রামিসা হত্যাকাণ্ড: ‘সেফটি কার্ড কোথায়’ প্রশ্ন জাবি-কুবি শিক্ষার্থীদের
ডেস্ক রিপোর্ট || রাইজিংবিডি.কম
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীরা। এ সময় দেশব্যাপী নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, বিচারহীনতা ও নিরাপত্তাহীনতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থা, জাবি শাখার উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। একই দিন বেলা ১১টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা।
জাবির মানববন্ধনে বক্তারা ধর্ষণ, নারী নির্যাতন ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় জাকসুর কার্যকরী সদস্য ফাবলিহা জাহান সরকারের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী প্রতিনিয়ত আমাদের নানা রকম কার্ডের সুবিধা দিচ্ছেন। আমরা তাকে প্রশ্ন করতে চাই, আমাদের জাস্টিস কার্ডটা কোথায়? আমাদের কি সেফটি কার্ড দেওয়া হবে? এতগুলো কার্ড যখন দিচ্ছেন, নিরাপত্তার এই কার্ডটাও দিয়ে দেন।”
তিনি আরো বলেন, “দেশে নিরাপদভাবে বেঁচে থাকা কোনো করুণার বিষয় নয়, এটি আমাদের অধিকার। নিরাপত্তা দেওয়ার নিশ্চয়তা সরকার দেবে কি না, সেটিই আজ বড় প্রশ্ন।”
বিচারহীনতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আমরা আসলেই ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছি। যখনই কোনো ধর্ষণ বা নির্যাতনের ঘটনা ঘটে, আমরা এখানে এসে দাঁড়াই, দাবি জানাই। কিন্তু বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি আমরা আর নিতে পারছি না। এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থা জাবি শাখার সভানেত্রী ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌসি বলেন, “শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা এবং বনশ্রীতে ১০ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা পুরো দেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, আজ এদেশের নারী ও শিশুরা নিরাপদ নয়।”
তিনি বলেন, “তনু হত্যা, পূজা হত্যা কিংবা অন্যান্য বহু ঘটনার বিচার বছরের পর বছর ঝুলে আছে। বিচারহীনতার কারণেই অপরাধীরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে এবং সাধারণ মানুষের বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা নষ্ট হচ্ছে।”
ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে। বহিরাগতদের অবাধ চলাচল ও দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের আতঙ্কিত করছে। নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। আমরা আর কোনো রামিসা, তনু বা পূজার লাশ দেখতে চাই না।”
অন্যদিকে, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘আমার সোনার বাংলায় ধর্ষকদের ঠাঁই নেই’, ‘বিচার চাই বিচার চাই, ধর্ষকের বিচার চাই’, ‘ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই, ধর্ষকের ফাঁসি চাই’, ‘ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, বিচারের জন্য কোন কার্ড?’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বিক্ষোভকারীরা শিশু রামিসা হত্যার প্রধান আসামি সোহেল রানার মৃত্যুদণ্ড এবং জড়িতদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, দেশে ধারাবাহিকভাবে নারী ও শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা ঘটলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হওয়ায় অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। বক্তারা ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত, বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দ্রুত বিচার কার্যকর এবং নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
কুবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়াকুত ফাতেমি বলেন, “বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার ওপর আমাদের আর আস্থা নেই। প্রশাসন যদি বিচার করতে না পারে, তাহলে জনগণ বিচার নিজের হাতে তুলে নিতে বাধ্য হবে। আমরা ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন কাজ করার সাহস না পায়।”
আইন বিভাগের শিক্ষার্থী বায়েজিদ বলেন, “এই ধরনের বর্বরোচিত ঘটনা বাংলাদেশে নতুন নয়।”
তিনি সরকারের ব্যর্থতার সমালোচনা করে বলেন, “দেশের সব ধর্ষণের ঘটনা নথিভুক্ত করা হলে কয়েকটি ‘এপস্টিন ফাইল’-এর মতো নথি তৈরি করা সম্ভব হবে।”
লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী হাসান অন্তর বলেন, “আমরা এমন এক দেশে বসবাস করছি, যেখানে হত্যা, গুম, খুন ও ধর্ষণের মতো ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। আমাদের বোনেরা ও সহপাঠী নারী শিক্ষার্থীরাও আজ কোথাও নিরাপদ নয়। এভাবে চলতে দেওয়া যায় না। আমরা সরকারের কাছে দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।”
[সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠানো তথ্য থেকে প্রতিবেদনটি করা হয়েছে]
ঢাকা/আহসান/এমদাদুল/জান্নাত
হাম ও এর উপসর্গে আরো ৭ জনের মৃত্যু