
মনোয়ার চৌধুরী, সুনামগঞ্জ || রাইজিংবিডি.কম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সব ধরনের প্রচার শেষ হয়েছে। নির্বাচনি আচরণবিধি অনুযায়ী নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর থেমে গেছে মাইকিং, পথসভা ও গণসংযোগ। কয়েক সপ্তাহ ধরে সরগরম থাকা ভোটের মাঠে এখন নেমে এসেছে এক ধরনের নিস্তব্ধতা। প্রার্থীদের ব্যস্ততা থেমে গেলেও ভোটারদের মধ্যে রয়েছে চাপা উত্তেজনা ও কৌতূহল। টাঙ্গুয়ার হাওরের জেলার চায়ের দোকান থেকে হাট-বাজারে সব জায়গায় এখন আলোচনা আগামীকালের ভোট।
আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হবে।
ভোটকে ঘিরে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত মানুষ ইতোমধ্যে নিজ নিজ এলাকায় ফিরেছে। আগামীকাল ভোট দেওয়ার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন জেলার প্রায় ২১ লাখ ভোটার।
এ দিকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা মাঠে রয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
জেলা শহরে বাস করা অনেক নারী-পুরুষ তরুণ নিজ গ্রামে চলে গেছে। শহর ফাঁকা হয়ে গেছে। তরুণ ভোটাররা বলছেন, এবার তারা দলবেঁধে ভোটকেন্দ্রে যাবেন। তাদের ভোট হবে পরিবর্তনের পক্ষে। তারা একটি দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন ও সম্ভাবনাময় নতুন বাংলাদেশ দেখতে চান। তরুণ সমাজ বিশ্বাস করে, সঠিক নেতৃত্ব বেছে নিতে পারলে গড়ে উঠবে স্বপ্নের দেশ।
সুনামগঞ্জ-৪ আসনের একজন ভোটার বুরহান উদ্দিন রাইজিংবিডি-কে বলেন, ‘‘এই ভোটের প্রতি আমার ভিতরে অন্য রকম একটা আনন্দ কাজ করছে। দীর্ঘদিন যাবৎ আমরা ভোট দিতে পারিনি। আমরা আনন্দ নিয়ে পরিবারের সবাই ভোট দিতে যাব এবং পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেব।’’
এবারের নির্বাচনে সুনামগঞ্জ জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ২২ জন প্রার্থী। মোট ভোটার ২১ লাখ। মোট ভোটকেন্দ্র ৭২০টি। দুর্গম যাতায়াত ও বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের কারণে ৪৭০টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়তি নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া রাইজিংবিডি-কে বলেন, ভোটগ্রহণের সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ সদস্য মাঠে রয়েছে।
ঢাকা/মনোয়ার/বকুল