ঢাকা     রোববার   ০১ মার্চ ২০২৬ ||  ফাল্গুন ১৬ ১৪৩২ || ১২ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ইবিতে সিএমজে বিভাগে ক্লাস বর্জন, ৩ দফা দাবি

ইবি সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:২৬, ১ মার্চ ২০২৬  
ইবিতে সিএমজে বিভাগে ক্লাস বর্জন, ৩ দফা দাবি

অধ্যাপক তন্ময় সাহা জয়

ফলাফল ‘ভ্যানিশ’ করার হুমকি, অনুচিত প্রভাব বিস্তারসহ নানা অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের সহাকরী অধ্যাপক তন্ময় সাহা জয়ের ক্লাস বর্জন করেছেন ২০২০-২১ বর্ষের শিক্ষার্থীরা।

রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিভাগটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রাশিদুজ্জামানের কাছে ৩ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি জমা দেন তারা।

আরো পড়ুন:

শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে—স্নাতক চতুর্থ বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টার থেকে স্নাতকোত্তরের ফল প্রকাশ পর্যন্ত তন্ময় সাহা জয় যেন কোনো অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে (ক্লাস, পরীক্ষা, মৌখিক পরীক্ষা, খাতা মূল্যায়ন ও পুনর্মূল্যায়ন) সম্পৃক্ত না থাকেন। এছাড়া, শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক স্বার্থে আঘাত আসতে পারে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে বিভাগ যেন যথাযথ ব্যবস্থা নেয়। তার সভাপতিত্বকালীন সময়ে ব্যাচের কোনো একাডেমিক জটিলতা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়েও কর্তৃপক্ষের ভূমিকা রাখার দাবি জানানো হয়।

স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, তারা শিক্ষক তন্ময় সাহা জয়ের ক্লাস করতে অনিচ্ছুক এবং এ বিষয়ে বিভাগীয় সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তাদের সঙ্গে শিক্ষকের কোনো ব্যক্তিগত সমস্যা বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নেই বলেও দাবি করা হয়। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক তাদের ক্লাস নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন; সেই প্রেক্ষিতেই তারা ক্লাস বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন এবং পরবর্তী পরিস্থিতি বিবেচনায় সে সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। তাদের এ সিদ্ধান্ত শিক্ষকের ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে নয় বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে তন্ময় সাহা জয় শিক্ষার্থীদের ওপর আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা, ফলাফল ‘ভ্যানিশ’ করে দেওয়ার হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ইন্টারনাল মার্ক প্রদানে দ্বিচারিতা করে আসছেন। পাশাপাশি ক্লাসে অন্য শিক্ষকদের সমালোচনা, শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত বিষয়ে অযাচিত হস্তক্ষেপ এবং আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহারের অভিযোগও তোলা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানান, ফলাফল নিয়ে ‘কিভাবে বের হও এবং দেখে নেওয়া হবে’, এ ধরনের হুমকি দেওয়া হতো। সর্বশেষ নির্বাচনের পর তার একটি ক্লাস নির্ধারিত ছিল। অনেক শিক্ষার্থীর বাড়ি দূরে হওয়ায় ক্লাস বাতিলের অনুরোধ জানানো হলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। যদিও অন্যান্য শিক্ষক বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে উপস্থিত না হলে তিনি ক্লাস বর্জনের নোটিশ দেন এবং সবার উপস্থিতি বাতিলের হুমকি দেন। পরে শিক্ষার্থীরাও তার ক্লাস বর্জন করে স্মারকলিপি জমা দেন এবং জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে বিভাগীয় সভাপতিকে বিষয়টি অবহিত করেন।

অভিযোগ প্রসঙ্গে অধ্যাপক তন্ময় সাহা বলেন, “আগামী ৩ মার্চ একাডেমিক কমিটির সভায় বিষয়টি আলোচনা হবে। এর আগে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না।”

বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রাশিদুজ্জামান বলেন, লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ৩ মার্চ একাডেমিক সভা অনুষ্ঠিত হবে এবং সেখানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কোর্সটি অন্য এক শিক্ষককে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা অন্যান্য অভিযোগ লিখিতভাবে দিলে সেগুলোর ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঢাকা/তানিম/জান্নাত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়