ঢাকা     শুক্রবার   ০৮ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ২৫ ১৪৩৩ || ২০ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

যবিপ্রবির হলে মাঝপথে লিফটে যান্ত্রিক ত্রুটি, আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা

যবিপ্রবি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:০৫, ৮ মে ২০২৬   আপডেট: ১৭:০৫, ৮ মে ২০২৬
যবিপ্রবির হলে মাঝপথে লিফটে যান্ত্রিক ত্রুটি, আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) মুন্সী মেহেরুল্লাহ আবাসিক হলে চলন্ত লিফটে মাঝপথে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রায়  ১১ শিক্ষার্থী আটকে পড়ে। এ ঘটনার প্রায় ৩০ মিনিট পর তাদের উদ্ধার করা হয়। এতে আতঙ্কিত হলের শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের সময় এ ঘটনা ঘটে। এরপর ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী হল প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

আরো পড়ুন:

কয়েকজন শিক্ষার্থী লিফট ব্যবহার করে নিচে নামার সময় হঠাৎ লিফটটি মাঝপথে বিকল হয়ে যায়। তখন লিফটের ভেতরে মুন্সি মেহেরুল্লাহ হলের ১১ জন আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন। দীর্ঘ সময় বদ্ধ পরিবেশে আটকে থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গরম ও শ্বাসকষ্টের কারণে কয়েকজন অসুস্থও হয়ে পড়েন।

পরে আটকে পড়া শিক্ষার্থীরা ফোনে বিষয়টি লিফট অপারেটরকে জানালে তিনি এসে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন। তবে, শিক্ষার্থীদের বের করে আনতে ২০ মিনিটের বেশি সময় লাগে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নার্সিং অ্যান্ড হেলথ সায়েন্স বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাঈম হাসান বলেন, “মাগরিবের নামাজে যাওয়ার সময় আমরা ১১ জন লিফটে উঠে দীর্ঘ সময় আটকে ছিলাম। দ্রুত জানানো হলেও উদ্ধার করতে প্রায় আধ ঘণ্টার কাছাকাছি সময় লেগেছে। ভেতরে আতঙ্ক, গরম ও শ্বাসকষ্টে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়ে। এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়, এর আগেও একাধিকবার এমন হয়েছে। অথচ প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। আজ বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে এর দায় কে নিত? শিক্ষার্থীদের জীবন নিয়ে আর অবহেলা নয়, দ্রুত নিরাপদ ও স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।”

এ বিষয়ে মুন্সি মেহেরুল্লাহ হলের প্রভোস্ট আব্দুর রউফ সরকার বলেন, “লিখিত অভিযোগটি আমরা পেয়েছি। ঘটনাটি জানার সঙ্গে সঙ্গেই লিফট অপারেটরদের সঙ্গে যোগাযোগ করে শিক্ষার্থীদের উদ্ধারে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আপাতত তিন তলা পর্যন্ত লিফট ব্যবহার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি লিফট অপারেটরদের সার্বক্ষণিকভাবে হলে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরো বলেন, “বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ার শাফাওয়াতের সঙ্গেও কথা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের সমস্যা আরো কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। হলের লিফটে শিক্ষার্থী আটকা পড়ার ঘটনাকে আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।”

লিফটের যান্ত্রিক ত্রুটি বা বিকল হয়ে যাওয়ার বিষয়টি সরাসরি হল প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। এটি সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ারিং দপ্তরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। তবে হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক তদারকি করা হয়, যাতে লিফট অপারেটররা দায়িত্বশীলভাবে কাজ করেন বলেও তিনি জানান।

অন্যদিকে, লিফট সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ার সাফাওয়াত হোসেন বলেন, “লিফট পরিচালনার ক্ষেত্রে এ ধরনের সাময়িক জটিলতা খুবই সাধারণ বিষয়। এটি পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়।”

ঢাকা/এমদাদুল/জান্নাত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়