ঢাকা     শুক্রবার   ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  ফাল্গুন ৭ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

কুবিতে ছাত্রত্ব শেষেও হলে অবস্থান, ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ

কুবি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:৩৩, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১৪:৩৫, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কুবিতে ছাত্রত্ব শেষেও হলে অবস্থান, ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের দুই আবাসিক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) মধ্য রাতে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের ছাদে এ ঘটনা ঘটে।

আরো পড়ুন:

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা হলেন- অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সৌরভ কাব্য এবং অর্থনীতি বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তৌফায়েল মাহমুদ নিবির। প্রতিবেদন লেখার আগে পর্যন্ত সৌরভ কাব্য হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

আতিকুর রহমান কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তবে ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পরও তিনি বলপ্রয়োগ করে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের ৫০০২ কক্ষে একটি সিট দখল করে গত চার দিন ধরে হলে অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া, তার বিরুদ্ধে অনুসারীদের নিয়মবহির্ভূতভাবে হলে ওঠানোর অভিযোগও করেছেন শিক্ষার্থীরা।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী তৌফায়েল মাহমুদ নিবির বলেন, “আমরা কয়েকজন হলের নিচে বসে গল্প করছিলাম। এমন সময় আতিক সেখানে এসে হলে ওঠার কথা বলেন। তখন আমি তাকে জানাই যে, নিয়ম মেনে প্রভোস্টের মাধ্যমে আসতে হবে। আমার কথা শুনে আতিক হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে আমার কলার ধরে চড় মারেন। পরবর্তীতে আমাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন। সৌরভ সেটার প্রতিবাদ করতে গেলে  তাকে নাকে-মুখে ঘুষি দিতে থাকেন। এ সময় আঘাতে সৌরভের নাক ফেটে যায়। পরে হলের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এলে আতিক ও সাইফুল সেখান থেকে পালিয়ে যায়।”

শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের ৫০০২ নম্বর রুমের আবাসিক শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “উনি আমার রুমে আমার গেস্ট হিসেবে ছিল। তিনি এইরকম অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটাবে তা আমার জানা ছিল না।”

কুবি শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, “এটা একটা অপ্রত্যাশিত ঘটনা যা খুবই দুঃখজনক। এটা সিনিয়র জুনিয়র দ্বন্দ্বের কারণে হয়েছে কিনা সেটা দেখতে হবে। এতে যেই অপরাধী হবে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

হলে ছাত্রদলের কর্মীদের সিটে ওঠা নিয়ে তিনি বলেন, “হলগুলো মূলত শিক্ষার্থীদের জন্য। জুনিয়ররা যেখানে থাকার কথা সেখানে থাকবে, সিনিয়ররা যেখানে থাকার কথা সেখানেই থাকবে। হলের নির্দিষ্ট যে নিয়ম আছে, সেই নিয়ম অনুযায়ীই সবকিছু চলবে। ছাত্রদলের অনেক শিক্ষার্থী হলের বাইরে থাকেন। আবার অনেক দরিদ্র ও অসহায় শিক্ষার্থী হলে থাকার চেষ্টা করেন। গত ১৮ মাসে শুধুই ছাত্রদল করার কারণে হলে অবস্থান করছে এমন কোনো নজির কেউ দেখাতে পারবে না এবং এ ধরনের কোনো ঘটনাও ঘটেনি।”

তবে আতিকুরের হলে থাকার বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে ছাত্রদল সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের প্রভোস্ট জনি আলম বলেন, “আজকে বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। ইতোমধ্যে হাউস টিউটরদের সাথে কথা বলেছি। এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সিট দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি দায়িত্ব নেওয়ার পরে এখনো কাউকে সিট দেওয়া হয়নি। এখন পর্যন্ত অনেকেই হলে সিট পাওয়ার বিষয় নিয়ে আমার সাথে যোগাযোগ করেছে। যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে আমরা তাদেরকেই হলে সিট দিবো, যাদের ছাত্রত্ব আছে। যাদের ছাত্রত্ব নেই তাদের হলে সিট পাওয়ার সুযোগ নেই।”

ঢাকা/এমদাদুল/জান্নাত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়