ঢাকা     শনিবার   ০২ জুলাই ২০২২ ||  আষাঢ় ১৮ ১৪২৯ ||  ০২ জিলহজ ১৪৪৩

আমদানী বিকল্প ফসলে ভর্তুকি সুবিধায় ঋণ বিতরণের তাগিদ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২৩:৪৪, ২২ মে ২০২২  
আমদানী বিকল্প ফসলে ভর্তুকি সুবিধায় ঋণ বিতরণের তাগিদ

আমদানী বিকল্প ফসল ডাল, তেলবীজ, মসলা জাতীয় ফসল ও ভুট্টা চাষে ভর্তুকি সুবিধার আওতায় ৪ শতাংশ রেয়াতী সুদ হারে কৃষি ঋণ বিতরণ কার্যক্রম জোরদারের ব্যাংকগুলোকে তাগিদ দিয়ে একটি নির্দেশনা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

রোববার (২২ মে) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিভাগ  থেকে জারি করা নির্দেশনা দেশে কার্যরত সকল তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীর নিকট পাঠানো হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ডাল, তেলবীজ, মসলা জাতীয় ফসল ও ভুট্টা আমদানীর জন্য প্রতি অর্থবছর প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন হয় এবং সঠিক সময়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে পণ্য আমদানী করা অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব হয় না। এক্ষেত্রে আমদানী ব্যয় হ্রাস এবং সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ বাড়াতে ২০০৬ সাল হতে আমদানী বিকল্প ফসলসমূহ (ডাল, তেলবীজ, মসলা জাতীয় ফসল ও ভুট্টা) চাষের জন্য ব্যাংকসমূহকে সরকারের সুদ ক্ষতিপূরণ সুবিধার আওতায় স্বল্প সুদে ঋণ বিতরণের নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

এছাড়া ২০১১-১২ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ডাল, তেলবীজ, মসলা জাতীয় ফসল ও ভুট্টা চাষের জন্য প্রদত্ত কৃষি ঋণের উপর কৃষক পর্যায়ে সুদহার ৪ শতাংশে  পুনঃনির্ধারণ করা হয়। এ খাতে ঋণ বিতরণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে প্রকৃত সুদ-ক্ষতি হারে (কৃষি ঋণের সুদ হার ৮ শতাংশ হওয়ায় প্রকৃত সুদ-ক্ষতি হার বর্তমানে ৪ শতাংশ) ভর্তুকি সুবিধা প্রদান করা হয়।

রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকের পাশাপাশি বেসরকারী ব্যাংকগুলো তাদের বার্ষিক কৃষি বা পল্লী ঋণ লক্ষ্যমাত্রার আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে সরকারের ৪ শতাংশ হারে সুদ ক্ষতিপূরণ সুবিধার আওতায় ডাল, তেলবীজ ও মসলা জাতীয় ফসল ও ভুট্টা চাষের জন্য ঋণ বিতরণ করছে। সে ক্ষেত্রে সুদ ক্ষতি বাবদ ৪ শতাংশ হিসাবে নেয়ার পরও কোনো ব্যাংকের কিছুটা সুদ ক্ষতি হলে উক্ত অংশটি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কর্পোরেট সোস্যাল রেসপন্সিবিলিটি (সিএসআর)-এর আওতায় গণ্য করা হবে।

কোভিড-১৯ এর প্রভাব এবং সাম্প্রতিককালে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন পণ্যের মূল্য এবং পরিবহন ব্যয় বাড়ায় এদের আমদানী মূল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে। সাম্প্রতিক কালে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য বিশেষ করে ভোজ্যতেলের সরবরাহে ঘাটতি তৈরী হয়েছে এবং পণ্য মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের বাজারে আমদানী নির্ভরশীল ভোজ্যতেলের সরবরাহ ভবিষ্যতে স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে এসকল ভোজ্যতেল উৎপনকারী ফসলসমূহের চাষাবাদের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানো অত্যন্ত প্রয়োজন।

তাই আমদানী বিকল্প ফসলসমূহের (ডাল, তেলবীজ, মসলা জাতীয় ফসল ও ভুট্টা) চাষাবাদ বৃদ্ধির জন্য সরকারের সুদ ক্ষতিপূরণ সুবিধার আওতায় ডাল জাতীয় ফসল - মুগ, মশুর, খেসারী, ছোলা, মটর, মাষকলাই, অড়হর ও তেলবীজ জাতীয় ফসল- সরিষা, তিল, তিসি, চীনাবাদাম, সূর্যমুখী, সয়াবিন ইত্যাদি, মসলা জাতীয় ফসল- আদা, রসুন, পেঁয়াজ, মরিচ, হলুদ, জিরা ইত্যাদি এবং ভুট্টার ক্ষেত্রে কৃষক পর্যায়ে ৪ শতাংশ সুদ হারে ঋণ প্রদানের নিদের্শনা রয়েছে।

এসব ফসল চাষের জন্য রেয়াতি সুদে ঋণ বিতরণ ও আদায়ের ক্ষেত্রে- একর প্রতি উৎপাদন খরচের ভিত্তিতে ঋণের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন পরিমাণ, ঋণ বিতরণের মৌসুম ইত্যাদি নির্ধারণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রতি অর্থবছরের শুরুতে জারীকৃত কৃষি/পল্লী ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচীতে উল্লিখিত ঋণ নিয়মাচার প্রযোজ্য হবে।

এসব ফসল চাষের উদ্দেশ্যে প্রকৃত ঋণ চাহিদা অনুযায়ী রেয়াতি সুদ হারে ঋণ বিতরণের বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে ব্যাংকসমূহ বছরের শুরুতেই সংশ্লিষ্ট শাখাসমূহকে যথাযথ নির্দেশ জারী করবে এবং লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ঋণ বিতরণ নিশ্চিত করার জন্য শাখাসমূহের ঋণ বিতরণ অগ্রগতির তদারকী ও মনিটরিং ব্যবস্থা প্রবর্তন করবে।

কৃষি ঋণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক জারীকৃত বর্তমানে অনুসৃত অন্যান্য নীতিমালা যেমন কৃষক প্রতি ঋণের সর্বোচ্চ সীমা, জামানত, আবেদনপত্র গ্রহণ ও প্রক্রিয়াকরণের সময়কাল, ঋণ গ্রহীতার যোগ্যতা নিরূপণ, পাস বইয়ের ব্যবহার, ঋণ বিতরণ, ঋণের সদ্ব্যবহার, তদারকী ও আদায় ইত্যাদি এ সমস্ত ফসলের ক্ষেত্রেও যথারীতি অনুসৃত হবে।

ব্যাংক শাখার বাইরে সহজে দৃষ্টিগোচর হয় এমন স্থানে আবশ্যিকভাবে ‘এই শাখায় আমদানী বিকল্প ফসল (নির্দিষ্ট ফসলের নাম উল্লেখপূর্বক) চাষাবাদে ৪ শতাংশ সুদ হারে ঋণ বিতরণ করা হয়’ লেখা ও প্রয়োজনীয় তথ্যসহ ব্যানার স্থাপন করতে হবে। কৃষকদেরকে ঋণ গ্রহণে উৎসাহিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট ফসল চাষের মৌসুম শুরু হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট শাখার মাধ্যমে বিশেষ ক্যাম্পেইন পরিচালনা করতে হবে। এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

ঢাকা/এনএফ/নাসিম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়