ঢাকা     বুধবার   ০৫ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২১ ১৪২৭ ||  ১৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

অনিয়মের অভিযোগে বায়রা ইন্স্যুরেন্সে প্রশাসক নিয়োগ

কেএমএ হাসনাত || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:১২, ১৩ জুলাই ২০২০  

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) মালিকানাধীন ‘বায়রা লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড’ এর পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে সম্প্রতি সেখানে একজন প্রশাসক নিয়োগ করেছে সরকার।

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) সূত্রে জানা গেছে, ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে বেসরকারি খাতের বীমা কোম্পানি ‘বায়রা লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড’ এর পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে সেখানে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সুপারিশে ইন্সুরেন্স কোম্পানিটির প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাবেক যুগ্ম সচিব হুমায়ুন কবির। গত ৫ জুলাই তিনি ওই পদে যোগ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠানো আইডিআরএর পরিচালক (উপ-সচিব) মো. শাহ আলম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘কোম্পানির পলিসি হোল্ডারদের স্বার্থে ও বীমা শিল্পের বৃহত্তর কল্যাণে বীমা আইন-২০১০ এর ৯৫ ধারা অনুযায়ী বায়রা ইন্সুরেন্স কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করা হলো। একই সঙ্গে  বীমা আইনের ৯৫ ধারা অনুযায়ী অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সুপারিশে বাংলাদেশ সরকারের ভূতপূর্ব যুগ্ম সচিব  হুমায়ুন কবিরকে প্রশাসক নিয়োগ করা হলো। এক্ষেত্রে বায়রা লাইফ ইন্সুরেন্সের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ এ আদেশ জারির তারিখ থেকে কোম্পানির প্রশাসকের চাহিদা ছাড়া কোনো কর্মকাণ্ডেই অংশ নিতে পারবেন না। পরিচালনা পর্ষদ কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে তা আইনের দৃষ্টিতে বাতিল বলে গণ্য হবে। ’

এর আগে ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর বীমা দাবি পরিশোধ না করাসহ ১২টি অভিযোগে বায়রা লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানির নতুন পলিসি ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধের নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোম্পানিটি আর কোনো পলিসি ইস্যু করতে পারবে না বলে উল্লেখ করা হয়।

জানা গেছে, বীমা আইনের বিভিন্ন ধারা ও কর্তৃপক্ষের বিধি-নিষেধ লঙ্ঘন অব্যাহত থাকায় এবং তা ব্যাপক আকার ধারণ করায় ২০১৯ সালের ২১ মে বায়রা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে কেন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হবে না ও বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের কার্যক্রম কেন সাময়িক স্থগিত করা হবে না, এ মর্মে বীমা কোম্পানিটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় আইডিআরএ ।

ওই নোটিশে বায়রা লাইফের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ৮টি অভিযোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়। নোটিশের জবাবে বীমা কোম্পানিটি কর্তৃপক্ষের সব অভিযোগ স্বীকার করে। তবে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার বিষয়ে বীমা কোম্পানিটির বক্তব্য কর্তৃপক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বায়রা লাইফের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের মধ্যে রয়েছে—বীমা আইন অনুসারে বছর বছর কোম্পানির একচ্যুয়ারিয়াল ভ্যালুয়েশন না করানো, দায় মূল্যায়ন প্রতিবেদন দাখিল না করা, কর্তৃপক্ষের চাহিদার অনুযায়ী তথ্য সরবরাহ না করা, বছরের পর বছর অনুমোদিত সীমার অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়, বীমা দাবি পরিশোধ না করা এবং দীর্ঘ সময় ঝুলিয়ে রাখা। 

এছাড়া, আইন লঙ্ঘন করে কোম্পানির চারজন উপদেষ্টা কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করা, দীর্ঘ সময় মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ না দিয়ে পদটি শূন্য রাখা, আইন লঙ্ঘনের কারণে জরিমানা করা হলে তা পরিশোধ না করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ আছে বায়রা লাইফ ইন্সুরেন্সের বিরুদ্ধে।



ঢাকা/হাসনাত/রফিক

রাইজিংবিডি.কম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়