Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     মঙ্গলবার   ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||  আশ্বিন ৬ ১৪২৮ ||  ১২ সফর ১৪৪৩

অবলোপনকৃত ঋণ আদায়ের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ ব্যাংক

কেএমএ হাসনাত || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:৪৬, ২৫ জুলাই ২০২১   আপডেট: ১৭:৪৮, ২৫ জুলাই ২০২১
অবলোপনকৃত ঋণ আদায়ের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ ব্যাংক

অবলোপনকৃত ঋণের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেওয়া হলেও লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী অবলোপনকৃত ঋণের স্থিতি কমিয়ে আনতে পারছে না রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংক। এছাড়া, তারা অবলোপনকৃত ঋণও আদায় করতে পারছে না। লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে অবলোপনকৃত ঋণর আদায়ের হার ৬৪ শতাংশ। গত ২০২০-২০২১ অর্থবছরের জুন মাস শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের অবলোপনকৃত মন্দ ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৪২৫ কোটি ১৮ লাখ টাকা।

সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সঙ্গে সম্পাদিত বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তির (এপিএ) লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, গত জুন শেষে ব্যাংকগুলোর অবলোপনকৃত ঋণের স্থিতির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৭ হাজার ২৬৩ কোটি টাকা। চুক্তির লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী অবলোপনকৃত ঋণের স্থিতি কমিয়ে আনতে পারেনি ব্যাংকগুলো। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় স্থিতির পরিমাণ ১৬২ কোটি ১৮ লাখ টাকা বেশি। তবে, লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে না পারলেও গত ছয় মাসে ব্যাংকগুলোর অবলোপনকৃত ঋণের স্থিতি ৬২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা কমেছে।

গত বছর ডিসেম্বর শেষে ছয় ব্যাংকের অবলোপনকৃত ঋণের স্থিতি ছিল ১৭ হাজার ৪৮৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। জানা গেছে, এপিএ চুক্তি অনুযায়ী, সমাপ্ত অর্থবছরে অবলোপনকৃত ঋণ থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২০৫ কোটি টাকা। এর বিপরীতে ব্যাংকগুলো আদায় করেছে ১৩২ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এটি লক্ষ্যমাত্রার ৬৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ও বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, একমাত্র বিডিবিএল ছাড়া অপর পাঁচটি ব্যাংকে অবলোপনকৃত ঋণের স্থিতি লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বেশি। অবলোপনকৃত ঋণের স্থিতি সবচেয়ে বেশি সোনালী ব্যাংকে। এরপর দ্বিতীয় অগ্রণী ব্যাংক ও তৃতীয় অবস্থানে আছে জনতা ব্যাংক। অন্যদিকে, অবলোপনকৃত ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে একমাত্র জনতা ব্যাংক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পেরেছে। আদায়ে সবচেয়ে পিছিয়ে আছে বেসিক ব্যাংক।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এপিএ’র আওতায় ২০২০-২০২১ অর্থবছর শেষে সোনালী ব্যাংকের অবলোপনকৃত ঋণের স্থিতির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ হাজার ৯২০ কোটি টাকা। এর বিপরীতে গত জুন শেষে সোনালীর অবলোপনকৃত ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৯৬৫ কোটি টাকা। অন্যদিকে, এপিএ’র আওতায় গত অর্থবছরের অবলোপনকৃত ঋণ থেকে ব্যাংকটির আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫০ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায়ের পরিমাণ হচ্ছে ৩৯ কোটি টাকা।

চুক্তির আওতায় জনতা ব্যাংকের অবলোপনকৃত ঋণের স্থিতির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এর বিপরীতে ব্যাংকটির অবলোপনকৃত ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫০১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। অন্যদিকে, অবলোপনকৃত ঋণ থেকে জনতার আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪০ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায়ের পরিমাণ হচ্ছে ৪২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।

অগ্রণী ব্যাংকের অবলোপনকৃত ঋণের স্থিতির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা। এর বিপরীতে ব্যাংকটির অবলোপনকৃত ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। অন্যদিকে, অবলোপনকৃত ঋণ থেকে অগ্রণীর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮০ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায়ের পরিমাণ হচ্ছে ৪০ কোটি টাকা।

বিডিবিএলের অবলোপনকৃত ঋণের স্থিতির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা। এর বিপরীতে ব্যাংকটির অবলোপনকৃত ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৪৬ কোটি ১৬ লাখ টাকা। অন্যদিকে, অবলোপনকৃত ঋণ থেকে বিডিবিএলের আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায়ের পরিমাণ হচ্ছে ৫ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।

রূপালী ব্যাংকের অবলোপনকৃত ঋণের স্থিতির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫০০ কোটি টাকা। এর বিপরীতে ব্যাংকটির ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৫৯৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। অন্যদিকে, অবলোপনকৃত ঋণ থেকে রূপালীর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৫ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায়ের পরিমাণ হচ্ছে ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

চুক্তির আওতায় বেসিক ব্যাংকের অবলোপনকৃত ঋণের স্থিতির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৩৭ কোটি টাকা। এর বিপরীতে ব্যাংকটির অবলোপনকৃত ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৪৪৫ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। অন্যদিকে, অবলোপনকৃত ঋণ থেকে বেসিকের আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায়ের পরিমাণ হচ্ছে ৮০ লাখ টাকা।

এ বিষয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, নানা কারণে ব্যাংকগুলো অবলোপনকৃত ঋণের অর্থ আদায় করতে পারছে না। তবে, আগামী সেপ্টেম্বর মাসে এপিএ চুক্তি পর্যালোচনা করে দেখা হবে ব্যাংকগুলো বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারছে কি না। তার পরেই এ বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ঢাকা/হাসনাত/রফিক

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়