যান্ত্রিকতার ভিড়ে খুঁজে-ফিরি মায়ের আঁচল
ইলমা জাহান || রাইজিংবিডি.কম
ছোট্ট একটি শব্দ‘মা’, অথচ এর গভীরতা সমুদ্রের চেয়েও বিস্তৃত। এই একটি ডাকের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে আশ্রয়, শান্তি, নিরাপত্তা আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসার পুরো পৃথিবী। মায়ের কাছে ফিরে গেলে জীবনের সমস্ত ক্লান্তি যেন এক নিমিষেই মিলিয়ে যায়।
আমরা যারা পড়াশোনা কিংবা কাজের প্রয়োজনে আজ মায়ের কোল ছেড়ে যান্ত্রিক শহরের চার দেয়ালের মধ্যে জীবন গুছিয়ে নিতে শিখছি, তাদের প্রতিটি রাত যেন এক নিঃশব্দ হাহাকারে ভরা। বাড়িতে থাকতে হয়তো কখনো এক গ্লাস পানিও নিজে ঢেলে খেতে হয়নি। মা যেন অদৃশ্য কোনো জাদুতে সন্তানের সব প্রয়োজন বুঝে ফেলতেন। কিছু বলার আগেই প্রিয় খাবার সামনে এনে দিতেন, কিংবা কপালে হাত রেখে বলে উঠতেন, “শরীরটা ভালো নেই তো?”
আজ দূর শহরের মেস জীবনের একাকী ঘরে প্রতিটি মুহূর্তে টের পাই সেই মমতার অভাব। অসুস্থ হয়ে বিছানায় শুয়ে থাকলে সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে মায়ের সেই শীতল হাতের স্পর্শ। যে স্পর্শে ছিল অদ্ভুত এক প্রশান্তি; যেন পৃথিবীর সব ওষুধের চেয়েও বেশি কার্যকর।
মা এমন এক অদৃশ্য শক্তি, যার উপস্থিতিতে আমাদের জীবন পূর্ণতা পায়। আমরা হয়তো অনেকেই মুখে কোনোদিন বলতে পারিনি, “মা, তোমাকে অনেক ভালোবাসি।” কিন্তু দিনশেষে ক্লান্ত শরীর নিয়ে বালিশে মাথা রাখলে অজান্তেই চোখ ভিজে ওঠে। তখন মনে হয়, পৃথিবীর সব সাফল্য এক পাশে রাখলেও মায়ের হাতের এক লোকমা ভাতের কাছে সেগুলো কত তুচ্ছ!
একসময় যে শাসনগুলো বিরক্তির কারণ মনে হতো, আজ বুঝি সেগুলোই ছিল সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ। মা-হীন এই দূরের জীবন আমাদের প্রতিদিন শিখিয়ে দেয়, মা মানে শুধু একজন মানুষ নন; মা মানে এক টুকরো জান্নাত, এক নির্ভরতার ছায়া, যাকে দূরে থেকেও প্রতিটি নিঃশ্বাসে অনুভব করা যায়।
হয়তো জীবনের অনেক পথ পেরিয়ে আমরা বড় হয়ে যাই, কিন্তু মায়ের জন্য মনটা কখনো বড় হয় না। কোথাও না কোথাও আমরা ঠিকই সেই ছোট্ট শিশুটির মতো রয়ে যাই, যে শুধু মায়ের ডাক শুনে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়তে চায়।
লেখক: শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
ঢাকা/জান্নাত