ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ আষাঢ় ১৪২৭, ০৯ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

ব্যাংক খাতে ঋণের সুদ পরিশোধে প্রয়োজন ৬৩ হাজার কোটি টাকা

কেএমএ হাসনাত : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৬-০১ ৮:০০:৪৩ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৬-০২ ১০:৩৫:২০ এএম

আগামী ২০২০-২০২১ অর্থবছরের বাজেটে শুধু সুদ পরিশোধের জন্য বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হচ্ছে ৬৩ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা।  যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ৫৮৫২ কোটি টাকা বেশি।  মূলত করোনাভাইরাসের কারণেই সরকারের অতিরিক্ত ঋণ নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।

বিগত কয়েক অর্থবছরের বাজেট দলিল থেকে দেখা যায়, ২০১৭-২০১৮ অর্থবছর এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৪২,৬৬৭ কোটি টাকা।  ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ৪৮,৭৪৫ কোটি টাকা।  ২০১৯-২০২০ অর্থবছর এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ৫৭,০৬৭ কোটি টাকা।

করোনাভাইরাসের কারণে চলতি অর্থবছর সরকারের অপ্রত্যাশিত ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন খাত থেকে ঋণ নিতে হয়েছে।  বিশেষ করে দেশের ব্যাংকিং খাত থেকে প্রচুর ঋণ নিতে হয়েছে।  স্বাভাবিকভাবে এসব ঋণের সুদ মেটাতে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হবে।  এ কারণে  ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে সুদ ব্যয় বাড়ানো হয়েছে।  চলতি অর্থবছর এ খাতে ব্যয় হবে ৫৭,৬৬৩ কোটি টাকা।  অর্থাৎ সংশোধিত বাজেটে ৫৯৬ কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে।

সম্প্রতি ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট এবং আসন্ন ২০২০-২০২১ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের বৈঠক হয়েছে।  বৈঠকে এসব বিষয় চূড়ান্ত হয়েছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

আগামী ১১ জুন বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে ২০২০-২০২১ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী।  এ বাজেটের আকার হতে পারে ৫,৬৮,০০০ কোটি টাকা।  এর মধ্যে সরকারের পরিচালন ব্যয়ের জন্য বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে ৩,৬২,৮৫৫ কোটি টাকা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুদের দায় পরিশোধ করতে গিয়ে সরকারকে দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য আরো বেশি তহবিল সংগ্রহে মনোযোগী হতে হবে।  যা সরকারের জন্য অতিরিক্ত চাপ হিসেবে দেখা দিবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থ বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, সরকার দেশের সঞ্চয়ীকরণের স্কিমটি সংস্কার করেছে।  এতে ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে সঞ্চয়পত্র ও বন্ডে বিনিয়োগ করতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।  সঞ্চয় স্কিমের বিভিন্ন টুলস বিক্রি কমে যাওয়ায়, ব্যাংকিং খাত  থেকে ঋণ নেওয়া ছাড়া সরকারের আর কোনও বিকল্প নেই।  এছাড়া চলমান লকডাউন ইতিমধ্যে অর্থনীতির ভিত্তিতে অনেক বড় ধাক্কা দিয়েছে, সরকারকে চলতি অর্থবছরে ইতিমধ্যে ৮০,০০০ কোটি টাকার ওপরে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ঋণ নিতে হয়েছে।

পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিচার্স সেন্টার (পিপিআরসি) এবং ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অফ গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি) এর যৌথভাবে পরিচালিত একটি সাম্প্রতিক জরিপের তথ্য অনুযায়ী মহামারি দেশের ২২.৯ শতাংশ মানুষকে দারিদ্র্যসীমার নিচে ফেলেছে।  বিদ্যমান দরিদ্র্যের হার ২০.৫ শতাংশ।

‘কোভিড -১৯ সংকট চলাকালীন জীবিকা নির্বাহ ও সহায়তা’  শিরোনামে ওই প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে, ‘স্বীকৃত দরিদ্র’ ও ‘নতুন দরিদ্র’ যা মোট জনসংখ্যার ৪৩ শতাংশেরও বেশি।  এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন হবে ১০০ বিলিয়ন ডলার।

সরকারের ভিশন ২০২১ এবং এর সাথে সম্পর্কিত প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০১০-২০১২ এর জন্য একাধিক উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ২০২১ সালের মধ্যে অর্জন করার কথা।  ভিশন ২০২১ এর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করার জন্য চিহ্নিত মূল লক্ষ্যগুলির মধ্যে একটি হলো ২০২১ সালের মধ্যে দারিদ্র্যের সংখ্যা ১৪ শতাংশে নামিয়ে আনা।  গত এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১০০,০০০ কোটি টাকার যে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন, এর মধ্যে রয়েছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা এবং কৃষি।

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, বেশিরভাগ প্রণোদনা প্যাকেজ এবং সম্প্রতি অনুমোদিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) লক্ষ্য হচ্ছে মহামারি চলাকালীন দারিদ্র্যের বিষয়টি সমাধান করা।

অর্থনীতিবিদ ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, করোনা চলাকালীন কীভাবে তহবিলের সমস্যা মোকাবিলা করা যায়, তা সরকারের পক্ষে একটি বড় আর্থিক ব্যবস্থাপনা চ্যালেঞ্জ।  করোনা সমস্যা না থাকলে ব্যাংক ঋণের সুদের অর্থের জন্য বরাদ্দ তুলনামূলকভাবে কম হত, সরকার তহবিলকে দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য ব্যবহার করতে পারত।  সুতরাং সরকারকে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে স্বল্প সুদে ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করতে হবে।


হাসনাত/সাইফ